ইলিয়াসের এলাকায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বাসিয়া খাল খননের উদ্যোগ

ইলিয়াসের এলাকায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের বিশ্বনাথ। প্রবাসী জনপদ। এম ইলিয়াস আলীর নিজের এলাকা। বিএনপি’র এই কেন্দ্রীয় নেতা এখনো নিখোঁজ। ১৪ বছর ধরে তিনি নিজ এলাকায় অনুপস্থিত। এ আসনে এখন এমপি তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ইলিয়াসের কাছে আবেগময় স্থান ছিল নিজ এলাকা বিশ্বনাথ। এই বিশ্বনাথেই আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। ২রা মে তিনি সিলেট সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন। তবে এদিন তিনি বিশ্বনাথে বাসিয়া খাল খননের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সিলেট নগরের কাছাকাছি এলাকা হিসেবে স্থান হিসেবে মাসুকগঞ্জ বাজারকেই পছন্দ করা হয়েছে।

এরইমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে শুরু করা হয়েছে কার্যক্রম। গতকাল ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এর আগে পানি সম্পদ মন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ১৯৭৯ সালে বাসিয়া ও চড়চণ্ডি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করে গিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বিশ্বনাথের বুক চিরে বয়ে চলা বাসিয়া খালের গুরুত্ব অনেক। এটি কোথাও খরস্রোতা নদী, আবার কোথাও খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় এই নদী দিয়ে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করতো। বিশ্বনাথের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল এ নৌপথ। বাসিয়া এখন অনেক স্থানেই খালে পরিণত। এ খাল এখন বিশ্বনাথ সদরের মানুষের কাছে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। ময়লা, আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া ছাড়াও কয়েকশ’ ব্যবসায়ী নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে এখন সদর এলাকাতেই এটি খালে রূপ নিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভেরও অন্ত নেই বিশ্বনাথের মানুষের। পৌর এলাকা হলেও যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই অস্তিত্ব হারানোর পথে রয়েছে বাসিয়া।

এটি খনন করা হলে পানির রিজার্ভ বাড়বে। এতে করে ওই এলাকার মানুষ শুষ্ক মৌসুমে বোরো ও রবিশস্য উৎপাদনের জন্য পানি পাবে।

এদিকে খাল খননের প্রস্তুতি পরিদর্শনে শুক্রবার দুপুরে মাসুকগঞ্জ বাজারে খালটি পরিদর্শনে যান বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বাসিয়া খাল খনন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন- এই খালের পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার। আর খনন হবে ২৩ কিলোমিটার। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত খনন হবে। এতে ৯০ হাজার কৃষক উপকার পাবে। আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে। এর আগে গত ১৭ই এপ্রিল পরিদর্শনকালে পানিমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীও জানিয়েছিলেন- খাল খনন হলে লাখো কৃষক এখানে উপকৃত হবে।

এপ্রিলের প্রথমদিকে বাসিয়ার বিশ্বনাথ সদর অংশ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। এ সময় তার সঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া মানবজমিনকে জানিয়েছেন- বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান। সেটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি খাল খননে বিশ্বনাথে আসবেন এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। দলের তরফ থেকেও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন