ওসমান হাদি হত্যা মামলা: তদন্তে মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি

সহযোগীদের খবর

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: তদন্তে মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

‘ওসমান হাদি হত্যা মামলা: তদন্তে মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি বলেছে, তদন্তের স্বার্থে মমতার বক্তব্যসহ সব তথ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অবশ্য সরকার ওই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে দেখেছে। আর বিরোধী দল একে অভিহিত করেছে ‘ভারতের রাজনৈতিক খেলা’ হিসেবে। এদিকে এই মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নাম দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাদির বোন মাসুমা হাদি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইনকিলাব মঞ্চ ঘটনার সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর সেই অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংগঠনটি ওই মন্তব্যের পর এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিত করা, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নতুন করে কর্মসূচি পালন করছে। এসব দাবিতে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল এলাকায় গত মঙ্গলবার এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) তাঁকে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মমতার ওই বক্তব্যের ভিডিও প্রচারিত হয়। সেখানে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা ঢুকেছিল। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারপর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে বলেন, বিষয়টি যেন বাইরে না যায়। কারণ, এটা দেশের ব্যাপার। কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কারা জড়িত ছিল, সব আমি জানি। আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি।’ তিনি বলেন, ‘আমি সেই নাম বলতে চাই না। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। দেশের স্বার্থে সেই নাম প্রকাশ করব না।’

চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে নদীয়ার শান্তিপুর থেকে এ মামলার আরেক আসামি ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিলিপের বিরুদ্ধে মামলার প্রধান দুই আসামিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আলী আকবর খান গত বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সব পক্ষের বক্তব্য, সম্ভাব্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই-বাছাই করবেন। ইউনিটপ্রধান ও তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সব তথ্য ও বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেখান থেকেই কোনো তথ্য বা বক্তব্য পাওয়া যাক না কেন, সবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।’

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এই মামলার প্রধান আসামিসহ তিন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলী আকবর খান বলেন, সিআইডির পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। এখন তাঁরা সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে মমতার ওই বক্তব্যের পরদিন বুধবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ও হাদি হত্যা মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার মমতার বক্তব্যকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছে। এ বিষয়ে করা প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পাশের দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। সেখানে পরাজয়ের পর তিনি (মমতা) তাদের সরকারের উদ্দেশে কিছু কথা বলেছেন। সেটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’ হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে।’

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি দেখছে ভারতের রাজনৈতিক খেলা হিসেবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং আধিপত্যবাদী চিন্তা থেকে এ দেশের সরকারের ওঠা-নামার রাজনীতিতে ভারত যে খেলা খেলে বলে বলা হয়, সেই খেলাতেই তারা মেতে উঠেছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তবে অভিযোগপত্রের বিষয়ে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবেরের করা নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে আদালত ১৫ জানুয়ারি মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

এর পর থেকে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। এ মামলার আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ভারতে তিনজন এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। দেশে গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে এ মামলায় রুবেলকে কেরানীগঞ্জ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিক্রেতা মাজেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন শরিফ ওসমান হাদি। ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

এদিকে ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি গতকাল নিজের ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টে ওই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ওসমান হাদি হত্যার পর থেকে তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু ভাইয়ের স্বার্থে তিনি এত দিন সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে দুই দিন ধরে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়েই বিষয়টি স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের স্মৃতিচারণা করে তাঁর বোন লেখেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং পুরো সময় ভাইয়ের পাশেই ছিলেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি একমুহূর্তের জন্যও সেখান থেকে সরেননি। এ অবস্থায় প্রশাসনের লোকজন হাসপাতালে এসে কেন আবদুল্লাহ আল জাবেরের (ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব) কাছ থেকে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নিলেন এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকেই বাদী করা হলো?

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বিদ্যুৎ খাতে অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর’। খবরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে সবচেয়ে সমালোচিত বিষয় ছিল বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ। উৎপাদনে না থাকলেও কেন্দ্র মালিককে এ অর্থ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি তথা সামগ্রিক অর্থনীতির সর্বনাশা বীজ লুকিয়ে আছে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি পেমেন্টে। এই চার্জ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

২০১১-১২ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৪৫ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। মাত্র এক বছরে বেড়েছে ২৪ শতাংশ। এই ১৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জে রাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকায় পৌঁছাবে।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়মুক্তির আইনে করা সব অসম বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি এই চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ক্যাপাসিটি চার্জকে চিহ্নিত করা হয়।

তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিকে পরিশোধ করা বিলের সবচেয়ে প্রধান অংশ এখন ক্যাপাসিটি চার্জ। সাধারণত ১২ বছরের মধ্যে প্রকল্পের ঋণের টাকা শোধ হয়ে যায়, কিন্তু চুক্তির কারণে ১৩ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত উচ্চ হারে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বাড়তি চাহিদা

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে চাহিদার চেয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। যদিও এটি মাত্র এক দিনের উৎপাদন। গড় উৎপাদন ১৪-১৫ হাজার মেগাওয়াট। তার পরও ১৭ হাজার মেগাওয়াটকে হিসাবে ধরলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। আর গড় উৎপাদন ধরলে বলা যায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্রই বসে থাকে। যদিও রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের বিবেচনায় চাহিদার চেয়ে উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা বেশি থাকতে হয়। একে রিজার্ভ মার্জিন বলে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে রিজার্ভ মার্জিন হিসেবে চাহিদার ২০ শতাংশ বেশি থাকা উচিত। সে অনুযায়ী উৎপাদন সক্ষমতা ১৯-২০ হাজার মেগাওয়াট হলেই যথেষ্ট। পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, রিজার্ভ মার্জিন ২০ শতাংশের আশপাশে থাকা ভালো। এর বেশি হলে ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি দিতে হবে। আর কম হলে লোডশেডিং হবে।

ক্যাপাসিটি চার্জ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ছয় হাজার ২৭ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছয় হাজার ৪৬১ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাত হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়ায় ৯ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, পরের অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ১২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ হাজার ১১৪ কোটি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৭ হাজার ২৩৮ কোটি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে আবার বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই বছরে ব্যয় দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে হয় ৩৬ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি পৌঁছায় ৪৫ হাজার ৪৫১ কোটি টাকায়। এই ১৪ অর্থবছরে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে হতে পারে ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের কারণে সরকার এরই মধ্যে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করেছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তারা এখন মূলত ব্যবহৃত বিদ্যুতের বদলে অলস বা অচল সক্ষমতার খরচ বহন করছেন। খাতসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আমদানি ও ক্রয় খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ আগামী বছরগুলোতেও উচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

মুনাফা লুটেছেন ব্যবসায়ীরা

আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে ডজনখানেক কোম্পানি ফুলেফেঁপে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। অভিযোগ আছে, তাঁর অফিস থেকেই তাঁর নির্দেশনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দেওয়া হতো পছন্দের কোম্পানিকে। বিশেষ আইনের সুযোগ নিয়ে দরপত্র ছাড়াই সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি সই হতো, প্রয়োজন না থাকলেও বাড়ানো হতো মেয়াদ।

এমন সুবিধা পাওয়া কেন্দ্রগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল। তাদের ঘোড়াশাল ১৪৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ২০১০ অর্থবছরের আগস্টে উৎপাদনে আসে। কেন্দ্রটির জন্য এগ্রিকোর বিনিয়োগ ছিল ৫৬০ কোটি টাকা। তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালানো হয়। এই আট বছরে কেন্দ্রটি শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগের প্রায় সাড়ে চার গুণ। এভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনেও এমন চিত্র উঠে এসেছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়ে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলার নয়ছয় হয়েছে। বিনা দরপত্রে চুক্তি করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকবার চুক্তি নবায়নের সময়ও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমলা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠতা ব্যবসায়ীদের সুবিধাজনক (বাড়তি) দর, শর্ত ইত্যাদি আদায়ের সুযোগ করে দিত। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়।

সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার হয়নি

পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে। যদিও এ সময় বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার হয়নি। কিছু কিছু কেন্দ্র বছরে সক্ষমতার ২-৩ শতাংশ উৎপাদন করেছে। তবে কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হবে, এমন শর্তেই চুক্তির সময় ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রথম আলো

‘সৃজনশীল অর্থনীতিতে জোর, বরাদ্দ হবে ৩০০ কোটি টাকা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং এর রূপরেখাও তুলে ধরবেন।

সাধারণভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমস ইত্যাদিকে বোঝানো হয়।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক-২০২৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে এমন পণ্য ও সেবা তৈরি, উৎপাদন এবং বিপণনকে বোঝায়, যেখানে প্রধান উপাদান হিসেবে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে ব্যবহার করা হয়।

সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতার পরিকল্পনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি সৃজনশীলতার মাধ্যমে উচ্চমূল্য তৈরি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সরকারের উদ্দেশ্য। সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং দেশের ব্র্যান্ডিং করাও রয়েছে উদ্দেশ্যের মধ্যে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ভালো অবদান রাখছে সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) অর্থনীতি। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ২১ মে প্রথম আলো আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সফট পাওয়ার নেই। অথচ পাশের দেশের চলচ্চিত্র, সংগীত ইত্যাদি বিশ্বের অন্য দেশে যাচ্ছে।’

সৃজনশীল অর্থনীতি কেন সরকারের অগ্রাধিকারে এল, তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকুক। এখানে দুটি দিক আছে।

প্রথমটি হলো শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে তরুণদের দূরে রাখা। এ জন্য উত্তম উপায় হচ্ছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সব ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করা। দ্বিতীয়টি হলো সৃজনশীল কাজকে আবার কেউ পেশা হিসেবেও বেছে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এত দিন কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সবারই পরিকল্পনা হচ্ছে দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্দীপ্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে। আর এর মাধ্যমে বহুমাত্রিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় বাজেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং রাজস্ব আদায়ের চরম দৈন্যদশায় দেশের অর্থনীতি যখন রীতিমতো ধুঁকছে, ঠিক তখন আসছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট। ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। এতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর নানা উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি থাকবে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি; যা মেটাতে ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, অর্থনীতিকে পুনরায় প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। অর্থমন্ত্রী নিজেই সম্প্রতি সচিবালয়ে বলেছেন, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই বড় বাজেট করতে হয়েছে।

বাজেটে মোট ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা এবং অনুদান নেওয়া হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট ও উচ্চ খেলাপি ঋণের মধ্যেও সরকারের ঋণনির্ভরতা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবে পুরো অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা সরকারের নেই। বছর শেষে প্রকৃত ব্যয় আরও কম হবে। কারণ ব্যয় করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। আবার রাজস্ব সংগ্রহও কঠিন হবে। ফলে ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম এ বছর বাজেট একটু ছোট রাখতে। তবে যেহেতু বাজেট বড় করা হয়েছে এখন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং বাস্তবায়নে বেশি নজর দিতে হবে।

এদিকে, বাজেট বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি রাখা হবে। খাদ্যে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, বিদ্যুতে ৩৭ হাজার কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করা সম্ভব হবে। কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং সংস্কার ও ব্যবসা সহজীকরণ ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শুধু বাজেটের আকার বাড়ালেই প্রবৃদ্ধি বাড়ে না। বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আহরণের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত কৌশলই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে জোর : বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করার উদ্যোগ থাকবে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪.৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬.৫ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে। অর্থ বিভাগের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উৎপাদন ও রপ্তানি নতুন করে উজ্জীবিত হবে। তবে বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কালের কণ্ঠ

‘যুদ্ধের বড় ধাক্কা শ্রমবাজারে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোয় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল করোনা মহামারির সময়। এরপর ধীরে ধীরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যজুড়েও ছড়িয়ে পড়ে।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোয় আবারও বড় ধাক্কা লাগায় সংকটে পড়ে এই খাত। অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে কাজ হারিয়ে অনেক শ্রমিককে দেশেও ফেরত আসতে হয়। এতে দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্র নতুন করে হুমকির মুখে পড়ে।

সূত্র মতে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলোয় নতুন কর্মীর চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যায়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। অথচ এর আগের বছর একই সময় এই সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪১ শতাংশ।

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটন, সেবা ও বাণিজ্য খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নেয়।

এ কারণে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদনের হার কমতে শুরু করে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নতুন কর্মীদের বিদেশযাত্রাও বিলম্বিত হতে থাকে। আগে যেখানে ন্যূনতম বিমানভাড়া ছিল ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, ফ্লাইটসংকটের কারণে তা এখন বেড়ে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।

বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার।

এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শ্রমিক যান সৌদি আরবে। ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় সাত লাখ ৫২ হাজার গেছেন শুধু সৌদি আরবে। এর বাইরে কাতারে যান এক লাখ ৬৯ হাজার, কুয়েতে যান ৪২ হাজার ৪৯৬ জন।

অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৫ জুন পর্যন্ত বিদেশে গেছেন তিন লাখ ১৪ হাজার ৩৬২ জন বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরব গেছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৭২ জন, কাতারে গেছেন ২৩ হাজার ৭৮০ জন, কুয়েতে আট হাজার ৭৫৩ জন, জর্দানে সাত হাজার ৩৫৩ জন, আরব আমিরাতে সাত হাজার ১২১ জন এবং ইরাকে তিন হাজার ৯১ জন। এ থেকেই বেরিয়ে আসে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার তুলনামূলক চিত্র।

এর আগের বছরগুলোয় অর্থাৎ করোনার পর ২০২২ সালে মোট ১১ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। এর মাঝে সৌদি আরব ছিল সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার, যেখানে গেছেন তিন লাখ ৯১ হাজার ৩০২ জন কর্মী। ওমানে এক লাখ ৬৩ হাজার ২১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ৭৭ হাজার ৪৭৬ জন, কুয়েতে ২৯ হাজার ৯ জন এবং কাতারে ২৭ হাজার ৬৬৩ জন।

২০২৩ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। সরকারি হিসাবে ১৩ লাখ পাঁচ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী বিদেশে যান। এর মধ্যে সৌদি আরবে চার লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৪ জন, ওমানে এক লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯৮ হাজার ৪২২ জন, কাতারে ৫৬ হাজার ১৪৮ জন, কুয়েতে ৩৬ হাজার ৫৪৮ জন, জর্দানে আট হাজার ৬২৬ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়েনি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং এর অধিনস্থ বিভাগীয়, জেলা ও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষে সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত মনিটরিং সম্ভব নয়। ঐসব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেশির ভাগই পরীক্ষা নিরীক্ষা কিংবা নামেমাত্র আইসিইউ খুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক রোগীর হয়তো অস্ত্রোপচার কিংবা সিজার করার প্রয়োজন নেই। তারপরও ঐসব রোগীর অস্ত্রোপচার ও সিজার করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজন নেই তারপরও নানা জটিলতার কথা বলে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ঐ আইসিইউতে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও নাকে পাইপ লাগিয়ে রাখা হয় দিনের পর দিন। কয়েক দিন পর শুধু আইসিইউর বিল বাবদ কয়েক লাখ টাকা স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়। এই বাণিজ্য দেশব্যাপী ব্যাপকহারে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যখন অধিদপ্তর করা হয়, তখন ৮ টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল। তবে সব উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল না বলেন তিনি। বেসরকারি হাসপাতাল হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। বর্তমানে দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের সংখ্যার তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর অধিনস্থ স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন ব্যবস্থাপনা ও জনবল সীমিত। ঐ শীর্ষ কর্মকর্তার মতে যা মহাসমুদ্রে একফোটা পানি। চিকিত্সা সেবার নামে রাজধানী থেকে দেশব্যাপী গলাকাটা বাণিজ্য চলছে অনেক দিন ধরে। আদ-দ্বীন হাসপাতালের মত প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সব ঘটনা জানা যায়না। মিডিয়ার বদৌলতে কিছু সংখ্যক ঘটনার প্রকাশ পায়। ঝড় উঠে সমালোচনার। বেশির ভাগ ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও ব্যবস্থাপনা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনা হচ্ছে না এবং বেশির ভাগ ভবনও নীতিমালা অনুযায়ী তৈরি হয় না। এদিকে নিয়মিত মনিটরিং না করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একশ্রেণী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়মিত ঐসব অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ও ব্লাড ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা পাচ্ছেন।

এ সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন আদৌ আছে কি না চিকিত্সা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না তা খোঁজখবর কর্মকর্তারা রাখেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত তাদের অফিসে উেকাচের টাকার প্যাকেট নির্ধারিত তারিখে পৌছে যায়। অব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠা এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সা নিতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু, সিজার করতে গিয়ে মা ও শিশুর মৃত্যু কিংবা জেনারেল সার্জারি করতে গিয়েও অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। অনেকে ভুল অপারেশন ও চিকিত্সায় পঙ্গুত্ববরণ কিংবা অঙ্গহানি হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর শিকার হয়। এছাড়া বেঁচে থেকে অনেকে অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাদের পরিচর্যা করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগ এবং অর্থনৈতিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন।

নয়া দিগন্ত

‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় আগ্রহী তুরস্ক’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আমরা দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে বিস্তৃত পরিসরে আরো গভীর করতে এবং এটিকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর আরো শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার থেকে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো খতিয়ে দেখছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।

সফররত তুর্কিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, গভীর ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের রয়েছে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের সাথে আমাদের বহুমুখী সহযোগিতার পরিধি বহু বিস্তৃত। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।

গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান এসব কথা বলেন। এর আগে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে একান্ত ও পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান নিজ নিজ দেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে কক্সবাজার যান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক সম্পর্কে হাকান ফিদান বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আমাদের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতার বিষয়গুলোকে আরো শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছি। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ ও সংস্থাগুলোর সাথে সংহতি ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এই সঙ্কটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য আমরা নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতির জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আমরা তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনেও সমর্থন অব্যাহত রাখব।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে সংশয়ে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে চলমান আলোচনা হয় দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে, নয়তো পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

গত ৪ জুন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) বাই প্রাইভেট টার্মিনাল অপারেটর আন্ডার পিপিপি’ শীর্ষক প্রকল্পে ইনডিপেনডেন্ট টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডইর সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আলোচনা এগিয়ে নিতে অনিচ্ছুক হলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ চিঠিটি জারি করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ১৮ মে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। পরে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, এর আগে পিপিপি ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনায় ইনডিপেনডেন্ট টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেয়া বা বাতিল করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে বলে উল্লেখ করে চিঠি দেয় পিপিপি কর্তৃপক্ষ। এ চিঠির পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি চিঠি দিয়ে একই নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে। হয় আলোচনা এগিয়ে নেয়া, নয়তো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। দুটি চিঠি মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ আলোচনা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সেই চিঠিতে বলা হয়, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন ২০১৫ এবং গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পার্টনারশিপ নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী এনসিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগে যে মূল্যায়ন কমিটির বিধান উল্লেখ করেছিল, সেটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার জন্য প্রযোজ্য, জিটুজি প্রকল্পের জন্য নয়।

জিটুজি নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৭.৪ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী নির্বাচন এবং পিপিপি চুক্তির শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্বিপক্ষীয় জিটুজি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী পরিচালিত হবে। একই নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৫.২-তেও বলা হয়েছে, জিটুজি পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিগত কাঠামো নির্ধারিত হবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে গত বছরের ৪ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অনুচ্ছেদ ৪.৬ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী সরকার কর্তৃক নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা চুক্তি কর্তৃপক্ষের গঠিত আলোচনা কমিটির সঙ্গে প্রকল্পের শর্তাদি নিয়ে আলোচনা করবে। তবে উভয় পক্ষই নিজ বিবেচনায় যেকোনো সময় এ আলোচনা থেকে সরে আসতে পারবে। এ বিধানের আলোকে পিপিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় চাইলে চলমান আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আবার ইচ্ছুক না হলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলও করতে পারে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং শাখার পরিচালক শাহিন ইকবাল স্বাক্ষরিত এ চিঠি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত ২৯ এপ্রিলের একটি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে তখন পাঠানো হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির পর মন্ত্রণালয় গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আলাদা একটি চিঠি দিয়ে একই নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে। হয় আলোচনা এগিয়ে নেয়া, নয়তো প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এটি স্পষ্ট দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ আলোচনা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর দেয়া হয়েছে।’

দেশ রূপান্তর

‘অধরাই থাকল জ্বালানি আমদানি বহুমুখীকরণ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, খায়দায় চান মিয়া, মোটা হয় জব্বার। ব্যঙ্গাত্মক অর্থে এমন প্রবাদের বহুল প্রচলন রয়েছে। একজনের সাফল্য অন্য কেউ বিনা কষ্টে বাগিয়ে নিলে এই প্রবাদ ব্যবহার হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি অনেকটা চান মিয়া আর জব্বার সমীকরণে আটকে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশর জ্বালানি সরবরাহে সরকারি পর্যায়ে একটি চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক না হলেও দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। এর মধ্যে একটি কোম্পানির সঙ্গে আবার সুনির্দিষ্টভাবে হেডস অব অ্যাগ্রিমেন্ট (এইচওএ) সই করা হয়েছে।

নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের জন্য এসব চুক্তি করা হয়েছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কণ্ঠেও একই সুর লক্ষ করা গেছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ভিন্ন উৎস সৃষ্টি হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তবে যদি দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই এলএনজি সরবরাহ করছে তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নির্ভরতা কমে কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এক্সিলারেট এনার্জি ইরান যুদ্ধের সময় ফোর্স মেজর ডিক্লেয়ার করে। ফোর্স মেজর হচ্ছে একটি বিশেষ সুবিধা। যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উভয় পক্ষ চুক্তির ধারা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ধারা প্রয়োগ করতে পারে। ইরান কাতারের এলএনজি সরবরাহকেন্দ্রে হামলা করলে কাতার বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা চুক্তিতে ফোর্স মেজর ডিক্লেয়ার করে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও বাংলাদেশকে গ্যাস দেয়নি কাতার। বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাস রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব শেষ করে যাওয়ার পরপর ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা হিসেবে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। আমেরিকার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের টানাপড়েনের সেই ক্ষণে ওই বছরের ৯ নভেম্বর এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারকে দূরত্ব ঘুচিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিল সাবেক সরকারের কেউ কেউ। যদিও সেই সুখ খুব বেশি দিন সহ্য হয়নি।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেট এনার্জির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে ০.৮৫ থেকে ১ (মিলিয়ন টন) এমটিপিএ এলএনজি আমদানি করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী এক্সিলারেট ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার কথা ছিল।

পেট্রোবাংলার একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং মূলত ট্রেডিং কোম্পানি। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্যাস কিনে আমাদের সরবরাহ করে। কাতারে হামলার সময় তারাও ফোর্স মেজর ডিক্লেয়ার করে। তাদের নিজেদের এলএনজি থাকলে এই সমস্যা সৃষ্টি হতো না।

বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৩ সালের নভেম্বরে চুক্তি হওয়ার পর এক্সিলারেট এনার্জি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাতার এনার্জির সঙ্গে এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে। এক্সিলারেট বলছে কাতার থেকে কেনা এলএনজি তারা মূলত বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। বাংলাদেশে ‘ডেলিভার্ড এক্স-শিপ’ ভিত্তিতে কাতার এনার্জি থেকে বছরে সর্বোচ্চ এক মিলিয়ন টন এলএনজি ১৫ বছরের জন্য ক্রয় করবে, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। চলতি বছর এবং আগামী বছর এক্সিলারেট ০.৮৫ এমটিপিএ এলএনজি ক্রয় করবে এবং ২০২৮ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত এক এমটিপিএ এলএনজি ক্রয় করবে।

কাতার এনার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের আগে থেকেই এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। চলতি বছর থেকে দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি চুক্তি কার্যকর হওয়াতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বেড়ে বছরে ৬ মিলিয়ন টন হওয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ওমানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি করে থাকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরাসরি না কিনে কেন যুক্তরাষ্ট্রকে রাখতে হলো। কিংবা চাইলেই কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানির আরেকটি চুক্তি করতে পারত কি না। এ বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কাতার সফরে গিয়ে তাদের বলেছিলাম আমাদের এলএনজির দাম অত্যন্ত বেশি। তোমরা এলএনজিএর দাম কমাও। তখন কাতার সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, আগের চুক্তির দাম কমানো যাবে না। তুমি একটি নতুন চুক্তি করো, আমরা দাম কমাব।’ সাবেক সরকারের উপদেষ্টার এই বক্তব্য প্রমাণ করে বাংলাদেশ চাইলেই কাতারের সঙ্গে আরও একটি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করতে পারত। এর মধ্যে অন্য কোম্পানিকে রাখারও কোনো দরকার হতো না।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা বিদ্যুৎ জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধানে করা মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল বাতিল করে। একই সঙ্গে একই বিধানে করা ৩৪টি সৌর বিদ্যুতের কার্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু এক্সিলারেট এনার্জির চুক্তিটি বাতিল করা হয়নি কিংবা এটি নিয়ে প্রশ্নও তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন