ফিফা পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং কী এবং কেন?

ফিফা পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং কী এবং কেন?

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ৪৮ দলের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগে সমর্থকদের জন্য এক অভিনব চমক নিয়ে এসেছে ফিফা। দলগুলোর শক্তি-সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য তারা চালু করেছে একটি বিশেষ ‘পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং’ ব্যবস্থা। খেলা শুরু হওয়ার আগে দলগুলোর বর্তমান অবস্থান কেমন, তা বোঝার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি একটি নতুন হাতিয়ার। সহজ কথায়, পাওয়ার র?্যাঙ্কিং হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে দলগুলোর শক্তির একটি তাৎক্ষণিক রূপরেখা। টুর্নামেন্টের ঠিক আগ মুহূর্তে দলগুলো কেমন ফর্মে আছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এটি তৈরি করা হয়।

তবে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একে যেন কোনোভাবেই চূড়ান্ত ধরে নেয়া না হয়। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা বলে, ‘এটি কোনো অফিশিয়াল বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং নয়। এটি কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর টেবিল, গ্রুপ পর্বের ড্র, কিংবা বিশ্বকাপ কীভাবে মাঠে গড়াবে তার কোনো গ্যারান্টিও দেয় না।’ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে এই পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। দল সংখ্যা বাড়ার কারণে দলগুলোর শক্তির তুলনা এবং টুর্নামেন্টের অনিশ্চয়তা্তদুটিই আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪৮টি দলের এই বিশাল টুর্নামেন্টে কোন দল ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে, তা এক নজরে বোঝার জন্য এই পাওয়ার র?্যাঙ্কিং একটি দারুণ গাইড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকা মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে আনে। সেগুলো হলে, ট্রফি জয়ের দৌড়ে কারা সবচেয়ে এগিয়ে, কারা যেকোনো মুহূর্তে বড় দলগুলোকে চমকে দিতে পারে, এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যাদের যোগ্যতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। তবে ফুটবল মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে খাতার হিসেব সবসময় মেলে না। ফর্মের আকস্মিক পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোট বা নকআউট পর্বের ভাগ্য-যেকোনো মুহূর্তে পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংকে কেবলই একটি প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা উচিত, নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে নয়।

অফিশিয়াল ও পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য
ফুটবল অনুরাগী মহলে এই দুই র‌্যাঙ্কিং নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এখানে প্রধান পার্থক্য, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং হলো জাতীয় দলগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। এটি বিশ্বকাপ পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক। এটি মূলত একটি একক প্রতিযোগিতার সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং সেই আসরের চারপাশের বিশেষ পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়। এ দুটি র‌্যাঙ্কিংয়ের ফল কখনো কখনো এক হতে পারে।

তবে এগুলোকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। অফিশিয়াল র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক উপরে থাকা কোনো দলের ক্ষেত্রেও বর্তমান ফর্ম, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্কোয়াডের ভারসাম্য কিংবা টুর্নামেন্টের কঠিন সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যেমন-অফিশিয়াল র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা কোনো দল যদি টুর্নামেন্টের ঠিক আগে চোট বা অফ-ফর্মে ভোগে, তবে পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান নিচে নেমে যাবে। আবার র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা কোনো দল যদি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দারুণ জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে আসে, তবে পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ওপরের দিকে চলে আসবে। ফিফার মতে, সমর্থকদের জন্য এই পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংকে কেবলই ‘বর্তমান ধারণার প্রতিফলন’ হিসেবে দেখা উচিত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন