কাতারে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের পর দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে শিরোপার একটি রেপ্লিকা নিয়ে ঘুরতে দেখা যেত। প্রতিবারই করতালিতে সিক্ত হতেন তিনি। লিওনেল স্কালোনিকে কোচের দায়িত্বে বসানোর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই ৩৬ বছর পর আলবিসেলেস্তেদের সোনালী ট্রফিটি এনে দেয়। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যখন দোরগোড়ায়, তখন দৃশ্যপটে আমূল পরিবর্তন। দুর্নীতি তদন্ত, ঘরোয়া লীগের বিতর্কিত সংস্কার এবং দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের কারণে তাপিয়ার বিরুদ্ধে জনরোষ এখন তুঙ্গে। এর ওপর যোগ হয়েছে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ে মিলের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াই। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে আর্জেন্টিনার ঘরের খবর মোটেই ইতিবাচক নয়।
আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মিলে দেশটির সদস্য-চালিত ক্লাবগুলোকে বেসরকারিকরণ করতে চান, যার ঘোর বিরোধী আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। গত মার্চে তাপিয়ার বিরুদ্ধে ১৯ বিলিয়ন পেসো (১৩ মিলিয়ন ডলার) কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা করে সরকার। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামলে গ্যালারি থেকে দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয় এএফএ সভাপতিকে। এএফএ অবশ্য একে ‘স্মেয়ার ক্যাম্পেইন’ বা কুৎসা রটনা বলে দাবি করছে।
অন্যদিকে, ঘরোয়া লীগের অবনমন ব্যবস্থা বাতিল করে ৩০ দলের বিশাল লীগ বানানোর সিদ্ধান্ত সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ৬০ বছর বয়সী এক সান লরেঞ্জো ভক্ত আক্ষেপ করে বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেন, ‘খেলার সূচি জঘন্য। সারা বছর কোনো রাউন্ড-রবিন ফরম্যাট নেই। তাই কেউ যে নিজেকে সেরা বলে দাবি করবে, সেই উপায়ও নেই।’
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য আর্জেন্টিনা বেছে নেয় ইন্দোনেশিয়া, পুয়ের্তো রিকো, অ্যাঙ্গোলা এবং মৌরিতানিয়ার মতো র্যা ঙ্কিংয়ের নিচের সারির দলগুলোকে। আগামী জুনে তাদের শেষ দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। দল দু’টি এবারের বিশ্বকাপে জায়গাই করতে পারেনি। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থে ইউরোপিয়ান শক্তিশালী দলগুলোকে এড়িয়ে চলায় বিশ্বকাপের জন্য স্কালোনির শিষ্যরা আদতে কতটা পরীক্ষিত, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ দলের অন্য খেলোয়াড়রা সচেতনভাবেই এই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে ইন্টার মায়ামির তারকা মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, আমরা ফুটবলার এবং ফুটবল খেলতেই এখানে এসেছি। আমরা রাজনীতি বুঝি না, জড়াতেও চাই না।’ শিরোপা ধরে রাখা কতটা কঠিন, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে ডি পল আরও বলেন, ‘জয় কঠিন। আর দ্বিতীয়বার জেতা আরও বেশি কঠিন। আমরা যা অর্জন করেছি তা রক্ষা করতে হলে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
