সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে

ছাত্রশক্তির কাউন্সিলে নাহিদ

সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি সরকারও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদী সময়ে গণরুম- গেস্টরুমের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে গিয়েছিলাম। গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সেই লড়াইয়ের উত্তরাধিকার। সেই লড়াইয়ের উত্তরসূরি জাতীয় ছাত্রশক্তি হবে। বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে একটি পটপরিবর্তন হয়েছিল। সেই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু আমরা দেখতে পারছি তারেক রহমানের এই বিএনপি সরকার পূর্বের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে। তার প্রত্যেকটি নিদর্শন আমরা ক্যাম্পাসগুলোতেও দেখতে পাচ্ছি। সন্ত্রাস দখলদারিত্বের বিরদ্ধে যে লড়াই শুরু হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মধ্যদিয়ে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো সেই লড়াই সমাপ্ত হযেছে। কিন্তু সেই লড়াই সমাপ্ত হয়নি।
ছাত্রশক্তিকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাত্ররাজনীতিতে যদি তার শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে না পারে। আবারো হয়তো ছাত্রদের দাসত্বের জীবন বরণ করে নিতে হবে। জাতীয় ছাত্রশক্তির লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।

গণভোটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোটে যে রায় দিয়েছিল। সেটা বাস্তবায়নের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফের পক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এনসিপি’র মতো ছাত্রশক্তিও বিপ্লবের গর্ভে থেকে গড়ে ওঠা সংগঠন। আপনারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলবেন, জনগণের পক্ষে কথা বলবেন।

চোখ হারানো আলিফের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সন্ত্রাসীরা এই আলিফের চোখ কেড়ে নিয়েছিল। কোন আইনে কোন বিধিতে গাজীপুরের সিফাতকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হলো। পুরো একটি স্বৈরতন্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অবিলম্বে সিফাতকে মুক্তি দিন। তার কলেজের শোকজ প্রত্যাহার করুন।
অনুষ্ঠানে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোকে যাতে গণতান্ত্রিক করে তোলা যায়, যাতে কোনোভাবেই একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, কোনো দখলদারিত্ব না চলে এবং চাকরির পরীক্ষাগুলোতে কোনোভাবেই দলীয়করণ না হয়-এ কারণেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা কোনোভাবেই গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় না। অথচ আমাদের ছাত্ররা, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ, গণভোটের পক্ষে প্রস্তাব করেছিলেন। আমরা আবারো চাই, সেই ছাত্র নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

এনসিপি’র সদস্য সচিব বলেন, কেন এই আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন? আমরা যদি রাষ্ট্র সংস্কার করতে না পারি, তাহলে জনগণের হাত থেকে সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে যদি দলীয় লোকদের দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে আমরা কোনো ক্লিন ও ফেয়ার নির্বাচন পাবো না। যদি পিএসসিতে দলীয় লোকদের বসানো হয়, তাহলে আমরা সঠিক ও নিরপেক্ষ নিয়োগব্যবস্থা পাবো না। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না থাকে, তাহলে আমরা বিচার পাওয়ার সুযোগও হারাবো।

তিনি আরও বলেন, এই কারণে বাংলাদেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে, গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রের সংস্কার নিশ্চিত করতে, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশার জায়গা।

সংস্কারের বিষয়ে সরকার শুধু বাধসাধারক ভূমিকা পালন করছে এমন নয় উল্লেখ করে আখতার বলেন, বরং তারা দৃষ্টান্তমূলকভাবে সংস্কারবিরোধী ভূমিকা পালন করছে। আমরা যখন দেখেছি, পিএসসিতে তিনটি পিএসসি করার প্রস্তাব দেয়া হবে, ঠিক সেই সময় তারা বলেছিল-তিনটি পিএসসি’র প্রয়োজন নেই; ভাইভায় যদি নম্বরটা দেয়া হয়, তাহলেই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া সম্ভব। তারা তখন পিএসসি সংস্করণের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনি। এখন এসে তারা ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে এমন একটি সংস্করণের আশ্রয় নিচ্ছে, যার মাধ্যমে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরি দেয়া যায়। অবস্থা এমন হয়েছে যে, শেখ হাসিনার হাতে যে কোটাপ্রথা, সেটি এখন তারেক রহমানের হাতে চলে এসেছে ভাইভাপ্রথা।

আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই জানিয়ে তিনি বলেন, কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে। আমরা তারেক রহমানের সরকারকে বলবো, ভাইভার বিষয়ে পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে বরং ভাইভার অতিরিক্ত নম্বরগুলো কমিয়ে এনে লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে যাতে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়, সেই ব্যবস্থা আপনাদের গ্রহণ করতে হবে।
কাউন্সিলে আরও বক্তব্য দেন এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কাউন্সিলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাকের-তাহমীদ: জাতীয় নাগরিক পার্টির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। একইসঙ্গে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাসিব আল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফেরদৌস আইয়াম রাইয়ান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জহির রায়হান।