বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া বাজার, আলীকদম উপজেলার রেফারপাড়া বাজার এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী বাজারে আধুনিক মানের তিনটি দ্বিতল বাজার ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এসব বাজার ভবন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আধুনিক নকশায় নির্মিত প্রতিটি দ্বিতল বাজার ভবনে ব্যবসায়ীদের জন্য সুপরিকল্পিত দোকান ঘর, ক্রেতাদের সুবিধাজনক চলাচলের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন নিজ নিজ পাড়া-মহল্লা থেকে উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে এসব বাজারে বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের পাশাপাশি পাহাড়ি নারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় খুব শিগগিরই বাজার ভবনগুলো পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
লামা (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে এসব বাজার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়েছে। বাজারগুলো চালু হলে স্থানীয় নারী-পুরুষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এসব আধুনিক বাজার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। নতুন বাজার ভবনগুলো চালু হলে নারী-পুরুষ উদ্যোক্তারা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারগুলো পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। গজালিয়া এলাকার পাহাড়ি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, আগে খোলা জায়গায় কষ্ট করে পণ্য বিক্রি করতে হতো। বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এখন আধুনিক বাজার ভবন হওয়ায় আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবো। স্থানীয়দের মতে, এলজিইডি’র এ উদ্যোগ শুধু বাজার অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পাহাড়ি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
