সংস্কার ও জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্য একসঙ্গে কাজ করবে। এছাড়াও সংসদ ও রাজপথে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি অবস্থান নিলে তাদেরকে লালকার্ড দেখানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। গতকাল সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশে’- এসব কথা জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ এই দু’টি বিষয় এই মঞ্চ কখনো বরদাশ্ত করবো না। মঞ্চে যারা বসে আছেন তারা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে জ্বলে জ্বলে তিলে তিলে প্রমাণ করেছেন, জীবন দেবো- তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর খুনের রাজনীতি দিয়ে হাত রাঙিয়ে রক্ত দিয়ে হাসিনার রাজনীতির নতুন উত্থান হয়েছিলো। তাদের হাতে একসময় সবাই মজলুম ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটি অংশ আজ সরকারে যাওয়ার পর অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে।
তিনি বলেন, কেন আজকে আমাদের গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে হলো? তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এজন্য আসতে হলো। তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে জুলাই সনদের কার্যকরী আইনি পদ্ধতি গণভোটের বিকল্প নেই। এজন্য গণভোটের প্রস্তাব তাদেরই একজন করেছিলেন। তাদের নেতা শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরে বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি দেবেন আমাদের মার্কায় আরেকটি দেবেন গণভোটে। গণভোটে সবাই হ্যাঁ বলবেন।
জামায়াত আমীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে গণভোটের এই রায় মেনে নেন। রায় মেনে নিলে এই দাবিতে আর বক্তব্য দেবো না। কিন্তু এই রায় না মানলে আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি- এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে আমরা কোনো বিশ্রাম নেবো না। আন্দোলন চলবে সংসদে ও রাজপথে। সংসদ আর রাজপথ যেদিন একাকার হয়ে যাবে বালুর বাঁধ দিয়ে সেদিন আর সমুদ্রের জোয়ার ঠেকাতে পারবেন না।
ফ্যাসিবাদের ন্যারেটিভের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা নানা ন্যারেটিভ তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছে। নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছিলেন- সবাইকে নিয়ে দেশ গঠন করবেন। এখন আপনারা এক দলকে পাঠাচ্ছেন পাাকিস্তানে, আরেক দলকে পেশোয়ারে, আরেক দলকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন আরও কোনো দেশে। আর নিজেরা দেশের জমিদারি দখল নিতে চাচ্ছেন। মনে রাখবেন, জুলাইয়ের দু’টি শক্তিশালী বড় স্ল্লোগান ছিল- উই ওয়ান্ট জাস্টিস, আরেকটি দেশটি কারও বাপের নয়। এদেশ বাংলাদেশের জনগণের।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ক্যাপটেনের হাতে পতাকা দিয়ে আসছেন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ট্রফি যদি আগেই ক্যাপটেনের হাতে চলে যায়। তাহলে নির্বাচন ছিল তামাশা। তারা স্বীকার করে নিচ্ছেন মাওলানা মামুনুল হক সংসদে গেলে কি হতো। যা হতো এর ভয়েই তাকে আটকে দেয়া হয়েছে।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংসদে আছি জুলাই সনদ গণভোট বাস্তবায়নে কথা বলার জন্য। রাজপথে আছেন মামুনুল হক, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীরা। আমরা একত্রে আছি। যদি সময়মতো দাবি আদায় না হয়, সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে তারা (সরকার) জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। যা বাকশালের নমুনা। আমরা চেয়েছি একজন বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে। তারা কোনো দলের সেবাদাস হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৎ লোককে তারা রাখবে না। তারা চায় যারা তাদের গুণগান করে, দুর্নীতি করতে পারে চাঁদাবাজি করতে পারে। তাদেরকে তারা মনোনয়ন দেবে, পদায়ন করবে। যতদিন তারা গণভোট বাস্তবায়ন না করবে ততদিন রাস্তায় সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের দাবি অতি সহজ গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন চাই। ১৯৭০ সালে একটি নির্বাচন হয়েছিলো, সেটাও জনগণের রায় ছিল। তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করতে দেয় নাই। রায় বাস্তবায়ন হলে নেতৃত্ব আসতো বাংলাদেশের জনগণের হাতে। ক্ষমতার জোরে সেই রায়কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিলো।
জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিচ্ছেন দেশে কোনো মব চলবে না। অথচ তার নিজের দলের নেতাকর্মীই তার কথা শোনেন না। গতকাল শাহবাগ, ঢাবি, শাহবাগ থানার মধ্যে ডাকসু নেতৃবৃন্দ এমনকি সাংবাদিকদের উপর রাষ্ট্রীয় মব সৃষ্টি করা হয়েছে। ছাত্রের জায়গায় ছাত্র আছে লীগের জায়গায় দল হয়ে গেছে। যুব’র জায়গায় যুব আছে, লীগের জায়গায় দল হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যারা ধারণ করে তারা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে থাকতে পারে না। বিএনপিকে বলতে চাই আপনারা ঐতিহ্যের ৫০ বছরের রাজনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকতে পারবে না।
