আরজি কর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত্তিতে। অনেকে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ড ও তারপরে টালবাহানার জেরে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা কমেছে তৃণমূলের। ফলে ওই ঘটনার শিকার তরুণী চিকিৎসকের মা এবং বিজেপি নেত্রী রত্না দেবনাথ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসন থেকে নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছেন।
এটি ছিল নির্বাচনের অন্যতম বহুল আলোচিত লড়াই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রত্না দেবনাথ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে ২৮,৮৩৬ ভোটে পরাজিত করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ৮৭,৯৭৭ ভোট, আর ঘোষ পেয়েছেন ৫৯,১৪১ ভোট। জয়ের পর রত্না দেবনাথ বলেন, এই রায় মানুষের কণ্ঠস্বরকে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, এই জয় পানিহাটির মানুষের, সমগ্র বাংলার মানুষের জয়। আমি এই জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উৎসর্গ করছি। আমি ঘোষ পরিবারের দুর্ব্যবস্থা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পেরেছি। মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি একা এটা করতে পারতাম না।
২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার সরকারি আরজি কর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে তার মেয়ের নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পরই তার রাজনীতিতে প্রবেশ। এই ঘটনা সারা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। পানিহাটি বিধানসভা এলাকার অধীনে সোদপুরের পানসিলা এলাকার বাসিন্দা রত্না দেবনাথ তার নির্বাচনী প্রচারে নারীর নিরাপত্তা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দেন যে, আরজি কর মামলার গভীর তদন্ত নিশ্চিত করবেন এবং যাদের তিনি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন, তাদের আইনের আওতায় আনবেন।
প্রচারের সময় তিনি সিপিআই (এম) ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা আরজি কর ঘটনাকে ঘিরে প্রতিবাদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তবে বিজেপি তাকে তুলে ধরে একজন শোকাহত মা হিসেবে, যিনি ন্যায়বিচার চান। রত্না দেবনাথের পাশাপাশি সন্দেশখালির আন্দোলনে উঠে আসা আরেক গুরুত্বপূর্ণ মুখ রেখা পাত্রও হিঙ্গলগঞ্জ আসনে জয়লাভ করেছেন।
রেখা পাত্র ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবার ৫,৪২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১,০০,২০৭ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের আনন্দ সরকার পেয়েছেন ৯৪,৭৮৬ ভোট। সন্দেশখালির অশান্তির সময়, গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান পাত্র। ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়ার কারণে তিনি অনেকের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
