কেউ চান মন্ত্রিত্ব, কারো চাওয়া সরকারি সুবিধা

সহযোগীদের খবর

কেউ চান মন্ত্রিত্ব, কারো চাওয়া সরকারি সুবিধা

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘কেউ চান মন্ত্রিত্ব, কারো চাওয়া সরকারি সুবিধা’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নানা পরামর্শ ও মতামত প্রদানের পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথাও। শরিক নেতাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার আগ্রহের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কেউ কেউ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিএনপির ৩১ দফা ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদের ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন হলে সেটির সদস্য পদে যেন তাদেরকে বিবেচনা করা হয়।

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ রকম নানা ইচ্ছা ও প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক শরিক দলের নেতারা গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে পৃথক আলাপে এ কথা জানান। তারা জানান, বৈঠকে শরিক দলগুলোর নেতাদের পক্ষ থেকে পাঁচ জন বক্তব্য রেখেছেন। সবার কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের একটি পয়েন্ট ছিল—একসঙ্গে আন্দোলন ও একসঙ্গে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যত সেটা হয়নি, এমনকি সরকার গঠনের পাঁচ মাসে শরিকদের সঙ্গে কোনো কথাবার্তাও হয়নি।’ ড. ফরহাদ জানান, এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নানা ঝামেলার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করতে হয়েছে, এরপর রোজা ছিল, সংসদ অধিবেশন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট—সবমিলিয়ে সরকারকে সময় নিতে হয়েছে। তবে, এখন থেকে নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে শরিকদের সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই বৈঠকে যোগ দিয়ে শরিক নেতাদের মধ্যে যে পাঁচ জন বক্তব্য রাখেন তাদের একজন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৈঠক শেষে তিনি জানান, এ বৈঠকের একটি দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনের যারা শরিক দল ছিল তারা যাতে দূরে চলে না যায়। তিনি বলেন, বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সরকার পরিচালনার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না, তারা অংশ নিতে পারছেন না।

একাধিক শরিক দলের নেতা জানান, সরকার পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জোটকে আরো সুসংহত করার কথাও এসেছে বৈঠকে। নির্বাচনের আগে বিএনপি শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে মাত্র তিনটি শরিক দলের তিন জন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে বলেছেন, মিত্র দলগুলোর মধ্যে যারা নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, মনোনয়ন পেলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি—সেক্ষেত্রে এই দলগুলোর দুই-তিন জন নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করা যেত।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিক দলগুলোর জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের জন্য ছিল আটটি আসন। নির্বাচনে জয়ী হন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। পরে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আন্দালিভ রহমান পার্থকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি শরিক দলের নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে রবিবার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যমুনায় বৈঠকে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে নানা সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তবে, মিত্রদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খুবই আন্তরিক মনে হয়েছে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে বলেছেন, সরকারে আসার পর বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্পরতা তেমন দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে গত পাঁচ মাসে গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়েছে বলেও তারা মত দেন।

শরিক দলের এক নেতা তার বক্তব্যে বলেছেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করেছে। সেখানেও শরিকদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়নি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আরো নিয়মিত মতবিনিময় এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম আলো

‘বিশ্বে ৬ মাসে হামের রোগী সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভুলতে যাওয়া রোগ হাম এ বছর দেশে তৈরি করেছে উদ্বেগ। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য দেখাচ্ছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।

বিশ্বজুড়ে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তর জেনেভায় নিয়মিত যে প্রাথমিক উপাত্ত জমা হয়, সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করে এই চিত্র দেখা গেছে। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও (সিডিসি) বিশ্বে হাম সংক্রমণের পরিস্থিতি জানাতে জুলাই মাসে তৈরি করা ডব্লিউএইচওর নজরদারি প্রতিবেদনটি ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ছয় মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এ সময়ে দেশটিতে হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৬০৭ জন। যুদ্ধপীড়িত ইয়েমেন ১৪ হাজার ৫২১ রোগী নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে এরপর রয়েছে মেক্সিকো (১২,৪৯৫), পাকিস্তান (১১,০৩৭), ক্যামেরুন (৯,৬৫৩), কাজাখস্তান (৭,৭৩০), গুয়াতেমালা (৬,৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬,৮১৫) ও সুদান (৫,৭৬৬)।

ডব্লিউএইচও এই ছয় মাসে বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম কিংবা এর উপসর্গের রোগী পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সবচেয়ে বড় হাম সংকট এখন দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে।

ডব্লিউএইচও জুন মাসে যে নজরদারি প্রতিবেদন দিয়েছিল, সেখানে হাম সংক্রমণে ভারত ছিল শীর্ষে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটিতে রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২৩ হাজার ৩৬১ জন। ওই সময়ে বাংলাদেশ ১৪ হাজার ৭০৪ রোগী নিয়ে ছিল দ্বিতীয় স্থানে। জুলাই মাসের প্রতিবেদন বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার দিকটি নির্দেশ করছে।

দেশে বছরের শুরুতে হঠাৎই শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিছুদিনের মধ্যে রোগীর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সংক্রমণের তথ্য দিচ্ছে। সেই তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে হামের সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন আর ১৪ হাজার ৭০৮ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭০২ জনের। এ ছাড়া ৯৫টি শিশু মারা গেছে, যাদের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মারা গেছে ৭৯৭ শিশু।

ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে গত মার্চে হঠাৎই রোগীর সংখ্যা ৫ হাজারে পৌঁছায়। পরের মাস এপ্রিলে সংখ্যাটি ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মে মাসে রোগী পাওয়া যায় ১৫ হাজার।

ডব্লিউএইচওর হামের প্রাথমিক তথ্য যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, চূড়ান্ত হিসাবেও তার হেরফের হবে না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ যে এবার হামের সংক্রমণের শীর্ষে থাকবে, এটা ধরেই নেওয়া যায়। শুধু সংক্রমণের দিক থেকে নয়, বাংলাদেশে সম্ভবত এবার হামে মৃত্যু বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। ডব্লিউএইচওর এ প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ এ বছর হাম সংক্রমণে শীর্ষে উঠে এলেও আগের বছরগুলোয় চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন।

টিকাদানে ঘাটতি, সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই বা ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তিন টাকায় ১ টাকা দুর্নীতি’। খবরে বলা হয়, দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অনিয়ম যেন থামছেই না। বালিশ-কাণ্ডের পর এবার বিশেষ নিরীক্ষায় উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। ৯ অর্থবছরে প্রকল্পটিতে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করেছে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফাপাড)। অর্থাৎ, ব্যয় হওয়া প্রতি তিন টাকার মধ্যে প্রায় এক টাকার হিসাব নিয়ে আপত্তি তুলেছেন নিরীক্ষকরা। একই সময়ে প্রকল্পে ২৩০টি অডিট আপত্তি উঠেছে। এর মধ্যে ১২০টিই রাশিয়ার নাগরিকদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্প ঘিরে।

শুধু অর্থ ব্যয়ের হিসাবেই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সংস্থাটির পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর হালনাগাদ কোনো কর্মপরিকল্পনা প্রকল্প কার্যালয়ে নেই। অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়নি। ফাপাডের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, দুই ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরবর্তী সময়ে ২২ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৯ বছরে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২৩০টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রথম পাঁচ অর্থবছরেই ৪১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৮ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আপত্তির পরিমাণ ছিল ১০৬ কোটি টাকা। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকায়। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। ওই বছর ১৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ১৫ হাজার ২০৭ কোটি টাকার অডিট আপত্তি তোলে ফাপাড। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারিগরি প্রযুক্তি সরবরাহ ও ঋণদাতা দেশটি (রাশিয়া) শুধু একটি পারমাণবিক পরাশক্তি নয়, বৈশ্বিক দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ। দেশটি চরম উদ্বেগজনক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হিসাবে চিহ্নিত। এ বাস্তবতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আপাদমস্তক যোগসাজশের দুর্নীতিসহ ব্যাপক অনিয়ম যেমন অস্বাভাবিক নয়, তেমনই প্রতারণামূলকভাবে চুক্তির শর্তভঙ্গের ঘটনাও বিস্ময়কর নয়।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি যখন অনুমোদিত হয় এবং চুক্তি সম্পাদিত হয়, তখন যেমন সংশ্লিষ্টদের রাশিয়া ও রোসাটম সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল, তেমনই বর্তমানেও তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে সেটি অজানা নয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ চোরতন্ত্র্রের চাপিয়ে দেওয়া বিশাল এই বোঝা লাঘবের জন্য নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

কালের কণ্ঠ

‘সম্ভাবনায় বড় বাধা গ্যাসসংকট’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রথাগত তৈরি পোশাক বা জুতার গণ্ডি পেরিয়ে অঞ্চলটি এখন ড্রোন, ওষুধশিল্পের কাঁচামাল (এপিআই), ব্যাটারি প্লেট ও আউটডোর ইকুইপমেন্টের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদনের নতুন হাবে পরিণত হচ্ছে।

এরই মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এখানে ভিড় জমিয়েছেন। তবে সম্ভাবনার এই বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গ্যাসসংকট। প্রয়োজনীয় গ্যাস সংযোগ না থাকায় নতুন বিনিয়োগ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা কারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে সম্ভাবনা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি।

বেপজার গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৩০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই মেগাপ্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে। সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো, কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা কম ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ করেছে বেপজা।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে মোট ৫৩৯টি শিল্প প্লট ও দুটি আধুনিক ছয়তলা কারখানা ভবন রয়েছে। এর মধ্যে এরই মধ্যে ৩৬০টি প্লট এবং একটি কারখানা ভবন ৫৯টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই চীনের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘হুয়ারুন টেক্স কম্পানি লিমিটেড’ ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনে বেপজার সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ নিয়ে অঞ্চলটিতে এ পর্যন্ত মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠান জমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া আরো ৪০টি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের জন্য বেপজার সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে ১২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি শুরু করেছে।

এ ছাড়া আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল) উৎপাদনে রয়েছে। বর্তমানে এই জোনে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে ‘কাইজি লঞ্জারি বাংলাদেশ’। চীনা মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ১৮.৯১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এরই মধ্যে ৩৪.৫৬ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তিন হাজার ৬৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে প্রথম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিহাস গড়া ‘কেপিএসটি শুজ (বিডি)’ ৯.১ মিলিয়ন ডলারের ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া মিংদা (বাংলাদেশ) নিউ ম্যাটেরিয়াল, ফেংকুন কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল, জিবিন টেকনোলজি, তাইশেং (বাংলাদেশ) ওয়েবিং এবং ভারনন অ্যান্ড অলিভার ফার্নিচারসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান নিয়মিত উৎপাদন ও রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগের এমন জোয়ারের মধ্যেই বড় বাধা জ্বালানিসংকট। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কারখানা প্রস্তুত এবং বায়ারদের (ক্রেতা) অর্ডার হাতে থাকলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তাঁরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন। বর্তমানে ১৫টি প্রতিষ্ঠান কোনোমতে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখলেও গ্যাসের অভাবে মূল সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করতে পারছে না।

​বেপজার নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের যে বিপুল আগ্রহ, তাতে গ্যাস সংযোগ শতভাগ নিশ্চিত করা গেলে বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে আনা সম্ভব হতো। আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঋণ পুনঃতপশিলে ঘুরেফিরে চিহ্নিত কয়েকটি কোম্পানি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, টাকা ফেরত না দিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়ে আসছেন শীর্ষ খেলাপিরা। বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরাই ঘুরেফিরে পুনঃতপশিলের জন্য হাজির হচ্ছেন। একের পর এক সুবিধা নেওয়ার কিছুদিন পর তারা আবার খেলাপি হচ্ছেন। প্রকৃত আদায় ছাড়া ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত দেখিয়ে আসা ব্যাংক খাত এভাবে পুনঃতপশিলের ফাঁদে পড়েছে। এতে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বের শীর্ষস্থান পেয়েছে।

কখনও বৈশ্বিক খারাপ অবস্থা, কখনও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই খেলাপিদের জন্য উপায় বের করে দিচ্ছে। সুবিধা দিয়ে খেলপি ঋণ কমানোর নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের বেশির ভাগের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধানে নীতি শিথিলতার সিদ্ধান্ত কাজ দিচ্ছে না। এ ধরনের নীতির বারবার অপব্যবহার হয়েছে।

অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। খেলাপি অনেকেই ব্যাংকের টাকায় বিলাসী জীবন, বিদেশে পাচারসহ নানা অনিয়ম করছেন। এর বিপরীতে দেশে এমন অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা খেলাপি হননি। তাই ঋণখেলাপিদের বারবার সুবিধা দিতে থাকলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে বিশ্বে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত মার্চ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৩ সালভিত্তিক খেলাপি ঋণের দেশওয়ারি তথ্য রয়েছে। ওই সময় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ১৪ নম্বরে ছিল বাংলাদেশের নাম। তখন খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইউক্রেনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির খেলাপি নেমেছে ২৭ শতাংশে।

২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাদ। আর আফ্রিকান দেশ গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গিনির খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩০ শতাংশে।

কারা সুবিধা পায়

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতপশিলসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে ১২ শতাধিক আবেদন এসেছে। এর বিপরীতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের পুনঃতপশিল চাওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধার জন্য গত বছর ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের ১২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। ২৬ ব্যাংক ও দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বেক্সিমকোর ছয় হাজার ৯১৯ কোটি টাকার পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন এসেছে। বেক্সিমকোর ঋণ পুনঃতপশিল না হলেও তাদের মালিকানাধীন খেলাপি প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকের এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বারবার বিশেষ সুবিধা নেওয়া আব্দুল মোনেম গ্রুপ এ দফায় দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে। এই গ্রুপের মালিকানার আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি মিলের খেলাপি ঋণ থাকা অবস্থায় একইভাবে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

‘সরকারের অভ্যন্তরে মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানোর আলোচনা’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই সময়কালকে সামনে রেখে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একইসাথে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনসহ মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন এমন ৮-১০ জনের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে রয়েছে। এদের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে আনুষ্ঠানিক সব ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় মন্ত্রিসভার রদবদলের পাশাপাশি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিতে পারেন। তবে কাউকে বাদ দেয়া হচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন। জানা গেছে, নতুন রদবদলে কাউকেই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে না।

রদবদল বা পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে একাধিক মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শুরুতে তার মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন। সরকার গঠনের পর বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনেক ক্ষেত্রে ছয় মাসের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া দলের অনেকেই বলেছেন, ছয় মাস পর সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। একইসাথে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যকলাপেরও মূল্যায়ন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকার গঠনের সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রথম ছয় মাস মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জানা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতিতে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসাথে চাপ কমাতে নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া এই সময়কালের মধ্যে যেসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান হয়েছে অথবা প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতি পায়নি, সেসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি মনে করেন, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য ভালো ‘পারফর্ম’ করতে পারছেন না, তাহলে তার জায়গায় দফতর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিনের পরপর, নাকি আরো সময় লাগবে, নাকি তারও আগে, সেটা নিশ্চিত নয়। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি সংকট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক বছর ধরেই দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। চার বছর আগে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৪ শতাংশের ঘরে।

ধারাবাহিকভাবে কমে সে প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা, নীতি সহায়তাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও ব্যাংকার ও উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণের সুদহার কমানো কিংবা নীতি ছাড়ের কোনোটিই পুরোপুরি কাজে আসবে না, যদি শিল্পোদ্যোগে চাহিদা অনুসারে গ্যাসসহ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়।

পেট্রোবাংলার তথ্য এবং ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট এখন আর সাময়িক সমস্যার মতো কোনো ঘটনা নয়। বরং এটি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রফতানি প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার জন্য প্রধান ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ (প্রেশার) পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, কোথাও কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর নতুন কারখানায় গ্যাসের সংযোগ একেবারেই বন্ধ।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এ তথ্য পেট্রোবাংলার। বিপরীতে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলন ও আমদানীকৃত এলএনজি মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি। অর্থাৎ চাহিদার ৩০ শতাংশেরও বেশি গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে শিল্প খাতের বরাদ্দকৃত গ্যাসের একটি অংশ আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানায় সরিয়ে নেয়া হয়। এতে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ আরো কমে যায়।

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অন্তর্বর্তীকালীন) মো. এনামুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরে মন্থর। এটিকে কেবল উচ্চ সুদহার, কঠোর মুদ্রানীতি বা উদ্যোক্তাদের অনীহার ফল হিসেবে দেখলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ আড়ালে থেকে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নিলেও শিল্প খাত যদি জ্বালানি সংকটে উৎপাদন বাড়াতে না পারে, তাহলে শুধু মুদ্রানীতিনির্ভর এসব পদক্ষেপ ঋণের প্রবৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারবে না।’

বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জ্বালানি খাতকে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে বলে মনে করেন এ শীর্ষ নির্বাহী। এনামুল হক বলেন, ‘উচ্চ উৎপাদনক্ষম শিল্পে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়া, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জ্বালানি আমদানির সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ শিল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই। প্রণোদনা বা উদ্দীপনামূলক নীতিমালা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু টেকসই ও মানসম্মত ঋণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জ্বালানি স্থিতিশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।’

দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্যাসনির্ভর শিল্প। তৈরি পোশাক, স্পিনিং, উইভিং, ডাইং, নিটিং, সিরামিক, কাচ, ইস্পাত, সিমেন্ট, কাগজ, রাসায়নিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলোর দাবি, প্রায় ৪০০ গ্যাসনির্ভর কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। এর বিরূপ প্রভাব আবার গিয়ে পড়েছে ব্যাংকের খেলাপি ঋণে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বিতরণ করা ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোর বিপদ বাড়ছে।

নতুন গ্যাস সংযোগ না পেয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির শিকার হওয়ার বড় উদাহরণ ‘সিটি গ্রুপ’। দেশের শীর্ষ এ কনগ্লোমারেটের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ এখন খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হওয়া পরিহার করতে গ্রুপটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। সিটি গ্রুপের সংকটের সূত্রপাত মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে তোলা ছয়টি বৃহৎ শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ না পাওয়া। ২০২০ সাল-পরবর্তী সময়ে এসব কারখানা গড়ে তুলতে গ্রুপটি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। কারখানা তৈরি হলেও সেগুলোতে এখনো গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত হয়নি।

দেশ যে গ্যাসের অভাবসহ বড় আকারের জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে, সে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছিল প্রায় এক দশক আগেই। দেশে উত্তোলিত গ্যাসে শিল্প-কারখানা সচল রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে দৈনিক জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে ১ হাজার ৬৪০ মিলিয়ন ঘনফুট দেশের গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত হচ্ছে। বাকি ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে। গ্যাস সংকটের বিরূপ প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও পড়েছে। দেশের মোট ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪২ শতাংশ গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের সংকটের কারণে এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এ কারণে লোডশেডিংও করতে হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা

‘প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানো চ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পাশে থাকা মিত্র দলগুলোর ক্ষোভ ও দূরত্ব ঘোচাতে নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলগুলোর নেতারা তাঁদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের কাছে। জানিয়েছেন সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো ধৈর্যসহকারে শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মিত্রদের এই বাড়তি প্রত্যাশা সামলানো এবং জোটের মূল শক্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার রাতে হয়েছে ওই নৈশভোজ এবং আলোচনা। এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতার সমীকরণে গিয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যমুনার ওই আয়োজনে নেতারা খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবহেলার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

শরিকদের অভিযোগ, দুর্দিনের সঙ্গীদের সরিয়ে রেখে বিএনপির মধ্যে একাকী পথচলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, যা রাজনীতিতে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রাপ্য মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নৈশভোজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের এই ডাক কি ফেয়ারওয়েল ডিনার, নাকি নতুন কোনো যাত্রার সূচনা? জবাবে উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কোনো বিদায়ী আয়োজন নয়, বরং আমাদের ওয়েলকামিং ডিনার। এখান থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু।’

সাইফুল হক আরও বলেন, ‘দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার শৈলীটি বিএনপি নেতৃত্বের রপ্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে অধিকাংশ দলই আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে করি।’

একই সুর পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের বন্ধুদের মধ্যে যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান ঘটেছে এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে।

তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে শরিক নেতাদের অনেকের কথায়। কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা শরিকদের জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা প্রশমিত হলেও দুর্দিনের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন, চাটুকারিতা এড়িয়ে চলা এবং শরিকদের প্রত্যাশা সামলে ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সামনের দিনে। কেননা, নৈশভোজে অংশ নেওয়া কোনো কোনো শরিক দলের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। রাজপথে যাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান বা সাংগঠনিক সামর্থ্য নেই, তারাও অবাস্তব পদ-পদবির আবদার করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তাঁর মতো আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান।

সৈয়দ এহসানুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম মানবাধিকার কমিশন ‘লাইফ সাপোর্টে’। খবরে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, কার্যকর, স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য সংস্কার ও গতিশীল করার তাগিদ ছিল, তার একটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্তের বলি এই প্রতিষ্ঠান এখনো মুমূর্ষু অবস্থায় ‘লাইফ সাপার্টে’ রয়েছে। কমিশনের মানবাধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রম গত ২১ মাস ধরে বন্ধ। দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কিছু কাজ ছাড়া বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। এই অনিশ্চয়তা কবে কাটবে, তাও কেউ বলতে পারছেন না।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ করে। প্রতিষ্ঠার পর এই কমিশন সবচেয়ে বেশি সময় (১৫ বছর) ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তখন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নেতিবাচক আলোচনা ও সমালোচনায় নিমজ্জিত ছিল কমিশন। আইনি সীমাবদ্ধতায় অনেকটা কাগুজে বাঘ হয়ে তাদের চলতে হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা না থাকায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ এই সময়ে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সরকার এসেছে, তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তবে একটি কার্যকর ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এখনো স্বপ্ন হয়েই আছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর মানবাধিকার কমিশনের তখনকার চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের মাধ্যমে কমিশন ভেঙে যায়। তখন কমিশনে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল ৫৪৮টি অভিযোগ। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর থেকে গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মানবাধিকার কমিশনে প্রতিকারের জন্য অভিযোগ কিংবা আবেদন জমা পড়েছে ৮২৭টি। সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৭৫ অভিযোগ এ মুহূর্তে জমা থাকলেও কমিশন কিছুই করতে পারছে না।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আসেন। তবে প্রতিকারের আশ্বাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। সবার অভিযোগ নথিভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু কমিশন পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই।’ আওয়ামী লীগ আমলের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৭ নভেম্বর তিনি এবং কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ’ জারি করে তখনকার অন্তর্বতী সরকার। এতে আগের আইনে আমূল পরিবর্তন এনে প্রতিষ্ঠানটিকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করা হয়। অধ্যাদেশে কোনো সরকারি কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীসহ যেকোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা পায় কমিশন। তদন্ত চলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী আদেশে আইনানুগ ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণের সুযোগও রাখা হয়। পাশাপাশি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রহিত করা হয় অধ্যাদেশে। এমনকি আগের আইনে কমিশন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে অবমুক্ত করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে বাছাই কমিটির মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তার নেতৃত্বে কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত আরও তিনজন কমিশনার গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পেয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কমিশনকে বাস্তবে স্বাধীন করার পদক্ষেপের প্রশংসা করেন মানবাধিকার কর্মীরা। তবে সেই উচ্ছ্বাস মিলিয়ে যেতে দেরি হয়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘দেশে ভারতের বাণিজ্যে ধস’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও স্বাভাবিক হচ্ছে না বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। এখনো কাটছে না রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মাঠপর্যায়ের শুল্ক স্টেশন থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায়-সবখানেই যেন দুই দেশের মধ্যে অনাস্থার অদৃশ্য দেয়াল! এই ‘অলিখিত’ বাধা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নেমেছে। গত পাঁচ বছরে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এ বাণিজ্য ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাণিজ্য কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। অপরদিকে শুধু গত এক বছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলে যে ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার বড় প্রমাণ হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের আমদানি-রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, ভারত যেমন বাংলাদেশের মতো বড় বাজার হারাচ্ছে, তেমনই ভারতের মতো সম্ভাবনাময় বাজারে রপ্তানি কমছে বাংলাদেশের। এখানে দেখতে হবে, এ বাণিজ্য হ্রাসের কারণে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি কতটা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই চিফ ইকোনমিস্ট বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করত রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে এখন তা বিকল্প গন্তব্য থেকে আনা হচ্ছে। বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে যদি ভারতের চেয়ে বেশি দাম দিতে হয় তবে বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। দুয়েক বছরের পরিসংখ্যানে এ ক্ষতি খুব বেশি স্পষ্ট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি আমদানি ব্যয় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও বাড়িয়ে দেবে। এখন পারস্পরিক স্বার্থেই রাজনীতিকে দূরে রেখে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে গত ৪ বছর ধরে বৈঠক হয় না সচিব পর্যায়ের। সাড়ে ৩ বছর ধরে বাণিজ্য সম্পর্কিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) চুক্তি এবং ভারত থেকে চাল, গম, পিঁয়াজ, ডালসহ নিত্যপণ্য আমদানিতে এমওইউ স্বাক্ষরের আলোচনাও অলিখিতভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বর্ডার হাটের কার্যক্রম। স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রয়েছে বিধিনিষেধ। এমনকি ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রানশিপম্যান্ট সুবিধাও বাতিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে।

দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ভারতের অর্থবছরের হিসাব হয় ১ এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত। ফলে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানির যে চিত্র তা আসলে গত মার্চ পর্যন্ত এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয়পক্ষ বাণিজ্য বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন