পাকিস্তানের মন্থর আর নিচু বাউন্সের উইকেটে ওডিআই সিরিজ হেরেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। তবে এই হার থেকে পাওয়া শিক্ষা বাংলাদেশ সফরের জন্য কাজে লাগবে বলে মনে করছেন অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিশ। তিনি বলেন, তাদের জন্য মিরপুরের উইকেটেও পাকিস্তানের মতো একই চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
ইংলিশ বলেন, ‘আমি অলি পিককে বলেছি, একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কন্ডিশন আর হয় না। এখানে রিভার্স সুইং সামলানো, স্পিন মোকাবিলা আর প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকা-সবই আমাদের জন্য বড় শেখার অভিজ্ঞতা।’ বাংলাদেশ সফরে মিরপুরের স্পিন-বান্ধব উইকেটের কথা মাথায় রেখে ইংলিশ বলেন, ‘ওখানেও (বাংলাদেশে) হয়তো আমরা একই রকম কন্ডিশন পেতে পারি।
তবে এখানকার ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’ বৃহস্পতিবার লাহোরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৪ উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া। ১৫৭ রানের ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াই করেছিল অজিরা, তবে শাদাব খানের অপরাজিত ২৯ রানে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অধিনায়ক জস ইংলিশ সর্বোচ্চ ৬৫ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। এছাড়া মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স ক্যারি করেন ১৯ রান করে। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। এছাড়া স্পিন জাদুতে মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন আবরার আহমেদ ও শাদাব খান।
১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও স্পিনার ম্যাথিউ কুনেম্যানের (৩/৩৮) বোলিং তোপে একপর্যায়ে ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের ধৈর্যশীল ৪০ রান এবং ওপেনার মাআজ সাদাকাতের দ্রুত ২৭ রান জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে আর কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি শাদাব খান (২৯*) ও আব্দুল সামাদ (১৮*)।
এই দুই ব্যাটারের ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪১.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখেন শাদাব খান। চোটের কারণে মিচেল মার্শের খেলা নিশ্চিত না হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বিধ্বংসী ব্যাটার ট্রাভিস হেড। আগামী মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ।
