খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার, পরকীয়া, স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। সমপ্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর পাঠানো চিঠিতে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের স্ত্রী মাহবুবা নাসরীন।

লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ই এপ্রিল ই-মেইল এবং ২২শে ফেব্রুয়ারি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে একই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পুনরায় লিখিত আবেদন করেছেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের স্ত্রী মাহবুবা নাসরীন কেয়া। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ২০১৪ সাল থেকে বিভাগীয় প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন তার স্বামী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান।

তাকে নারীলোভী, পরকীয়া আসক্ত ও নির্যাতনকারী উল্লেখ করে স্ত্রী কেয়া দাবি করেছেন, ২০১৫ সালে পরকীয়া ও নির্যাতনের কারণে আমি সন্তানদের নিয়ে ঢাকা চলে আসি। পরবর্তীতে তিনি (অধ্যাপক আবু সাইদ) ক্ষমা চেয়ে আমাদের বাসায় ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন ও অধ্যাপক সামিউল হকের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করেন যে, তিনি এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না। কিন্তু তিনি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি।

২০১৭ সালে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আমার নজরে আসে। এমনকি খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও নারী কেলেঙ্কারির জন্য তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক এখনো চলমান।

ওই ছাত্রী ২০১৫ সালে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও ২০২৩-২০২৪ সালে জার্নাল/থিসিসের অজুহাতে নিয়মিত আমার বাসায় আসতেন এবং বেডরুমের দরজা বন্ধ করে ওই মেয়ে এবং আবু সাঈদ দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন। এ ধরনের আচরণ আমার ও আমার সন্তানদের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর, দৃষ্টিকটু হওয়ায় পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। যা আমার বাচ্চাদের গৃহশিক্ষক ও প্রতিবেশীরা সকলেই জানেন। আর এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে আমার ১৭ বছর বয়সী ছেলের কানের পর্দা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমায় ভুগছে।

লিখিত ওই অভিযোগে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব নিয়েছেন এই আবু সাঈদ খান। অন্যদিকে, বর্তমানে আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বাইরে ভিন্ন তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কেয়া তার আবেদনে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের স্ত্রী মাহবুবা নাসরীন কেয়া বলেন, বিয়ের পর থেকেই যেকোনো ইস্যুতে সে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি এবং সন্তানের কথা ভেবে এগুলো নিয়ে কখনো মুখ খুলিনি। কিন্তু তার পরকীয়া এমন পর্যায়ে চলে গেছে যার কারণে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না সে। পল্লবীতে আমার কেনা ফ্ল্যাটে সে বিভিন্ন সময় বাইরে থেকে নারী নিয়ে এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে। এ কারণে আমি আমার বাসা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছি। আমি তার বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের নির্যাতনের পর তার খুলনার বাসায় কাজ করা বিথী নামের এক কাজের মেয়ে আত্মহত্যা করেন। সে সময় আমাদের ওই মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করি।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, তার স্ত্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আমরা তাকে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য বলেছি। শুনেছি এ বিষয়ে মামলাও হয়েছে। আমার মনে হয় আদালতের মাধ্যমেই এ বিষয়টার ফয়সালা হওয়া ভালো। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন