সুনামগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

সুনামগঞ্জে সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জে ৫৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট টাঙ্গুয়া হাওর, নিলাদ্রী লেক, বারেক টিলা, শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী, শাহ আরেফিন (র.)-এর আস্তানা ও অদ্বৈত মন্দিরে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ভাঙাচোরা সড়ক ও চলমান নির্মাণকাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার দুই বছর আগে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার প্রকল্প শুরু করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এখনো কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, অব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ দুর্ভোগের কারণে দিন দিন পর্যটকরা এসব স্পটে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

গত ঈদের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রনি কুমার সরকার জানান, তাদের বহনকারী দুটি বাস শহরের নতুন বাসস্টেশন এলাকায় থামিয়ে দেয়া হয়। পরে লেগুনায় করে গন্তব্যে যেতে হয়। তিনি বলেন, অদ্বৈত বাড়ি বা শাহ আরেফিন (র.)-এর আস্তানায় যেতে প্রায় ৯ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়েছে। ১ হাজার ২০০ টাকার ভাড়া গুনতে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

রাজশাহী থেকে ৫৫ জনের একটি দল নিয়ে আসা সুফল দাসও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান। সাবেক তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, গত চৈত্র মাসে গঙ্গাস্নান ও শাহ আরেফিন (র.)-এর ওরস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক বিকল্প সড়ক চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। দরপত্রেও বিকল্প সড়কের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার দায়সারা কাজ করেছে। এখন সেই বিকল্প সড়কের কোনো অস্তিত্ব নেই। মোদেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান সদ্দার বলেন, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-বড়ছড়া-বাগলী-মধ্যনগর সড়কের যাদুকাটা সেতুর গার্ডার দুই দফা ধসে পড়েছে। এ ছাড়া চরগাঁও এলাকায় দুটি সেতু ও একটি কালভার্টের কাজ এমনভাবে ফেলে রাখা হয়েছে যে, মানুষ পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না।

বীরেন্দনগর গ্রামের জুয়েল মিয়া বলেন, ট্যাকেরঘাট, লালঘাট, বাঁশতলা, চারাগাঁও, কলাগাঁও, লামাকাটা ও বাগলী থেকে মহেশখলা পর্যন্ত সীমান্ত সড়কের রাস্তাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, একটু বৃষ্টি হলেই আর যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। তবুও বিকল্প আর রাস্তা না থাকায় এই কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তায় দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সীমান্তের মানুষসহ পর্যটকরা চলাচল করে থাকেন। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ঠিকাদার ও এলজিইডি কেউই মানুষের কষ্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীদের দুর্ভোগ দেখে আমারও লজ্জা লেগেছে। তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে শুরু হওয়া ৫৬ কোটি টাকার এই উন্নয়ন কাজের অর্ধেকও এখনো শেষ হয়নি। সুনামগঞ্জের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়।

এখানে দুটি সেতু ও ১৪টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজধানীর হামিম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, সড়কের পাশে থাকা গাছ কাটতে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়তে পারে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন