প্রথম আলো
‘বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি: বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ভৌগোলিক নৈকট্য, স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং তুলনামূলক কম খরচ—এসব কারণে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল ভারত। ১৬ বছর পর সেই অবস্থান বদলে গেছে। ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র; আর বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন।
এই পরিবর্তন কেবল আমদানি-রপ্তানির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক বিষয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষি, দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক চুক্তি কার্যকর না হলেএ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ভালো মানের পণ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
দেখা গেছে, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। তবে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আমদানি।
অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এই পতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারের। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার বেশি।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটায় এই বৃদ্ধি বেশি। তবে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত বিশেষ শুল্কসুবিধা এখনো কার্যকর হয়নি।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কমার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই দেশের আরোপ করা অশুল্ক বাধায় আমদানি ও রপ্তানি কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের ওপর। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শূন্য শুল্কসুবিধা না থাকলে রপ্তানি আরও কমত।
যেভাবে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল প্রায় ৬৫ কোটি ডলার। স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানিতে বিধিনিষেধের মধ্যে গত অর্থবছরে তা ১২ শতাংশ কমে ৫৭ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ভারত থেকে তুলা আমদানি ৫২ কোটি থেকে ২৩ শতাংশ কমে ৪০ কোটি এবং তুলার সুতা ১৭৫ কোটি থেকে কমে ১৪৭ কোটি ডলার হয়েছে। এ দুই কাঁচামালেই আমদানি কমেছে ৪০ কোটি ডলার।
যুগান্তর
দৈনক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘চক্রের কবজায় এলএনজি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত ছয় মাসে স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ ৩৪ কার্গো এলএনজি কিনেছে। এর মধ্যে ৩১টিই সরবরাহ করেছে মাত্র ৫টি কোম্পানি। আন্তর্জাতিক সূচকের (জেকেএম) চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করে বিলিয়ন ডলারের এই এলএনজি ব্যবসা কার্যত একটি সিন্ডিকেটের কবজায় চলে গেছে। প্রতিযোগিতাহীন এই বাজার থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে প্রতি কার্গোতে ৪০ লাখ ডলারের বেশি গচ্চা দিচ্ছে বাংলাদেশ। অতিরিক্ত এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে স্পট মার্কেটকে নিরুৎসাহিত করে অন্তত ৫টি নতুন কোম্পানির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পথে হাঁটছে সরকার।
এদিকে টানা দেড় মাসের বেশি চলা সংকটের পর সোমবার রাত বা মঙ্গলবার সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ আরও ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি ঘনফুট বাড়াতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা। ২০-২৫ দিনের এলএনজি আমদানি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়ায় শিল্পকারখানায় এই বাড়তি গ্যাস দিতে আগ্রহী সংস্থাটি। তবে কয়লাভিত্তিক আদানি ও আরএনপিএল-এর দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই বাড়তি গ্যাসের বড় অংশ নিজেদের অনুকূলে নিতে আগেভাগেই তদবির শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে ৩৪ কার্গো এলএনজি কিনেছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে টোটাল এনার্জিস সর্বোচ্চ ৯টি, বিপি সিঙ্গাপুর ৭টি, আরামকো ট্রেডিং ৬টি, ভিটল এশিয়া ৫টি, পসকো ইন্টারন্যাশনাল ৪টি, গানভর সিঙ্গাপুর ২টি এবং বিজিএন ইন্টারন্যাশনাল ১টি কার্গো সরবরাহ করেছে। জুলাই পর্যন্ত স্পট ও চুক্তির আওতায় এলএনজি কেনা বাবদ বাংলাদেশকে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ২২৬ ডলার।
স্পট মার্কেট থেকে কার্গো সরবরাহের জন্য ২৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত থাকলেও দরপত্রে অংশ নেয় মাত্র ৫-৬টি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অধিকাংশ কোম্পানির নিজস্ব সক্ষমতা নেই। তাছাড়া বকেয়া বিল পরিশোধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেও অনেক কোম্পানি অংশ নেয় না। যেমন: ২০২৩ সালে কার্গো সরবরাহ করে সময়মতো বিল পায়নি জাপানের জেরা। এসব কারণে স্পট মার্কেটে প্রতিযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশকে জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কার) সূচকের চেয়ে ১ থেকে ২ ডলার বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য স্পট মার্কেটের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার, অথচ তখন জেকেএম মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। এতে এক কার্গোতেই সরকারকে ৯০ লাখ ডলারের বেশি অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। একইভাবে ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য ভিটল এশিয়া দর দিয়েছে ২৬ দশমিক ৬৬ ডলার, যেখানে জেকেএম-এর দর প্রায় ২৫ ডলার। মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে ৯ সেপ্টেম্বর ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অক্টোবরের জন্য প্রস্তাবিত দুটি কার্গোর অনুমোদন দেয়নি।
স্বল্পমেয়াদি চুক্তির চেষ্টা: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্পট মার্কেটে টোটাল এনার্জিস জেকেএম-এর চেয়ে ২ ডলার বেশি দাম নিলেও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে মাত্র ৬ সেন্ট প্রিমিয়ামে ১৮টি কার্গো দিতে সম্মত হয়েছে। এ কারণে সরকার এখন স্পট থেকে সরে চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে কাতার এনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং, এক্সিলারেট এনার্জি, আরামকোসহ ৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইআরএস, সুইজারল্যান্ডের ট্রাফিগুরা, বিপি, অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড এনার্জি এবং জাপানের জেরার সঙ্গে আগামী জুন পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে পেট্রোবাংলা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কাতার ও ওমান তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মিত কার্গো সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘প্রশাসনের শৈথিল্য দেখছে বিএনপি’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হঠাৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় মিছিলের ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার যথেষ্ট নজরদারি থাকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দলের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগ তৈরি হতো না।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা অবশ্য মনে করছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আরো সুসংগঠিত ও সক্রিয় করতে হবে।
দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত থাকার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। দলটির একজন নেতা মনে করেন, তাঁদের সাংগঠনিক শক্তি যথেষ্ট রয়েছে। তবে প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের সংগঠনকে মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে হবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপির অনেক পরিচিত নেতা আগের মতো মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারছেন না। কেন্দ্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতাদের ওপর কাজের চাপ বাড়ায় কোথাও কোথাও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কথাও বলছেন কেউ কেউ। তাঁদের আশঙ্কা, এই সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আবার নিজেদের অবস্থান তৈরির অপচেষ্টা করতে পারে।
বিএনপির ভেতরে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী মহল ও স্থানীয় বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের নতুন অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন।
কেউ কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে নজরদারি করছেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিএনপির কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনৈতিক যোগাযোগ করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের একটি বিশেষ টিমের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে এসংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কিভাবে দেখছে বিএনপি—এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, সবাই সজাগ থাকলে এটা হতো না। একটা সুযোগ নিয়ে তারা ঝটিকা মিছিল করেছে। তাদের (প্রশাসনের) সজাগ থাকা উচিত। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন, আদালতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। এই ফ্যাসিবাদের যদি আবার উত্থান হয়, তাহলে কেউ বাঁচতে পারবে? কেউ বাঁচতে পারবে না।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে ২২%, বাড়ছে জ্বালানি খরচ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকট সামাল দিতে গিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। আগস্টে ডিজেল বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। আসছে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে আন্তর্জাতিক নৌপথে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ডিজেল নিয়েও সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ প্রায় বন্ধ। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র লাইফলাইন এই বাব আল-মান্দেব। এটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গত বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২৩২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস থেকে ১৬২ কোটি এবং এলএনজি থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট এসেছে। অথচ মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমছে। এলএনজি সরবরাহে এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বাজারে।
চুক্তির বেশির ভাগ এলএনজি আসেনি
বাংলাদেশের সঙ্গে চার দেশের এলএনজি আমদানির আটটি চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় চলতি বছর ১০৩টি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে বছরের প্রথম ৯ মাসে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২১টি। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ৮৬টি কার্গোর বিপরীতে আগস্ট পর্যন্ত এসেছে ১৩টি। আর স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ১৭টি কার্গোর মধ্যে দেশে পৌঁছেছে মাত্র চারটি।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ৪৭টি কার্গোর সরবরাহ বাতিল হয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহকারীরা এসব চালান পাঠাতে পারছে না। ফলে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি থেকে এলএনজি কেনার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে। একই কার্গো সংগ্রহে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে আমদানির খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে কাতারের ওপর নির্ভরতা বেশ বেশি। গত বছর দেশে আসা মোট এলএনজির প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল কাতার থেকে। আটটি চুক্তির ছয়টির সরবরাহের প্রধান উৎসও দেশটি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়েছে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
বিশ্বের এলএনজি বাজারও সীমিত সংখ্যক উৎপাদনকারী দেশের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বড় কোনো উৎপাদনকারী দেশে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘ সময় পরিবহন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে। এদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহে সক্রিয় হওয়ায় একই কার্গো কেনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে
ইত্তেফাক
‘বিদ্যুতে চতুর্মুখী সংকট স্থবির শিল্প উত্পাদন’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্যাস ও কয়লার ঘাটতিতে আগে থেকেই চাপে দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদন। এর মধ্যে কারিগরি ত্রুটিতে ভারতের আদানি বিদ্যুেকন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়েছে। পায়রাসহ কয়েকটি দেশীয় কয়লাকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। বিকল্প হিসেবে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ফার্নেস তেলের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম। আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম আবার ব্যারেল-প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে।
সংকটের এই বহুমুখী চাপে স্থাপিত সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় উত্পাদন ও আমদানি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৪৫৬ মেগাওয়াট। এ সময়ে সাবস্টেশন প্রান্তে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮০৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩১ মেগাওয়াট। অর্থাত্ লোডশেডিং হয়েছে ৭৭৭ মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে দেশে স্থাপিত উত্পাদন ও আমদানি সক্ষমতা ২৮ হাজার ৮৪৩ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) দৈনিক প্রতিবেদন ও গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ভারত থেকে পূর্বাভাস অনুযায়ী বিদ্যুত্ না আসায় সরবরাহে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টায় ভারত থেকে ২ হাজার ৫০৩ মেগাওয়াট পাওয়ার পূর্বাভাস ছিল। প্রকৃত আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৬৬৪ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল আদানির ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে। এ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৩৬ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা ছিল। এসেছে ৭৫২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৬৮৪ মেগাওয়াট।
ভেড়ামারার ভারত-বাংলাদেশ এইচভিডিসি আন্তঃসংযোগ দিয়ে ১ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে এসেছে ৯২৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৭১ মেগাওয়াট। তবে ত্রিপুরা থেকে পূর্বাভাসের ৬৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া গেছে ১৫৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে বিকাল ৪টায় মোট উত্পাদন ও আমদানির প্রায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। পিজিসিবির হিসাবে আমদানি সক্ষমতা ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া গেছে সক্ষমতার প্রায় ৬৯ শতাংশ। নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট আমদানির সক্ষমতা থাকলেও সাম্প্রতিক ঢলে ক্ষতির পর সেখান থেকে বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদিনই আমদানিতে ঘাটতি ছিল।
আদানির এক ইউনিটে ত্রুটি
পিডিবির একটি সূত্র জানায়, আদানির কেন্দ্রটি কয়েক দিন কয়লা ঘাটতিতে ছিল। কিন্তু কয়লার সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় আদানির উত্পাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সরবরাহ প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল আদানির সরবরাহ দিনভর ৭৫২ থেকে ৭৬৭ মেগাওয়াটে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
ঐ ইউনিটটির বয়লার ফিড পাম্পে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করা হয়। মেরামতের আগে ইউনিট ঠান্ডা হতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। উত্পাদনে ফিরতে আরো কয়েক দিন প্রয়োজন হতে পারে। তবে চলতি সপ্তাহেই ইউনিটটি আবার চালু হবে বলে আশা করছে পিডিবি।
মধ্যরাতে ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় সাবস্টেশন প্রান্তে চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ৭৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮৮২ মেগাওয়াট। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ কমে ১৩ হাজার ৯২৩ মেগাওয়াটে নামে। লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২১ মেগাওয়াট। ঐ সময় মোট চাহিদার প্রায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ করা যায়নি। রাত ২টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৫৯১ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ১ হাজার ১৫ এবং রাত ৪টায় ৯৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ১০টায় লোডশেডিং ছিল ১২০ এবং ১১টায় ১১২ মেগাওয়াট। দুপুর ১২টার পিক সময়ে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫৪৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৭২ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২৭৩ মেগাওয়াট। দুপুরের পর আবার ঘাটতি বাড়ে। দুপুর ১টায় লোডশেডিং ছিল ৩৪৯ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ৩৩৬, বিকাল ৩টায় ৬৫০ এবং বিকাল ৪টায় তা বেড়ে ৭৭৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তবে লোডশেডিংয়ে এ তথ্য সাবস্টেশন পর্যায়ের। গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরো বেশি ছিল।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘গলার কাঁটা আদানির বিদ্যুৎ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত আদানির বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও এর কাঠামোগত শর্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ সরকারি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আদানির বিদ্যুতের মূল্য নিকটতম বেসরকারি প্রতিযোগীর তুলনায় ৩৯.৭ শতাংশ বেশি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ যে মূল্য পরিশোধ করছে, তা যৌক্তিক বাজার দরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। কমিটির হিসাবে, এ অতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ ইউনিটভিত্তিক হিসাব অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানির কাছ থেকে প্রায় ৮.১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ছিল ১৪ টাকা ৮৭ পয়সা, যার ফলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একই সময়ে ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের গড় মূল্য ছিল প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অর্থাৎ, আদানির বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম অন্যান্য ভারতীয় উৎসের তুলনায় পাঁচ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি ছিল।
এক বছরেই বাড়তি ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি: ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আদানির কাছ থেকে নেয়া ৮.১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুতের জন্য যদি ভারতের অন্যান্য সরবরাহকারীদের গড় ৯ টাকা ৫৭ পয়সা দরে মূল্য পরিশোধ করা হতো, তবে মোট ব্যয় হতো প্রায় সাত হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদানির ক্ষেত্রে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
ফলে শুধু ওই অর্থবছরেই অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে পরবর্তী বছরগুলোর সরবরাহ, কয়লার দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে না থাকায় এ অঙ্ককে পুরো চুক্তির মেয়াদের একমাত্র পরিমাপক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আদানিকে দেয়া অর্থে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট করা যেত ২,১০০ মেগাওয়াট : আদানির বিদ্যুতের উচ্চমূল্য নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে- এ পর্যন্ত আদানি পাওয়ারকে পরিশোধিত বিপুল অর্থ যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তবে কী পরিমাণ সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব ছিল?
২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাব: আদানিকে পরিশোধিত ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়ে ইউটিলিটি-স্কেল সোলার প্রকল্পের আনুমানিক মূলধনী ব্যয় (প্রতি মেগাওয়াটে ছয় থেকে আট লাখ মার্কিন ডলার) বিবেচনায় প্রায় এক হাজার ২৪০ থেকে এক হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট (১,২৪০-১,৬৫০ মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব হতো। এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ পাওয়া যেন কোনো উপকরণ খরচ ছাড়াই।
বকেয়া পরিশোধের অর্থসহ হিসাব: ২০২৫ সালের জুনে পরিশোধিত ৪৩৭ মিলিয়ন ডলারসহ (প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকা) মোট ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ধরলে সম্ভাব্য সক্ষমতা ১,৮০০ থেকে ২,৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে। যার গড় দাঁড়ায় ২১০০ মেগাওয়াট।
সৌর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনামূলক ব্যবধান
এ তুলনাটি মূলত মূলধনী বিনিয়োগের সম্ভাবনা বোঝানোর জন্য। সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতা এবং কয়লাভিত্তিক ১ মেগাওয়াট কেন্দ্রের বাস্তব বার্ষিক উৎপাদন এক নয়। সৌরকেন্দ্র সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর ক্যাপাসিটি ফ্যাক্টর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম। অন্য দিকে আদানির গড্ডা কেন্দ্র ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে শুধু স্থাপিত মেগাওয়াট দিয়ে সরাসরি তুলনা করা ঠিক না হলেও, এ হিসাবটি বাংলাদেশের জ্বালানি বিনিয়োগের সুযোগ-ব্যয়ের প্রশ্নটিকে জোরালোভাবে সামনে আনে। সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর কয়লা বা গ্যাস আমদানির প্রয়োজন হয় না বিধায় এর পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামার ঝুঁঁকিও কম থাকে।
জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির গুরুতর অভিযোগ ও কাঠামোগত ত্রুটি
জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির ২০২৬ সালের মূল্যায়নে আদানির বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি এবং নিকটতম বেসরকারি প্রতিযোগীর তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির হিসাবে এ অতিরিক্ত মূল্য বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৪০০-৫০০ মিলিয়ন ডলার বাড়তি ব্যয়ের মুখে ফেলতে পারে। এ হিসাবে আদানি চুক্তির মূল্য শুধু আজকের বিদ্যুৎ বিলের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও জ্বালানি নিরাপত্তার সাথেও যুক্ত।
বণিক বার্তা
‘এভিয়েশন খাতে ৪২ বছরের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বিধি পরিবর্তন করছে সরকার’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা।
দেশের এভিয়েশন খাতে গত ৪২ বছরে যেসব নিয়ম ও বিধিবিধান অংশীজনদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে, সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ১৯৮৪ সালের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি সংশোধন করে নতুন বিধি তৈরি করা হচ্ছে। নতুন বিধিতে যাত্রীসেবার মান উন্নত করাকে যেমন প্রাধান্য দেয়া হবে, তেমনি বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে। বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গতকাল রাজধানীর কুর্মিটোলায় ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে এ পলিসি কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আজকের অনুষ্ঠান পলিসি নিয়ে তাই আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে প্রায় ৪২ বছর পরে আমরা সিভিল এভিয়েশন রুলস ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস ২০২৬ প্রণয়ন করছি। আমাদের নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।’
বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এয়ারএশিয়া ও কুয়েত এয়ারলাইনসের জেনারেল সেলস এজেন্ট টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের (টিএএস) চেয়ারম্যান কেএম মুজিবুল হক। অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
কনক্লেভে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কান্ট্রি ম্যানেজার ও প্রতিনিধি, জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যাংকার, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের এভিয়েশন খাতের বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার, আগামীর করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা। এ অগ্রযাত্রায় এভিয়েশন খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিমানবন্দরগুলো দেশের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো। তাই এ আয়নাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নে আমরা এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি।’
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইনসের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানের জটিল যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত-ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘অনলাইন প্রতারণা: বিদেশি চক্রের আস্তানা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পযর্টন শহর কক্সবাজারের নির্জন রিসোর্টের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত এলাকা খুলশীর ভবনে আস্তানা গেড়েছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দুই এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬৯ বিদেশিকে এই আস্তানা তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশি সদস্যরা। বিদেশি এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাঁদের নিরাপদ অবস্থান হিসেবে কেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছিলেন, তা জানতে বাংলাদেশি দুই হোতাকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অনলাইন প্রতারণায় জড়িত অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ৬৩ এবং কক্সবাজারে ৬ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল ডিভাইস জব্দ করা হয়। এমনকি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষেরও ব্যবস্থা ছিল এই চক্রের।
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ২০ নারীসহ ৬৩ বিদেশি ‘মহসীন’ নামে এক বাংলাদেশির সহায়তায় সেখানে এসেছেন বলে পুলিশ জানায়। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে মূলত তাঁরা জুনে দেশে আসার পর ঢাকায় দুই দিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামে এসে খুলশী এলাকায় ঘাঁটি গাড়েন।
পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ)। তবে তদন্তের স্বার্থে মহসীনের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি সংস্থাটি। সিটিইউ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে পারলে দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসা আন্তর্জাতিক এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
খুলশীর আস্তানা
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ও পরদিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের ৮ তলা একটি ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে সিটিইউ ও খুলশী থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন ও চীনের ৫ জন এবং ভিয়েতনাম ও নেপালের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, ৪টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়ত্রসহ বেশ কিছু ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলশী থানায় হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাসেল মাহমুদ।
মামলাটির তদন্ত সংস্থা সিটিইউ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, বিদেশি নাগরিকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিক ছাড়া গ্রেপ্তার বাকিরা কেউই নিজ দেশের ভাষা ছাড়া ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষা বুঝছেন না। তাঁদের কারোর কাছে পাসপোর্টও পাওয়া যায়নি। এতে করে তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে দোভাষী নিয়োগের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানায় সিটিইউ।
তবে কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিক সিটিইউকে জানিয়েছেন, জুনে তাঁরা বাংলাদেশে এসেছেন। মহসীন নামে এক ব্যক্তি তাঁদের নিয়ে এসেছেন। তাঁদের সবার পাসপোর্ট ওই ব্যক্তির কাছে রাখা আছে।
সিটিইউ সদস্যরা জানান, ওই বিদেশিরা মূলত সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য। নিজ নিজ দেশে অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের নেটওয়ার্কের সদস্যরা রয়েছে।
সিটিইউ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার বিদেশিরা অনলাইনভিত্তিক কী ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছ থেকে কিছু জানা যায়নি। উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
খুলশীর যে আবাসিক ভবনে ৬৩ বিদেশি আস্তানা গেড়েছিলেন, সেই ভবনের মালিক দুবাইপ্রবাসী। বাসায় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া পায়নি। কেয়ারটেকার মো. ইলিয়াস জানান, ভবন থেকে বিদেশিদের গ্রেপ্তার করার পর পুরো ভবনের দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ।
দেশ রূপান্তর
‘রাজনৈতিক’ অবসরে মানবিক সংকট—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিসিএস ১৭তম ব্যাচের পুলিশ ক্যাডারের এক উপমহাপরিদর্শক চাকরি হারান মাস চারেক আগে। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। সততা ও পেশাদারত্ব নিয়ে পুলিশে তার বেশ সুনাম আছে। কিন্তু আওয়ামী ঘরানার পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক’ থাকায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। যদিও অবসরের কথা জানেন না তার সন্তানরা। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি প্রতিদিন আগের মতোই অফিস সময়ে বাসা থেকে বের হয়ে ফেরেন রাতে। তা ছাড়া সংসার চালাতে একটি প্রাইভেট কোম্পনিতে অল্প বেতনের চাকরি নিয়েছেন। প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও মিলছে না সাড়া। তার মতো এভাবে অবসরে যাওয়া অনেকেই পারিবারিক, সামাজিক সংকটে আছেন। এমনকি তারা পরিচয় সংকটেও পড়েছেন।
একইভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকেও ‘রাজনৈতিক তকমা’ লাগিয়ে অবসরের পাঠনো হয়। তারাও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। অবসরে যাওয়া দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছি না। আমাদের যে পাওনা, সেটি কেন দেওয়া হচ্ছে না। আবেদন করার পরও যদি কোনো সমস্যা থাকে তাও জানানো হচ্ছে না। চাকরি হারিয়ে খুব কষ্টে আছি। স্ত্রী ছাড়া সন্তানরাও জানেন না এখন তাদের চাকরি নেই। প্রাইভেট কোম্পানিতে কেউ কেউ চাকরি করছেন। পেশাদারত্ব নিয়ে চাকরি করেছেন অনেকে। আওয়ামী লীগ সরকারও বিএনপির রাজনীতি করার দোহাই দিয়ে অনেক ভালো অফিসারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। একই কাজ করেছেন ড. ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বর্তমান সরকারও। এসব থেকে বের হয়ে না এলে পেশাদারত্ব নিয়ে কেউ কাজ করবে না পুলিশে।’
হঠাৎ অবসরে দিশাহারা: পুলিশসংশ্লিষ্টরা জানান, চাকরিজীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে পুলিশের পোশাকে। চাকরির নিয়মিত অবসরের আগে হঠাৎ করেই যখন হাতে আসে বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন, তখন তারা দিশাহারা হয়ে পড়েন। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের ভবিষ্যৎ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে ব্যাপক রদবদলের পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রশাসনিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়েই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে রদবদল, বদলি কিংবা অবসর গমনের ঘটনা ঘটেছে। চাকরি হারিয়ে অবসরকালে পাওনা অর্থ সময়মতো না পাওয়া, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিকভাবে পরিচয় সংকট এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে শেষ বয়সে এসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র বেতনে চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ।
আবেদনেও মিলছে না সুযোগ-সুবিধা: গত দুই বছরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ১৩৫ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রাপ্য সুবিধা পেতে আবেদনও করেছেন (পিআরএল)। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কাউকেই প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের প্রশ্ন বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী যে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা, সেটি পেতে তাদের এতদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে কেন? এ নিয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন।
নিয়মানুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যারা অবসরে যান, তারা এক মাস আগেই মন্ত্রণালয়ে পিআরএলের আবেদন করেন। এরপর অবসরে যাওয়ার ১০ দিন আগেই তাদের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর হয়ে যায়। পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তারা পাওনা পান। আবার যাদের জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়, তারা চিঠি পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ১৫ দিনের মধ্যে তাদের পিআরএল মঞ্জুর হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় ৮৬ ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র চারজনকে পিআরএল মঞ্জুর করে পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন অতিরিক্ত আইজিপি তৌফিক মাহমুদ, আলিম মাহমুদ, মাসুদুর রহমান ও ডিআইজি মো. রেজাউল হায়দার। বাকিরা কবে পাবেন কেউ বলতে পারছেন না। ২০২৫ সালের শুরুতেই পুলিশের তিন অতিরিক্ত আইজিপিকে ‘জনস্বার্থে’ অবসরে পাঠানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল তারা বিধি অনুযায়ী অবসর-পরবর্তী সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। কাগজ-কলমে অবসর সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তব চিত্র উল্টো।
সংসার চালাতে হিমশিম : ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর অবসরসংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, হিসাব-নিকাশ, ছাড়পত্র, দেনা-পাওনা সমন্বয় এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটির প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে কাক্সিক্ষত অর্থ না থাকায় তারা পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, পারিবারিক ব্যয় নিয়ে সংকটে পড়েছেন। ফলে অনেক পরিবারকে জীবনযাত্রার মান কমাতে হচ্ছে। কেউ গাড়ি বিক্রি করছেন, কেউ বাড়িভাড়া কমানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারও করছেন বলে জানা গেছে। এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ সংসার চালানোর জন্য, কেউবা পরিচয় সংকটের কারণে কম বেতনেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। আবার অনেকেই চাকরি খুঁজছেন।
বলির পাঁঠা হয়েছেন অনেকে: পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজনরা বরাবরের মতোই ভালো সুবিধা পেয়ে আসছেন। অনেকেই ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগবিরোধী হওয়ার চেষ্টায় আছেন এখনো। এতে কেউ কেউ সফলও হয়েছেন, কেউ কেউ ভালো স্থানে পোস্টিং নিয়ে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের ১৬ বছর সুবিধা নিয়েছেন। তারা ওই সময় চাকরিচ্যুত হননি। অথচ এখন তারা বিশাল আওয়ামী লীগবিরোধী হয়ে আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাকরিচ্যুতদের মধ্যে অনেকেই পেশাদারত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তারা কখনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ নিয়ে চাকরি করেননি। কোনো কর্মকর্তার অধীনে থেকে কাজ করায় কেউ কেউ বলির পাঁঠা হয়েছেন। গত সরকারের আমলে তারা ভালো অবস্থানে থাকলেও কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনবিরোধী ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারও একই কাজ করেছে, এখন যারা ভালো স্থানে আছেন, তাদের অনেককেই তখন বাধ্যতামূলক অবসর ও ওএসডি করে রাখা হয়েছিল। তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছিলেন।’
আওয়ামী লীগ সরকারও একই কাজ করেছে : ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শী আখ্যা দিয়ে অন্তত অর্ধশত কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনেককে ওএসডিও করা হয়। দীর্ঘ সময় ওএসডি থাকার কারণে তাদের পদোন্নতি, দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাধ্যতামূলক অবসর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হতেই পারে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সরকার আইন অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একজন মানুষের দীর্ঘ কর্মজীবন, তার পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং তার ন্যায্য আর্থিক অধিকারের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে, তার যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক আছে। অন্তর্বর্তীকাল ও বিএনপি সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারও একই কাজ করেছে। ‘রাজনৈতিক তকমা’ লাগিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘দেশজুড়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের জাল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ সিন্ডিকেটগুলোর কাছে বাংলাদেশ এখন হটজোন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাইবার সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশকে অপারেশন হাব হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন ক্যাসিনো, আবাসন ব্যবসার নামে বিনিয়োগ ফাঁদ, ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতি, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অপ্রচলিত মাদকের কারবার, অস্ত্র পাচার, জাল মুদ্রা তৈরি, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, অ্যাপের মাধ্যমে উচ্চসুদে ঋণ দেওয়ার নামে ব্ল্যাকমেল, অনলাইনে বন্ধুত্ব গড়ে দামি উপহার পাঠানো, খুনাখুনি, ক্লোন ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণা, নকল মোবাইল ফোন তৈরি, সোনা চোরাচালান ও মানব পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে একের পর এক নাম আসছে বিদেশি নাগরিকের। গ্রেপ্তারও হচ্ছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অনেকে জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাধেও জড়াচ্ছেন। অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অনেক বিদেশি বছরের পর বছর অবৈধভাবে বসবাস করলেও থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, ছয় দেশের সাইবার স্পেসের ট্রান্সন্যাশন সিন্ডিকেটগুলোর সদস্যরা পর্যটক ভিসায় এসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের মতো শহরগুলোর অভিজাত ফ্ল্যাটে গড়ে তুলেছেন অনলাইন ক্যাসিনো ও স্ক্যামিংয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ড। বেনামি সিম, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফাঁকফোকর আর ক্রিপ্টোকারেন্সির ডার্ক চ্যানেল ব্যবহার করে বিদেশি সাইবার মাফিয়ারা প্রতিদিন পাচার করছেন কোটি কোটি টাকা; আর তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন এ দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বেকার তরুণ ও নিঃসঙ্গ বয়স্করাও।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বিদেশিদের এ তৎপরতা প্রতিহত করতে প্রযুক্তিগত উন্নতিসাধন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশিদের আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, সহকারী অধ্যাপক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট সক্রিয়। প্রতারণার মাধ্যমে এমএফএসে আসা অর্থ তারা খুব দ্রুত স্থানীয় এজেন্টদের সাহায্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে। দেশে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সরকারের নজরদারি থাকলেও এই “শ্যাডো ইকোনমি” বিদেশিদের অর্থ পাচারের আদর্শ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অর্ধশত চায়নিজ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৪ শতাধিক বিদেশি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসা, ভ্রমণ, শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড় ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন। আরও জানা গেছে, চীন ও কম্বোডিয়া সরকার অনলাইন জুয়া এবং স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। এ দুই দেশের ধারাবাহিকতায় ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম সরকারও অনলাইন জুয়া এবং স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
ফলে এ চার দেশের সাইবার স্পেসে সক্রিয় ট্রান্সন্যাশনাল সিন্ডিকেটগুলো তাদের অপারেশনাল হাব পরিবর্তন করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, এমএফএস (মোবাইল ব্যাংকিং) সেবার ব্যাপক বিস্তার এবং সাইবার-আর্থিক অপরাধ দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ও ফরেনসিক দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সাইবার অপরাধের নতুন হাব হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও অভিজাত এলাকায় তারা গড়ে তুলছে অনলাইন ক্যাসিনো এবং স্ক্যামিংয়ের সাবস্টেশন। এসব সাবস্টেশনের মূল সার্ভার ও ওয়েবসাইট রাশিয়া, মাল্টা, সাইপ্রাস এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে হোস্ট করা হয়। জানা গেছে, অনেকে পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন, পরে অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এসব অনলাইন ক্যাসিনো গড়ে তোলেন। এ ক্ষেত্রে তারা ডার্ক ওয়েব বা নির্দিষ্ট প্রোভাইডারের কাছ থেকে ‘হোয়াইট-লেবেল’ রেডিমেড ক্যাসিনো সফটওয়্যার কিনে নেন। অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার পাশাপাশি তারা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গেও যুক্ত। প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা মূলত তৈরি পোশাক খাতের মাঝারি ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার এবং চট্টগ্রামভিত্তিক আমদানি-রপ্তানিকারকদের ‘বিজনেস ইমেইল কমপ্রোামাইজ’ এবং ভুয়া বিনিয়োগ স্কিমের নামে টার্গেট করেন। এ ছাড়া ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট এবং বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণদেরও ফাঁদে ফেলা হয়।
