সিলেটে বিচারক-শূন্য ৮ আদালত

ফন্ট সাইজ:

বিচারক-শূন্য সিলেটের আট আদালত। অন্য আদালতের বিচারকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে এসব আদালত চালাচ্ছেন। এতে করে এসব আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সিলেট জেলার ছয়টি ও মহানগরের দুইটি আদালতে কয়েক মাস ধরে বিচারক নেই। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আওতায় উপজেলা সিভিল জজ, সাব-জজ আদালতসহ মোট ২১টি বিচারিক আদালত রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আদালতের বিচারক নেই।

আদালতগুলোর মধ্যে রয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ আদালতের বিচারক হালিম উল্লাহ চৌধুরীকে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে বদলি করা হয়েছে। এরপর থেকে সিলেট জেলার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতটি বিচারক-শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

জকিগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক ফাহমিদা খন্দকার আন্না, গোয়াইনঘাট সিভিল জজ আদালতের বিচারক শামসুল হক ও বিয়ানীবাজার সিভিল জজ আদালতের বিচারক জিয়া উদ্দিনকে ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। আর সদর অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত-১ এর বিচারক নুরে জান্নাত তাবাচ্ছুমকে গোলাপগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে বদলি করা হয়। ফলে এই চারটি সিভিল জজ আদালত বিচারক-শূন্য হয়।

অন্যদিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিলেটের আওতাধীন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক নাজমুল হাসানকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নং আদালতে বদলি করার কারণে এ আদালতটি বিচারক-শূন্য হয়ে পড়ে। এ আদালতে ১শ’ ৬৭টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ১ হাজার ৫শ’ টি মামলা।

চলতি বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি থেকে বিচারক-শূন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়রা জজ আদালত। এ আদালতের বিচারক মুন্সি আব্দুল মজিদ বদলি হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাজীব কুমার বিশ্বাস। আর মহানগর দায়রা জজ আদালতের আওতাধীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক উম্মে হাবীবা লাইজু গত বছরের শেষের দিকে বদলি হওয়ার পর থেকে এ আদালতটি রয়েছে বিচারক-শূন্য। তবে অন্য আদালতের বিচারকদের ভারপ্রাপ্ত এনে এ সকল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিচারপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন আদালত নির্ধারিত তারিখে এসে বিচারিক সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। তারা বলেন, বাড়ি থেকে আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে দুর্গম প্রতিকূল অবস্থা পার হয়ে আসতে হয়। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এ কে এম সমিউল আলম জানিয়েছেন, আদালতে বিচারক না থাকায় স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালতে এসে শুধু তারিখ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, বিচারক-শূন্য আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে ভারপ্রাপ্ত বিচারকরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ আদালতের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কিছু জরুরি মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নতুন মামলা গ্রহণ, অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় স্থবির রয়েছে। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ লালা জানিয়েছেন, বিচারক না থাকায় আদালতের বিচার কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।

দ্রুত বিচারক নিয়োগ না হলে মামলার জট আরও বাড়বে এবং বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়া-হিয়া চৌধুরী সুহেল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেটের আদালতে দুটি পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে একটি জেলা দায়রা জজ ও অপরটি হচ্ছে মহানগর দায়রা জজ। সিলেটের আদালতে এ দু’টি পদ শূন্য রয়েছে। কোনো বিচারক নিয়োগ না দেয়ায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে কার্যক্রম। তিনি বলেন- দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারক নিয়োগ দিলে কার্যক্রমে গতি ফিরবে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদেরও ভোগান্তি কমবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন