তপুর জোড়া গোলে ইউরোপ জয় বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপ জয় বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

প্রথমবার ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে খেলতে নেমে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তপুর জোড়া গোলে তারা হারিয়েছ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের একেবারে তলানির দল সান মারিনোকে। ম‍্যাচের ১৯তম মিনিটে তপুর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ । যদিও রক্ষণের দুর্বলতায় প্রথমার্ধেই গোল শোধ দেয় সান মারিনো। শেষ দিকে আবার জালে বল পাঠালেন তপু বর্মন। আর তাতেই সান মারিনোকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল টমাস ডুলির দল।

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি শুক্রবার ২-১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ।


সান মারিনো ইতালির মধ্যেই ক্ষুদ্র একটি দেশ। ইতালিতে বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী বসবাস করেন। রোম, ভেনিস অনেক শহর থেকে সান মারিনোতে হামজাদের খেলা দেখতে যান। গ্যালারি প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিলো । তাই অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও হোম ম্যাচের আবহই বিরাজ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শুরুটা খানিকটা নড়বড়ে ছিল। সান মারিনো বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল। দশ মিনিট পর বাংলাদেশ গুছিয়ে উঠে। ১৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পায়। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিক থেকে শেখ মোরসালিনের ক্রস আর তাতেই হেডে গোল করেন তপু বর্মণ । উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।


বাংলাদেশের এই আনন্দ ১৪ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। গোলদাতা তপু বর্মণের ভুলেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। বেরাদিকে ফাইনাল চার্জ করলেও তাকে রুখতে পারেননি তপু। এরপর বেরাদি কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়লেও বল তার হাতে লেগেই জালে প্রবেশ করে।  

৪৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। হামজার দারুণ এক পাস ধরে এগিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস দেন রফিকুল, কিন্তু গোলমুখের সামনে বলে পা ছোয়াতে পারেননি সোহেল রানা। 

তবে এই সময় দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেখায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে আরেকটি গোছালো আক্রমণের শেষটা সুন্দর হয়নি। ডান দিক থেকে এবার সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও গোলে রাখতে পারেননি। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ ফ্রি কিক কর্ণারের বিনিমেয় ক্লিয়ার করেন মিতুল। 

খানিক পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। উঠে যান ফাহিম ও রফিকুল। বদলি হিসেবে বিশ্বনাথ নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেননি। মাঠে নামার খানিক পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু বিশ্বনাথের সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শট লক্ষে রাখতে পারেননি। 

প্রীতি ম্যাচে সাধারণত ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তবে দুই দলের সম্মতিতে ১১টি পরিবর্তন করা যায়। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়।

৮৬ মিনিটে সেই তপুর দ্বিতীয় গোলে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের একটু সামনে কে হামজার নেওয়া ফ্রি কিকে কেউ পা ছোঁয়াতে পারেননি। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছোয়ান তপু। গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে বাংলাদেশী দর্শকেরাও মাতেন জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন