বকেয়া পারিশ্রমিক, চুক্তিপত্র না পাওয়া এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের অভিযোগ তুলে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচ বয়কট করেছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। ফলে গতকাল বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে কোনো বল মাঠে না গড়িয়েই ওয়াকওভার পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।
ক্রিকেটারদের অভিযোগ, মৌসুম শুরুর পর থেকে বারবার তাগাদা দিয়েও তারা চুক্তিকৃত পারিশ্রমিকের অধিকাংশ পাননি। কারও হাতে এসেছে মাত্র ২০ শতাংশ, কেউ পেয়েছেন তারও কম। ঈদের আগেই অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করেছি।
প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্নে আমরা মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ খেলোয়াড়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচের আগের রাতেই ক্লাবকে জানানো হয়েছিল- বকেয়া অর্থ ও চুক্তিপত্রের বিষয়ে নিশ্চয়তা না পেলে তারা খেলবেন না। কিন্তু ম্যাচের দিন সকালেও কোনো সমাধান না আসায় তারা সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সকালে মাঠে উপস্থিত হয়েও খেলতে নামেননি। ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম জানান, ‘অগ্রণী ব্যাংকের অধিনায়ক ও আমি অপেক্ষা করছিলাম। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মাঠে নামেনি।
তাই নিয়ম অনুযায়ী ওয়াকওভার ঘোষণা করা হয়েছে’। ক্রিকেটারদের অভিযোগ, ঈদের আগে ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বকেয়া পারিশ্রমিকের পাশাপাশি চুক্তিপত্র না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ক্রিকেটাররা। তাদের দাবি, মৌসুম শেষের পথে চলে এলেও অনেক খেলোয়াড় এখনো নিজেদের চুক্তির কপি হাতে পাননি। খেলোয়াড়দের দাবি, বিষয়টি তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত জানিয়েছিলেন।
বিভিন্ন পর্যায়ে আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো সমাধান আসেনি। তাদের অভিযোগ, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) জানিয়েছে, ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়টি ক্লাব ও ক্রিকেটারদের মধ্যকার চুক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমেন খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মাঠের পারফরম্যান্সেও কঠিন সময় পার করছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। চলতি মৌসুমে ৯ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া দলটি অবনমনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যেই পারিশ্রমিক সংকটকে কেন্দ্র করে ম্যাচ বয়কটের ঘটনা দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
