ডোমারে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভোক্তাদের মাঝে। তবে এর উল্টো চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মজুত আছে পর্যাপ্ত, কিন্তু নেই আগের মতো ক্রেতার ভিড়। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন পাম্পকর্মীরা। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে পাম্পগুলোতে সরজমিন দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যেতো, সেখানে এখন পুরো পরিবেশেই ফাঁকা। রতের আঁধারেই উধাও হয়ে গেছে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সব মোটরসাইকেল।
অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের মাঝে নির্ধারিত পরিমাণে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ফুয়েল কার্ড না থাকায় বেশির ভাগ মোটরসাইকেলচালককে ফিরে যেতে হচ্ছে তেল ছাড়াই। মোটরসাইকেলচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেতো না। কিন্তু এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দাবি ফুয়েল কার্ড ছাড়া যাতে কেউ তেল না পায়। পৌর শহরের ডোমার ফিলিং স্টেশনের মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, তেল বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমে থাকছে, আবার নতুন সরবরাহও আসছে।
বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল আসার অপেক্ষায় রয়েছে। যদি বিদ্যমান তেল শেষ না হয়, তাহলে লরিতে তেল রেখে দিতে হবে যা আমাদের জন্য চাপ তৈরি করছে।’ এভাবে চলতে থাকলে তেল আনাই বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেখানে দুই-তিন ঘণ্টায় তিন থেকে চার হাজার লিটার তেল বিক্রি হতো। এখন ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল দেয়ার পর থেকে সারা দিনে ৫ থেকে ৭শ’ লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে। পৌর শহরের আমিনা রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতাউর রহমান বলেন, ‘আগে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। এখন সেই পরিমাণ তেল বিক্রি করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগছে।
নতুন করে সরবরাহও আসছে, ফলে কোনো সংকট নেই।’ সাময়িক বিক্রি কমে গেলেও এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মোটরসাইকেলচালক রাফিন ও সফিকুল বলেন, আমাদের সকল কাগজ না থাকায় ফুয়েল কার্ড পাইনি। আমরা যদি তেল না পাই তাহলে তো আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। ফুয়েল কার্ড নেয়ার শর্ত আরও শিথিল করার দাবি জানান তারা। মামুন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আজ যে মোটরসাইকেল কিনবে তার কি হবে। প্রশাসনের এসব ভেবে দেখা উচিত।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বর্তমানে তেল নিতে কোনো ঝামেলা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
