নাটোরের লালপুরে দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের ঘটনা বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গরিব, দিনমজুর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাগ্রহীতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট অব্যাহত থাকলে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দেখা দিতে শুরু করে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো সামগ্রী মজুত নেই। ফলে উপজেলায় পরিবার কল্যাণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলায় কর্মরত পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) হাবিবা খাতুন মানবজমিনকে বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অভাবে তার কর্ম এলাকায় ৪৫ বছরের বেশি বয়সী একাধিক নারীর অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাদের কেউ কেউ গর্ভপাত করাতে বাধ্য হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উধনপাড়া গ্রামের ৪৪ বছর বয়সী এক নারী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন গ্রহণ করতেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ইনজেকশন না পাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভধারণ করেন। পরে গর্ভপাত করালেও তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তপন কুমার রায় মানবজমিনকে বলেন, দেশের গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং জন্মনিরোধক সামগ্রীর ক্ষেত্রে সরকারি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন এ ধরনের সেবা ও সামগ্রীর ঘাটতি থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, গর্ভপাত এবং জন্মহার বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএফপিও) মো. রায়হানুল হক মানবজমিনকে বলেন, মাঠ পর্যায়ে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি অস্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে নিরাপদ কনডম, মুখে খাওয়ার বড়ি ও ইনজেকশন ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি হিসেবে ইমপ্লান্ট ও কপার-টি (আইইউডি) বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে নারী ও পুরুষ বন্ধ্যাকরণ বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব সামগ্রীর সরবরাহ না থাকায় মাঠকর্মীরা বর্তমানে কেবল পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
