চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ভাইয়ের দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার তদন্তভার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোকে দেয়া হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ২৯শে এপ্রিল মামলা তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিএমপি’র ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল। মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়। শুনানিকালে বিদায়ী তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অগ্রগতি বিষয়ে আদালতের প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ২৬শে নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত নজিরবিহীন তাণ্ডব, সহিংসতা ও আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন মামলার বাদী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ মামলার এজাহারভুক্ত শতাধিক এবং অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ আসামির কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এ ছাড়া মামলার তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
২০২৪ সালের ২৫শে নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬শে নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেয়ায় বাধা প্রদান করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় অবস্থিত একটি চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
আইনজীবী আলিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯শে নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় তার বাবা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আলিফের ভাই খানে আলম আরেকটি মামলা করেন, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও তিনটি মামলা করে।
