‘বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনেক কারণ আছে’

‘বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনেক কারণ আছে’

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক ফুটবলে হামজা চৌধুরীর ক্যারিয়ার কেবল ১৫ মাসের। এই সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টার বয়ে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবলের দূত বললেও ভুল হবে না। দেশে তো বটেই, বিদেশের মাঠেও বাংলাদেশিদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বাংলাদেশে হামজাকে ঘিরে উন্মাদনা, ঘরের মাঠে খেলার কিছু মুহূর্ত, বাংলাদেশের অবস্থা, তার অনুশীলন, তার মা-বাবার সাক্ষাৎকার সবকিছু মিলিয়ে তার ক্লাব লেস্টার সিটি একটি প্রামাণ্য চিত্র বানিয়েছে। শুক্রবার রাতে তার প্রকাশ করেছে ক্লাবটির ইউটিউব চ্যানেলে।

মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিও’র একপর্যায়ে হামজা উল্লেখ করেছেন নভেম্বরে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারত ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, ‘ব্যাপারটা কিছুটা পরাবাস্তব মনে হচ্ছিল। জাতীয় সংগীতের সময় মুহূর্তের মধ্যে আমার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। বাংলাদেশে আমার মনে রাখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ম্যাচের কথা মনে করতে পারি।

সেই ম্যাচে আমাদের শরীরী ভাষা ছিল অন্যরকম।’ বাংলাদেশকে বেছে নেয়ার কারণ জানিয়ে হামজা বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে খেলার অনেক কারণ রয়েছে। সকল ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের খেলার। আমারও স্বপ্ন ছিল। আমি ইংল্যান্ড অনূধ্ব-২১ দলে খেলেছিলামও। পরে যখন দেখলাম ইংল্যান্ড মূল দলে আমার খেলা কঠিন। তখনই আমি বাংলাদেশকে বেছে নেই। এখানে আমার বা-মায়ের ভূমিকা অনেক। আর এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত’। পরে ২০২৫ সালের ২৫শে মার্চ ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হয় হামজার। ভিবিওতে হামজা যে ম্যাচের কথা উল্লেখ করেছেন, সেই ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষে ফুটবলে প্রতিবেশী দেশের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ।

হামজা যেখানে শেষ করেছেন, সেখানেই শুরু করেছেন তার বাবা দেওয়ান চৌধুরী। ছেলের কারণেই বাংলাদেশ ফুটবল প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে মনে করেন দেওয়ান। লেস্টার সিটির প্রচারিত প্রামাণ্যচিত্রে হামজার বাবা বলেন, ‘আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। ছেলে বাংলাদেশের হয়ে খেলছে। আমি অনেক গর্বিত। বাংলাদেশের ফুটবল অনেকদিন ধরে বাজে অবস্থায় ছিল। হামজার কারণে ফুটবলে জোয়ার ফিরেছে।’ বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা ৯ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন এক গোলে। যার মধ্যে ঘরের মাঠে গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে বাইসাইকেল কিক করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। লেস্টার সিটির প্রামাণ্যচিত্রে এই গোল নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে এটাকে সেরা গোল দাবি করেছেন হামজা।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি জানতাম না আমার ওপর কী আসতে যাচ্ছে। পরে চিন্তা করলাম, কেন পারবো না। সত্যিই অসাধারণ ছিল। এই ম্যাচে আমি যে গোলটি করেছি, সেটাই আমার সেরা গোল। গোল করার পর আমাদের পরিবারের চ্যাট গ্রুপে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখে খুবই হাসি পেয়েছে।

গোল করার পর আমি ভেবেছিলাম, তারা পাগলাটে উদ্‌যাপন করছেন।’ শিলংয়ে গত বছর এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় হামজার। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও অভিষেকে যা করেছেন, তাতে রীতিমতো মুগ্ধ সবাই। লেস্টার সিটির গত রাতের প্রামাণ্যচিত্রে তিনি সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করেছেন। ধীরে ধীরে হামজার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই। বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তার ছবি। প্রোমোশনাল বিজ্ঞাপনেও থাকেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। ছেলের এমন জনপ্রিয়তা দেখে তার মা-বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন