উগ্র ডানপন্থিদের উত্থানের মধ্য দিয়ে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় দুটি রাজ্য মেললেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমারানিয়া এবং বার্লিনে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হচ্ছে আজ রোববার। একই সঙ্গে বার্লিনের স্থানীয় পরিষদের সদস্যও নির্বাচন করছেন ভোটাররা। এই নির্বাচনই চ্যান্সেলর ফ্রেড্রিক মের্ৎসের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে। এমনিতেই তার সমর্থন রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দুটি রাজ্যের নির্বাচনেরই এবার প্রথমবারের মতো ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বৈধ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উভয় রাজ্যেই উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দল জয় পেতে পারে।
তবে তারা সরকারের সঙ্গে জোটে যোগ দেবে বলে মনে হয় না। এর আগে স্যাক্সোনি-আনহাল্ট রাজ্যে দু’সপ্তাহ আগে আঞ্চলিক ভোটে ক্রেমলিনপন্থি, অভিবাসনবিরোধী এএফডি সর্বোচ্চ ভাল ফল করে। তার দু’সপ্তাহ পর রোববারের নির্বাচনে রক্ষণশীল মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) কাছ থেকে বড় মাত্রায় সমর্থন কেড়ে নেবে বলে বলা হয়। এর ফলে মাত্র ১৬ মাস ক্ষমতায় থাকা চ্যান্সেলর ফ্রেড্রিক মের্ৎসের নেতৃত্ব ধরে রাখার সক্ষমতাকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। রোববারের নির্বাচনে যদি মের্ৎসের দল পরাজিত হয় তাহলে তার নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়ার দাবি উঠতে পারে। এমনকি তা আগাম নির্বাচনের আহ্বানও উঠতে পারে। রাজধানী বার্লিনে বৈধ ভোটার প্রায় ২৫ লাখ। অন্যদিকে বাল্টিক উপসাগরীয় রাজ্য মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়াতে বৈধ ভোটার প্রায় ১৩ লাখ। স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় তা শেষ হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, কোনো কোনো মহল থেকে চ্যান্সেলরের পদত্যাগের আহ্বান জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সেই আহ্বানকে উড়িয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে পরিবর্তন আনার প্যাকেজ সামনে নিয়ে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, জার্মানির ভবিষ্যতের জন্য এ দুটি প্যাকেজ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার হিসেবে আমরা চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। তাই এই জটিল সময় কাটিয়ে দেশকে চার বছর নেতৃত্ব দিতে চাই আমি। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১০ ভাগে। এমন অবস্থায় তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। সরকারি এক কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনের পর বার্লিনে তার উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।
