রাজবাড়ীর দৌলতদিয়াঘাট দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার একমাত্র নৌরুট। এই নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চযোগে আসা-যাওয়া করে। আর পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠছেন ঢাকাসহ আশেপাশের জেলার যাত্রীরা। যদিও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষেধ। তবুও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চগুলো। অথচ ঘাটে দায়িত্বে থাকা নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস আনসার ও বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্টদের কার্যকর তৎপরতা তেমন একটা নেই।
বুধবার ৩রা জুন দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে সরজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এমভি আরাফাত লঞ্চের ধারণক্ষমতা ১৩০ জন হলেও তাতে ২৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে দেখা যায়। এমভি ব্ল্যাকবার্ডের ধারণক্ষমতা ১২১ জন হলেও প্রায় ২৫০-৩০০ জন এবং এমভি তিতাসে ১৪৮ জনের স্থলে প্রায় ২০০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঘাট এলাকায় লঞ্চের ভেতরে ও ডেকে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কর্মস্থলে দ্রুত ফিরতে গিয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
পাটুরিয়াগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের ডেকে ও নিচে গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়ায় ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে।
আরেক যাত্রী রইচ উদ্দিন বলেন, লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামও চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর টিম নিয়মিত তদারকি করছে।
নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই কাজ করছে।
