মাদারীপুরে গৃহবধূ লামিয়া আক্তার (২৫) আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় শ^শুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে বাগেরহাট জেলার রামপাল এলাকার আত্মীয়ের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ লামিয়ার শ^শুর খোকন বেপারী (৫০), দুই ননদ রিংকি আক্তার (২৫) ও লিমা আক্তার (২৮)। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার রাজারহাট মিয়াকান্দি এলাকায়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ৩ বছর পূর্বে রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের হাসানকান্দি গ্রামের বশার শেখের মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সদর উপজেলার রাজারহাট মিয়াকান্দি এলাকার ইতালি প্রবাসী আরিফ বেপারীর। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকতো। বেশ কিছুদিন ধরে আরিফ পরকীয়ায় আসক্ত হলে বিষয়টি টের পায় লামিয়া।
প্রতিবাদ করলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আরিফ। শুরু হয় লামিয়ার ওপর নির্যাতন। অপমান সইতে না পেরে শেষমেশ গত ১৩ই জুলাই বিষাক্ত চেতনানাশক পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই গৃহবধূ। পরে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই লামিয়াকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। ঘটনার দুইদিন পর ১৫ই জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় লামিয়ার। এ ঘটনায় নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে আরিফ বেপারীসহ ৫ জনের নামে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরিফের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লামিয়ার শ^শুর ও দুইজনকে। পরে তিনজনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, লামিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকেও ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।
