২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে তার পরিবেশনা কোটি কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছে। এর পর থেকেই বিভিন্ন মিউজিক চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে আছেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর শাকিরা সামাজিক মাধ্যমে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে বিয়োন্সে, জে-জেড, ডেভিড বেকহ্যাম, টম ক্রুজ, আনিয়া টেলর-জয় এবং বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ (জে-লো) বিশ্বকাপের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে চাইলেও সেই সুযোগ পাননি। গত সপ্তাহে ইতালির সিসিলিতে ডলচে অ্যান্ড গাবানার একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন তিনি, যা বিশ্বকাপের মঞ্চের তুলনায় অনেক ছোট আয়োজন ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে পারফর্ম করার পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আশা করেছিলেন জে-লো। একই সময়ে তার নতুন সিনেমা ‘কিস অব দ্য স্পাইডার ওম্যান’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। সংগীত অঙ্গনের এক সূত্রের ভাষ্য, সুপার বোলে জে-লো শাকিরাকে প্রায় ব্যাকআপ শিল্পী হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সময় বদলে গেছে। এবার বিশ্বমঞ্চে আলো কেড়ে নিয়েছেন শাকিরাই।
সুপার বোল থেকেই গুঞ্জনের শুরু
শাকিরা ও জেনিফার লোপেজের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের গুঞ্জন প্রথম ছড়ায় ২০২০ সালের সুপার বোল হাফটাইম শো ঘিরে। সেই অনুষ্ঠানে দু’জনকে যৌথভাবে পারফর্ম করার জন্য বেছে নেয়া হয়েছিল। শাকিরা গেয়েছিলেন ‘হোয়ারএভার, হোয়ারএভার’ ও ‘হিপস ডোন্ট লাই’। আর জে-লো পরিবেশন করেন ‘অন দ্য ফ্লোর’ ও ‘নাল ডোন্ট কস্ট এ থিং’। অনুষ্ঠানটি ব্যাপক প্রশংসা পেলেও পরে ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারি ‘হাফটাইম’-এ জেনিফার লোপেজ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি যৌথ পরিবেশনাকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ধারণা বলে মন্তব্য করেন। তার ম্যানেজার বেনি মেডিনা বলেছিলেন, যে কাজ একজন শিল্পী ঐতিহাসিকভাবে করে এসেছেন, সেখানে দুই লাতিন শিল্পীকে দরকার বলা অপমানজনক।
অন্যদিকে শাকিরা প্রকাশ্যে কখনো সমালোচনা না করলেও স্বীকার করেছিলেন যে, অনুষ্ঠানটি প্রস্তুত করা সহজ ছিল না। তার ভাষায়, এটি সহজ কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। এর পেছনে ছিল অনেক পরিশ্রম, অনেক চাপ। তবে এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
বিশ্বকাপের গানেই নতুন রেকর্ড
বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে শাকিরার গাওয়া ‘দাই দাই’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফাইনালে গানটি পরিবেশনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি স্পটিফাই চার্টের শীর্ষে উঠে আসে এবং শাকিরার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্ট্রিমিং দিনের রেকর্ড গড়ে। শাকিরা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘দাই দাই’ গান থেকে পাওয়া সব রয়্যালটি ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে দান করবেন। একজন সংগীত বিশ্লেষক বলেন, শাকিরার পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। তিনি বিশ্বের প্রায় সব বড় মিউজিক চার্টে আধিপত্য বিস্তার করছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় পেরিয়ে সাফল্য
২০২২ সালে দীর্ঘ ১১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন শাকিরা ও সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার জেরার্ড পিকে। বিচ্ছেদের পর শাকিরা আর্জেন্টাইন প্রযোজক বিজারাপ-এর সঙ্গে একটি আলোচিত গান প্রকাশ করেন, যেখানে পিকে ও তার নতুন সঙ্গীকে কটাক্ষ করা হয়। গানের একটি বহুল আলোচিত লাইনে তিনি গেয়েছিলেন- ‘তুমি একটি ফেরারির বদলে একটি টুইঙ্গো বেছে নিয়েছ, একটি রোলেক্সের বদলে একটি ক্যাসিও।’ আরও একটি লাইনে তিনি বলেন, ‘নারীরা এখন আর কাঁদে না, তারা অর্থ উপার্জন করে।’ গানটি একাধিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে এবং শাকিরার ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দেয়।
জে-লোর কঠিন সময়
অন্যদিকে জেনিফার লোপেজের সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা সুখকর নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দুর্বল টিকিট বিক্রির কারণে তাকে ‘দিস ইজ মি...লাইভ’ সফর বাতিল করতে হয়। এছাড়া সাবেক প্রেমিক বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে পুনর্মিলন, বিয়ে এবং পরে বিচ্ছেদও ব্যাপক আলোচিত হয়। তার সাম্প্রতিক কয়েকটি সিনেমাও বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। যদিও তার ‘জে লো বিউটি’-সহ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এখনো তাকে বিনোদন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ধরে রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন শাকিরা। তবে জেনিফার লোপেজের অতীতের প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে তাকে হলিউড থেকে বিদায় বলে দেয়াও এখনই ঠিক হবে না।
