আইসিইউতে লড়ছে যমজ দুই শিশু

হামের পর নিউমোনিয়া

আইসিইউতে লড়ছে যমজ দুই শিশু

ফন্ট সাইজ:

দুই বছর বয়সী যমজ ভাই হাসান আলী ও হোসেন আলী। হামের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কাবু হয়ে পড়েছে। হামের পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে নিউমোনিয়ায়ও। রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ভর্তি রয়েছে হাসান-হোসেন। পাশাপাশি দুই বেডে শুয়ে আছে। কখনো কান্না করছে, কখনো শ্বাস নিতে কষ্ট আবার কখনো ঘুমাচ্ছে। ক’দিন আগেও হাসিকান্না আর দুষ্টুমিতে ঘর মাতিয়ে রাখতো শিশু দু’টি। হামের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুস্থ হয়ে উঠতে পাঁচদিন ধরে একসঙ্গে লড়ে যাচ্ছে এই ছোট্ট দুই প্রাণ। তাদের পাশে নির্ঘুম রাত কাটছে বাবা-মা ও স্বজনদের।

স্বজনরা জানান, প্রথমে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে দানা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার মিরপুরের কালশী থেকে মহাখালী ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে আনা হলে সেখানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি দেয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান নিউমোনিয়া হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় নেয়া হয় আইসিইউতে। বর্তমানে আইসিইউতে তাদের চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, হাম আক্রান্ত শিশুদের কান্না। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুসংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু ভর্তি হচ্ছে। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের দীর্ঘ সারি। শরীরে জ্বর, লাল গোটা-ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া-এসব নিয়েই তারা লড়ছে। হামে আক্রান্ত এসব শিশুর পাশে বসে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসায় অনেককেই বাঁচানো যাচ্ছে না। এসব রোগীর কেউ কেউ সন্তানদের চিকিৎসার জন্য কয়েক হাসপাতালও ঘুরেছেন। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ছোটাছুটি আর চিকিৎসকদের ব্যস্ততায় যেন এক আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠেছে সেখানে।

শিশু হাসান-হোসেনের মা সোমা বেগম বলেন, দুই সন্তানকে একসঙ্গে এভাবে কষ্ট করতে দেখছি, মা হয়ে কীভাবে সহ্য করবো। একজন কাঁদলে আরেকজনও কাঁদছে, সারারাত ঘুম নেই আমাদের চোখে। ঠিকমতো খাওয়া নেই, অনেক কষ্ট হচ্ছে ওদের, সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও। সারারাত জেগে একটা রেখে আরেকটাকে সামলাতে হচ্ছে। তিন-চারজন লোকের এখানে সবসময় থাকতে হচ্ছে। ওদের বাবারও কাজ বন্ধ রেখেছে। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে আতঙ্কের। ওদের বাবার অল্প আয় দিয়ে সংসার কোনো মতে চালাতে হয়। এরমধ্যে যমজ দুই সন্তানের অনেক খরচ। এই প্রথম সন্তান আমাদের। পৃথিবীতে আসার পর থেকে অনেক কষ্ট করে ওদের বড় করতে হচ্ছে। শুধু চাই, আমাদের দুই সন্তান সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো হাসুক।

এই যমজ দুই শিশুর দাদি রোকেয়া বলেন, অনেক কষ্ট হচ্ছে দুইজনকে একসঙ্গে সামলাতে। কবে এই রোগ থেকে মুক্তি পাবে। আমার একমাত্র ছেলের সন্তান এরা। ওর বাবা অনেক কষ্ট করে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। কাজ ফেলে সারাক্ষণ হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। সেলাইন ছাড়া সবকিছু আমাদের কিনতে হচ্ছে।

শিশুদের বাবা হযরত আলী বলেন, আমার কাজ বন্ধ রয়েছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। এদের নিয়ে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। রাজমিস্ত্রির কাজ করে মাসে দশ হাজার টাকার মতো আয় হয়। পরিবারের দুই বাচ্চাসহ ছয়জনের খরচ চালাতে হয়। এই কয়দিন নির্ঘুম সময় কাটছে। কয়েকটা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দেয়া হয়েছে এক সপ্তাহ পরে রিপোর্ট আসবে।

তিনি বলেন, এর আগে শিশু ওয়ার্ডে পাশাপাশি ভর্তি ছিল এখন দুইজনের আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে। নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি সেদিন হাম ধরা পড়েছে, সেটি এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি। একটা রেখে আরেকটি ধরা পড়েছে। আমরাও চিন্তিত হয়ে পড়ছি। অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নিয়েছে সেগুলোর রিপোর্ট এখনো আসেনি। এই দুইজনই আমাদের প্রথম সন্তান, এরা সুস্থ থাকলে আমরাও সুস্থ থাকি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন