৫ মাস জেল খেটে জামিন পেলেন কথিত বাংলাদেশি তরুণী
ছবি: সংগৃহীত

৫ মাস জেল খেটে জামিন পেলেন কথিত বাংলাদেশি তরুণী

ফন্ট সাইজ:

গত বছর ২৪শে আগস্ট ১৯ বছর বয়সী জবারাণী সরকারকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী অভিযোগে কোচবিহার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে। কারণ পুলিশ জানায় তদন্ত শেষ হয়েছে এবং জবরাণী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে আরও বলা হয়, জবারাণীর দুর্ভোগ শুরু হয়েছিল আরও আগে। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বাসিন্দা জবারাণীর পিতা ২০০৭ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ছয় মাস, তাকে নিয়ে ভারতে চলে যান। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে তার কাকার বাড়িতে রেখে আসেন। জবারাণী বলেন, আমার বাবা মনে করেছিলেন বাংলাদেশে নিরাপদ নই, তাই আমাকে কাকার বাড়িতে রেখে যান।

২০২৫ সালে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে জবারাণীর বিয়ে হয় শীতলকুচির বাসিন্দা দেবাশিস সরকারের সঙ্গে। কিন্তু আগস্টের শেষ দিকে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। জবারাণীর বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয় এবং দেবাশিসকে অবৈধ বাংলাদেশিকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাস পর দেবাশিস জামিন পান।
জাবরাণী জেলে থাকাকালীন তার স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে তার মুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তিনি সিএএ’র অধীনে স্ত্রীর ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন এবং কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে জামিনের আবেদন জানান। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তার আদেশে বলেন, আবেদনকারী সহ-অভিযুক্ত দেবাশিস সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারার অধীনে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছেন। আবেদনটি বিচারাধীন। চার্জশিট জমা হয়েছে। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার আর আটক থাকা প্রয়োজন নেই। তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া যেতে পারে।

তবে তিনি এখনও ভারতীয় নাগরিক নন, এই কারণে আদালত বিশেষ জামিন শর্ত আরোপ করেন। আদালত নির্দেশ দেয়, মাথাভাঙার এসিজেএম আদালতের সন্তুষ্টির জন্য তাকে ১০,০০০ টাকার বন্ড এবং সমপরিমাণ রুপির দু’জন জামিনদার (যাদের মধ্যে একজন স্থানীয় হতে হবে) দিতে হবে।
দেবাশিসের জামিনের বন্ডের ব্যবস্থা করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগে। তিনি বলেন, এতদিন পর তাকে বাড়িতে দেখতে খুব ভালো লাগছে। জবরাণীর আইনজীবী শুভঙ্কর দত্ত বলেন, জবারাণী এখন জামিনে মুক্ত। আমরা শিগগিরই মামলাটি খারিজের আবেদন করব। সিএএ স্পষ্টভাবে বলছে, ভারতে প্রবেশের কাট-অফ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪। এই তারিখের আগে এলে বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ভারতে থাকার সুযোগ রয়েছে।

অয়েনাল

৩ মাস আগে

হিন্দুরা বাংলাদেশে শান্তিত থাক্যের পর ও ভারতের গুন গানে গায়

মন্তব্য করুন