বাহুবলের কাজীহাটা গ্রামে নাজমা হত্যা রহস্যের জট সাড়ে ৭ মাসেও খোলেনি। আড়ালে থেকেই মূল অপরাধীরা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে মামলার বাদী কলেজছাত্রী নার্গিস আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার দুপুরে বাদী ও তার পিতার ওপর হামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল বাদীর পিতা জসিম আলী বাহুবল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২০২৫ সনের ২০শে অক্টোবর মধ্যরাতে উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের জসিম আলীর স্ত্রী নাজমা আক্তারের লাশ পাওয়া যায় গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাঁশ ঝাড়ের নিচে।
এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় সন্ধেহভাজন ১০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জানা যায়, বাহুবল উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের জসিম আলী দুই স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাদের বাড়িতে রেখে প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। জসিম আলী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তারই আপন ভাই তোরাব আলীর বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে তোরাব আলী ও তার লোকজন প্রায়ই জসিম আলীর স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ই অক্টোবর তোরাব আলী ও তার লোকজন জসিম আলীর দুই স্ত্রীকে মারধর করে।
এতে আহত হয়ে জসিম আলীর স্ত্রী ছিতারা বেগম ও নাজমা বেগম বাহুবল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং বাহুবল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
এ ঘটনার দু’দিন পর অর্থাৎ ২০শে অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জসিম আলীর ২য় স্ত্রী নাজমা আক্তার (৪০) নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজির পর রাত পৌনে ১২টার দিকে কাজীহাটা গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাঁশঝাড়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তার হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, মুখে স্কচটেপ লাগানো এবং গলায় ধরালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে চলে আসেন নিহতের স্বামী জসিম আলী।
তিনি আসার পর ২৫শে অক্টোরব নিহতের একমাত্র কন্যা কলেজছাত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের দেবর তোরাব আলীসহ সন্ধিগ্ধ ১০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় হবিগঞ্জ পিবিআইকে।
মামলার বাদী নার্গিস আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হবিগঞ্জ পিবিআই’র ইন্সপেক্টর রাজীব কুমার দাশ তদন্তের নামে প্রায় ৭ মাস সময় কাটিয়েছেন। এ সময়কালে তিনি মামলা রহস্যের জট খোলার কোনো চেষ্টাই করেননি। প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি বাদীর মামা আব্দুল গনিকে ‘জজ মিয়া’ বানিয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লিপ্ত হন।
এ প্রেক্ষিতে মামলার বাদী নার্গিস আক্তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এবং বিগত ৮ই মে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। এ প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে হবিগঞ্জ পিবিআই’র সাব-ইন্সপেক্টর সালাহউদ্দিন মিফতাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বাদী নার্গিস আক্তারের পিতা জসিম আলী জানান, গত শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় আড়ালে থাকা আসল খুনিরা ভাড়াটে লোক দিয়ে আমি ও আমার মেয়ে নার্গিস আক্তারের ওপর হামলা চালায়।
লোকজন এ সময় আমাদের রক্ষা করলেও হামলাকারীরা প্রকাশ্য আমাদের খুন করার হুমকি দিয়েছে। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যগণ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছি। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতারা ধরা না পড়ায় আড়ালে থেকে তারা ভাড়াটে লোক দিয়ে আমাদের চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিচ্ছে।
