ডোমার পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ‘বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী দল’

ফন্ট সাইজ:

পতিত আওয়ামী লীগের এমপি ও সাবেক ওসি’র বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার করা একটি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে ডোমার থানা পুলিশ। ওই রিপোর্টে বিএনপি-জামায়াত এবং উভয় দলের নেতাকর্মীদের নাশকতাকারী ও সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আসামি পলাতক আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি ও ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে বাঁচাতে পুলিশ আদালতে এই তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা, হামলা, নির্যাতন, চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩রা অক্টোবর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন নীলফামারী-১ আসনের সাবেক এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার ও তৎকালীন ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ডোমার থানা পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডোমার থানার এসআই মানিকুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মাসুদ বিন আমিন সুমন বিএনপি’র ডোমার উপজেলা শাখার নেতা। মোয়াজ্জেম হোসেন ডোমার থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বিগত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দেশব্যাপী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াত-বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক নাশকতা চালায়। এ কারণে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। মাসুদ বিন আমিন সুমনসহ বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ, পারভেজ ও রতন আলী মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।

২০১৫ সালের ১৪ই মার্চ অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমনকে গ্রেপ্তার করে। এর ফলে আওয়ামী লীগের এমপি ও ওসি’র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো সত্যতা নেই। সে কারণে সুমনের দায়ের করা মামলা থেকে সাবেক এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার ও তৎকালীন ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মোয়াজ্জেম হোসেন বর্তমানে রাজশাহী র‌্যাব-৫ এ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।

জানা যায়, ২০১৪ সালে ফ্যাসিস্ট আমলে দায়ের করা ভোটকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ২০২৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা আদালত কর্তৃক বেকসুর খালাস পান। ওই মিথ্যা মামলার দু’টির সূত্র ধরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দল হিসেবে জামায়াত-বিএনপি’র বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনে এ পুলিশ কর্মকর্তা। এ তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষর করেছেন ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল্লাহ ও এএসপি নিয়াজ মোর্শেদ এবং পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমন জানান, আওয়ামী লীগের এমপি আফতাব ও ওসি মোয়াজ্জেমকে বাঁচাতে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তাদেরকে বাঁচাতে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তদন্ত অফিসার মানিকুল জানেন। এর বেশি তিনি বলতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে ডোমার থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন অফিসারের কনসার্ন ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন