দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলেই শাস্তি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনে দিনে অবনতির দিকে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকা-সহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বৈঠকে থানা পুলিশের টহল টিমের কর্মকা- নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবারও পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিশেষ বৈঠক করে বেশকিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে পুলিশের সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছে যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে, সেখানে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাৎক্ষণিক বদলিসহ সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে। পুলিশের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এলাকায় থানা পুলিশের ঢিলেঢালা টহল হচ্ছে। রাতের বেলায় ডিউটি হয় না বললেই চলে। আবার কিছু টহল হলেও গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে রাত পার করে দেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। আন্ডারওয়ার্ল্ড আগের চেয়ে বেশি তৎপর হচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ছে। টার্গেট করে হত্যাকা- ঘটানো হচ্ছে। চরমপন্থিদেরও অপকর্মও বেড়ে গেছে। অনেক অপরাধী ভাড়ায় খাটছে। দেশের ভেতরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে হত্যার নির্দেশনা আসছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও আছে আতঙ্ক। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকার নির্দেশ দিলেও পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে না লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র। ধরা পড়ছে না দাগি অপরাধী। শৃঙ্খলা আসছে না দেশে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। গত সোমবার বৈঠক শেষে পুলিশের সব কটি ইউনিটকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি নেতা, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ আছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিনই খুনখারাবি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সারাদেশে অন্তত ২০ জন হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনাতো দিনের বেলাতেই হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমরাও আছি উদ্বেগের মধ্যে। তিনি বলেন, আমরা বেশকিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতি হবে, সেখানে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাাস্তির মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস, বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত রয়েছে। এরই মধ্যে সবাইকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ছাড় পাবে না কেউ।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের অনেক নেতা। তাদের উদ্দেশ্য দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও সমাজে ভীতি-আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা।’
পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশজুড়ে পেশাদার অপরাধীদের তালিকা করে এখনই আইনের আওতায় নেওয়া জরুরি। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আটকের এক মাসের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাচ্ছে অপরাধীরা। এ কারণে অপরাধের মাত্রা বাড়ছে। এ সুযোগে এসব অপরাধীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাছে টানছে কোনো কোনো মহল। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এরই মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপরাধীদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বসানো হয়েছে বাড়তি তল্লাশিচৌকি। কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এরই মধ্যে অপরাধীরা বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে খুন করছে। বিকেলের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যেসব এলাকায় টহল জোরদার থাকার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোয় পুলিশের গাড়ি শুধু মূল সড়কে সীমাবদ্ধ থাকছে, গলি বা সরু রাস্তায় পুলিশের প্রবেশ কমে গেছে। এ সুযোগে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
জানা গেছে, ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের সাবেক একজন অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই অপরাধী চক্রগুলো সুযোগ নিচ্ছে। আবার নতুন করে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ার ভয়েও অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছেন অনেক পুলিশ সদস্য। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো এলাকায় যদি টহল পুলিশের অবহেলার কারণে চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তবে শুধু মাঠপর্যায়ের কনস্টেবল নয়, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সার্কেল এসপিকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বা পেশাদারিত্বের ঘাটতি প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলাসহ তাৎক্ষণিক ক্লোজড (প্রত্যাহার) করার নির্দেশ দিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অপরাধ পর্যালোচনার মাধ্যমে থানাভিত্তিক র্যাঙ্কিং করা হবে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা শাখা (ইন্টেলিজেন্স) টহল দলের কার্যক্রম নজরদারি করতে হবে।’
পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতি করতে বেশ কিছু নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। থানায় জনবল বা যানবাহন সংকট থাকলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। দাগি সন্ত্রাসীসহ অন্যান্য অপরাধীদের আটকে বিশেষ অভিযানও চালানো হবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লকরেইড দিয়ে অপরাধীদের নির্মূল করতে হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০ ও মার্চে ৩১৭টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৭৫০টি। জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ২১৭ ও মার্চে ২৩৯ জন খুন হয়। গত বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২৫০টি। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ৭১০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারিতে ২৩১টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ ও মার্চে ২৩৯টি। ওই বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে হত্যার ঘটনা ২৩৬টি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রতিরোধ করতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার সবার আগে ঠেকাতে হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় নেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন শীর্ষপর্যায়ের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় না দেয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।’
প্রথম আলো
‘মালিকদের চাপ, ভাড়া বাড়বে বেশি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শুধু ডিজেলের বাড়তি দাম নয়, নানা খরচ যুক্ত করে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণে সরকারকে চাপ দিচ্ছে মালিকপক্ষ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটিও তা মেনে নিচ্ছে। তারা তেলের বাইরে বিভিন্ন খরচ বেড়েছে ধরে ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। কিছু খরচ আসলে ‘গায়েবি’, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।
কমিটি বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। যদিও শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে ভাড়া বাড়ার কথা কিলোমিটারে ১৫ পয়সা। মালিকেরা খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার, টিউব, লুব্রিকেন্টস ও বাসের চেসিসের (ইঞ্জিনসহ কাঠামো) মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে। সে অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালে ভাড়া বাড়ানোর আলোচনাই এখন আসত না। মালিকেরা মূলত এই সুযোগ নিচ্ছেন। ২০২২ সালেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর তাঁরা একই কৌশলে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করেছিলেন। পরে ঢাকা শহরে তার চেয়েও বেশি আদায় শুরু করেন।
বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা। নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হলে কিলোমিটারে ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৬৪ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা; তা বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে।
অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মিনিবাসের জন্য আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা হতো। এবার তা প্রস্তাব করা হয়নি। সাধারণত মিনিবাসের ভাড়া কিছুটা কম হয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিআরটিএর নেতৃত্বাধীন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটি গত রোববার বৈঠক করে। কমিটি ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব গত সোমবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক ঢাকার বাইরে থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল বুধবার দুপুরে মন্ত্রী সচিবালয়ে বৈঠক করেন এবং এতে পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বাড়তি ভাড়া ঘোষণা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে সড়কমন্ত্রী সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলতে চান। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। বৈঠক শেষে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার হতে পারে।
কমিটিতে মালিকপক্ষ বেশি
বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ১১ জন। তাঁদের মধ্যে বিআরটিএর তিনজন এবং সড়ক মন্ত্রণালয়ের একজন, সরকারি সংস্থা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) একজন, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) একজন।
মালিকপক্ষের রয়েছেন কার্যত চারজন—বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জে আর শহীদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এবং সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপক শুকদেব ঢালী। যাত্রীদের প্রতিনিধি মাত্র একজন। তিনি হলেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি আইনজীবী বাহাদুর সাজেদা আক্তার।
ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটির প্রধান ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। কমিটির সদস্যের বাইরেও পরিবহননেতাদের কেউ কেউ অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, সরকারি সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি মনোয়ারুল ইসলাম জ্বালানি তেলের দামসহ অন্যান্য ব্যয়ের যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মত দেন। এটি আরও সহনীয় করে ভাড়া নির্ধারণের অনুরোধ জানান।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রতিনিধি কে এম তৌফিকুল হাসান বলেন, অন্যান্য ব্যয় আমলে না এনে শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা উচিত।
অন্য সদস্যদের প্রায় সবাই জ্বালানির বাইরের অন্যান্য খরচ ধরে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন। বিআরটিএ সেভাবেই প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
বৈঠকে বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর বলেন, ভাড়া এমনভাবে বাড়ানো হবে না, যাতে মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আবার অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের মাধ্যমে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিলে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
বিআরটিএর কমিটি যে বাড়তি ভাড়া প্রস্তাব করেছে, এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, কমিটি বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণে যে ব্যয় বিশ্লেষণ করে, তাতে অনেক ‘গায়েবি’ ব্যয় যুক্ত করা হয়। এবারও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস-মিনিবাসের ১২টি বিষয় ও বিনিয়োগ বিবেচনা করে ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি। এর মধ্যে বাস কেনার সময়, এর আয়ুষ্কাল, যাত্রী আসন ও আসন অনুযায়ী যাত্রী পাওয়ার হার বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া জ্বালানিসহ পরিচালন ব্যয়ের খাত বিবেচনায় নেওয়া হয় কমবেশি ২০টি বিষয়। ভাড়া নির্ধারণের এ ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাস পরিচালনার জন্য যে ব্যয় দেখানো হয়, তার কিছু কিছুর কোনো অস্তিত্ব নেই।
বিআরটিএর সর্বশেষ বাসভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহানগরে চলাচল করে—এমন একটি নতুন বাসের দাম ৩৫ লাখ টাকা। ব্যাংকঋণের পাঁচ বছরের সুদ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একটি বাসে বিনিয়োগ প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। এটি ১০ বছর চলবে বলে ধরে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতি পাঁচ বছরে একবার এসব বাস নতুন করে সংস্কার (রেনোভেশন) করা হবে। এতে ব্যয় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। এসব ধরেই বাসের ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে।
অথচ ঢাকায় ৩৫ লাখ টাকা দামের নতুন বাস চোখে কমই পড়ে। বাস-মিনিবাস মানেই রংচটা, লক্কড়ঝক্কড় অবস্থা, ময়লা-ছেঁড়া আসন। সরকার আইন করেছে, একটি বাস-মিনিবাস ঢাকায় ২০ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। অথচ ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে ১০ বছর ধরে। অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী বাসেও নতুনের মতো একই ভাড়া আদায় করা যাবে।
ভাড়া নির্ধারণের সময় বলা হয়েছে, বাসগুলো প্রতি ২৫ দিনে এবং ৩ মাসে মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৬১ হাজার টাকা। ঢাকার বাসগুলোর পেছনে এমন ব্যয় করা হচ্ছে, তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
নগর পরিবহনের বাস গ্যারেজ ও টার্মিনালে রাখার জন্য আলাদা ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ঢাকার কোনো বাসের জন্য আলাদা গ্যারেজ নেই। সড়কের পাশেই থাকে এসব বাস। এক বছর পরপর ইঞ্জিন ওভারহোলিংয়ের (বড় ধরনের মেরামত) জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
পরিবহনের চালক, চালকের দুই সহকারীর মাসিক বেতন এবং উৎসবে দুবার বোনাস ধরা হয়েছে বাসভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে। অথচ এমন বোনাস তাঁরা পান, এমন কোনো তথ্য পরিবহনশ্রমিকদের কাছে পাওয়া যায়নি। আর মাসিক বেতনের প্রচলনও নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রহিম বকস প্রথম আলোকে বলেন, বাসের ভাড়া নির্ধারণের সময় অনেক কিছুই লেখা হয়। কিন্তু শ্রমিকেরা তা পায় না। শ্রমিকেরা বাস চালালে টাকা পায়, নইলে নয়। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া নির্ধারণেও এমন গায়েবি ব্যয় আছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভোটের জন্য প্রস্তুত ১৪০০ প্রতিষ্ঠান’। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সরকারের এক হাজার চারশর বেশি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে উপযুক্ত। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো বাধা নেই। সীমানা বা মামলাজনিত জটিলতাও নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার যে সময়সীমা আইনে উল্লেখ রয়েছে, তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ইসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কমিশন সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসংক্রান্ত যে তথ্য পাঠিয়েছেন, সেখানে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ইসি সূত্র বলছে, এসব নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিকে চিঠি দেয়নি। এ কারণে ইসিও তফসিল ঘোষণা করতে পারছে না। সরকারের সবুজ সংকেত পেলে নির্বাচন আয়োজনের পর্দা উন্মোচন হবে। স্থানীয় সরকারের কোন নির্বাচন আগে হবে, সেটিও জানিয়ে দেবে ইসি। তবে প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই ইসি। সরকার বলামাত্রই তফসিল ঘোষণা করতে বেশি সময় নেবে না।
নির্বাচন উপযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, তিনশর বেশি পৌরসভা, প্রায় ছয়শ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ। এছাড়া আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও দুই হাজার আটশর বেশি ইউনিয়ন পরিষদ তফসিল ঘোষণার জন্য উপযোগী হবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছি। পুরো তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচনের কাজ শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নাকি উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ-কোনটির ভোট আগে হবে; আর কোনটি পরে হবে-তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের চাপে রয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের পর যত সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে, ততই চাপ বাড়তে থাকবে। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই নির্বাচনি আগাম প্রচার চালাচ্ছেন। যদিও সরকার চলমান এসএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুম বিবেচনায় বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করতে চায়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক জনপ্রতিনিধি পালিয়ে যাওয়া, অনেকে আটক হওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেয় ওই সরকার। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আমলাদের সরিয়ে নিজ দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয়। নির্বাচন না দিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়। এমনকি দলীয় প্রশাসক নিয়োগের মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নও তোলে বিরোধী দল। এরপর সমালোচনার মুখে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।
ইসি সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সারা দেশের সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, তফসিল ঘোষণার ক্ষণগণনার সময়সীমা এবং ভোটগ্রহণে আইনগত বাধা আছে কি না-তা জানতে চায় ইসি। ওই চিঠির জবাবে মাঠ কর্মকর্তারা সারা দেশের এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ইসিতে পাঠিয়েছে। ওইসব তথ্য একীভূত করছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দেয়। আইনে পরিষদ ভেঙে দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোট হয়নি। বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন পর্যন্ত এসব নির্বাচনের সবুজ সংকেত দেয়নি। তারা আরও বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য মালামালও কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটও ধরা আছে। অর্থাৎ ইসির সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তবে বিধিমালা সংশোধনের কাজ এখনো শুরু করেনি।
সিটি করপোরেশন : মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা নেই। সবগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপযোগী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ২ জুন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ একই বছরের ১ জুন শেষ হয়েছে। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি। অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মধ্যে ২০২৭ সালে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন, ২০২৮ সালের বিভিন্ন সময়ে সিলেট, রাজশাহী, গাজীপুর, বরিশাল ও খুলনা এবং ২০২৯ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়র অপসারণ করায় ওই পদ আগেই শূন্য হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘সরকারের সামনে অত্যন্ত কঠিন পথ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাইলফলক হলেও নতুন সরকারের সামনের পথ অত্যন্ত কঠিন। এই সরকারের প্রতি জনগণের শক্তিশালী সমর্থন বা ম্যান্ডেট রয়েছে। তবু বিএনপির অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশের অনেকের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তা নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে। ক্রাইসিস গ্রুপ আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ‘বাংলাদেশের নতুন সরকার কাজে নেমে পড়েছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ একটি অলাভজনক বৈশ্বিক বেসরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে।
যুদ্ধ প্রতিরোধ ও আরো শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে সহায়তা করা এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাণঘাতী সংঘাত প্রতিরোধে সতর্কবার্তা দেয়। ক্রাইসিস গ্রুপ প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরছে।
এবারের প্রতিবেদনে ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, নির্বাচনের পরে শুরুর এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি, সুশাসন এবং নিরাপত্তা খাত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বিএনপির। ইরান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবেলা করা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে।
বিএনপির উচিত হবে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করা।
ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। ওই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসনের অবসান হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে—অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করা।
ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। সহিংসতায় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ভোটগ্রহণ তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এর পাঁচ দিন পর ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের সামনে এখন ব্যাপক সংস্কারের জনপ্রত্যাশা পূরণের কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের সবচেয়ে জরুরি কাজ হবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূলে থাকা বিরূপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে পরিবার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর পড়া নেতিবাচক প্রভাব সামাল দেওয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সরকার জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নও করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে রাজনৈতিক সংস্কারের একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে।’
ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতার কারণে।
ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, ‘বিএনপির জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পর যে সীমিত সময়ের সুযোগ রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে বাংলাদেশের জনগণকে দেখানো যায় যে ক্ষমতায় ফিরে এসে তারা আগের চর্চায় ফিরে যাবে না।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘আইএমএফের নতুন ঋণে আগ্রহী বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, চলমান ঋণের পিছিয়ে পড়া কিস্তি ছাড়ের তুলনায় এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নতুন ঋণ নিতে আগ্রহী সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সংকট মোকাবিলায় আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়ে মৌখিক আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে সরকার। ঋণের শর্ত নির্ধারণে এখন দরকষাকষি চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ প্রস্তাব দেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন থেকে ফিরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এসব বিষয়ে অবহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মহামুদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশংটন গিয়েছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ চেয়েছে। উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য আইএমএফ ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংক দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত জরুরি সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তুলনামূলক সহজ শর্তে এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণে পিছিয়ে থাকার কারণে আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পর্যালোচনা মিশন এপ্রিলের পরিবর্তে জুলাইয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ফলে জুনের আগেই দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
জানা গেছে, ওয়াশিংটনে আলোচনায় আইএমএফের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সমন্বয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ছাড়া সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার, টার্নওভার কর আরোপ, করছাড় বাতিল এবং ভ্যাটের অভিন্ন হার চালু করাসহ বিভিন্ন শর্ত বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান আর্থিক অবস্থায় সরকারের কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারও শর্তের অন্তর্ভুক্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন বাড়ায় সরকার অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছেও অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে। আইএমএফের অর্থ ছাড় না হলে অন্য দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে দরকষাকষির মাধ্যমে শর্ত যতটুকু সম্ভব শিথিল করে নতুন ঋণ নিতে চায় সরকার। এর অংশ জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে ‘রাজস্বনীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা নতুন সরকার কার্যকর করেনি। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে একক ভ্যাট হার বাস্তবায়ন, করছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং অটোমেশন কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন সহায়তার অগ্রগতি এবং চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিটি অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তিতে থাকা অনেক শর্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
ইত্তেফাক
‘জ্বালানিসংকটে উদ্বিগ্ন বিদেশি ক্রেতারা, পোশাক খাতে অর্ডার কমছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানিসংকট তীব্র আকার ধারণ করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে ভারতসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় তারা এসব আশঙ্কার কথা জানান। শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট তুলে ধরে তিনি জানান, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এখন শুধু উত্পাদন ব্যাহত করছে না, বরং দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
একজন বিদেশি ক্রেতার বরাতে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, আগামী কয়েক মাসে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই কিছু অর্ডার ভারতে স্থানান্তরিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। তিনি রপ্তানি আয়ের ওপর উেস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন, যাতে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়ে। পাশাপাশি, ব্যবসায় ক্ষতি হলেও ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর পরিশোধের বিধানকে ‘অযৌক্তিক বোঝা’ হিসেবে উল্লেখ করে তা কমানোর আহ্বান জানান।
আলোচনায় বিসিআই পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্প খাত একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। জ্বালানিসংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। ফলে শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে করকাঠামোকে আরো সহনশীল ও বাস্তবমুখী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই সময়ে অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং ডিজিটালাইজেশনের মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে বৈচিত্র্য আনতে ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি ও আইটিইএস, চামড়া ও প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়নে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
করনীতির ক্ষেত্রে বিসিআই কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—সরবরাহ পর্যায়ে উেস কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পৃথক করসুবিধা চালু করা এবং ভ্যাট ব্যবস্থায় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা সম্প্রসারণ করা। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য রপ্তানিমুখী সহায়তা জোরদারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এছাড়া, আয়কর আইনের কিছু ধারা সংশোধনের সুপারিশ করে বিসিআই জানায়, বিদ্যমান কিছু বিধান ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে; যেমন—ব্যাবসায়িক ক্ষতি থাকলেও ব্যাংক সুদের ওপর কর আরোপ বা নির্দিষ্ট খরচ সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অংশকে ‘বিশেষ আয়’ হিসেবে গণ্য করে উচ্চ হারে কর আরোপ করা, এসব বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রাজস্ব কাঠামোয় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, করের হার যৌক্তিকীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব নীতির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সেক্রেটারি জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। একই সঙ্গে করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, ‘ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভ্যাট সংগ্রহ জোরদার এবং সামগ্রিক মূসক ব্যবস্থায় অটোমেশন নিশ্চিত করা জরুরি।’
এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘ভ্যাটের আওতা বাড়াতে সংস্থাটি বদ্ধপরিকর। বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের কম। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় এটি কোটির বেশি হওয়া উচিত।’ তিনি উল্লেখ করেন, করপোরেট করহার ধাপে ধাপে কমিয়ে বর্তমানে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে; এটি আরো কমানোর সুযোগ সীমিত, তবে কার্যকর করহার যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, আগামী অর্থবছর থেকে করপোরেট কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে এবং ভ্যাট ও কর রিফান্ড ব্যবস্থাও পুরোপুরি অনলাইনে আনার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি কর ও ভর্তুকিতে বাংলাদেশ আইএমএফের কঠিন শর্ত মানবে না’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেল, কর কাঠামো এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া কঠিন শর্তগুলো পুরোপুরি না মানার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণের শর্ত পরিপালন করতে গিয়ে জনগণের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা চাপাতে চায় না বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার। মূলত জনস্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এমন কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএমএফের কাছ থেকে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তির বিপরীতে যেসব শর্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার মনে করে, অনির্বাচিত সরকারের চাপিয়ে দেয়া শর্তগুলো হুবহু পালন করলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
আইএমএফের মূল শর্তগুলো
আইএমএফের ঋণের শর্তানুযায়ী প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল: আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা। বিভিন্ন খাতে দেয়া কর রেয়াত (ঞধী ঊীবসঢ়ঃরড়হং) সম্পূর্ণ তুলে নেয়া। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের (ঠঅঞ) একক হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা। বিদ্যুৎ ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা।
সরকারের অবস্থান ও কৌশল
অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের শর্ত মেনে ইতঃপূর্বে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে আপাতত বিদ্যুতের দাম আর বাড়ানো হবে না। এ ছাড়া ভ্যাটের একক হার ১৫ শতাংশ করার দাবিও নাকচ করে দিয়েছে সরকার। ফলে আগামী অর্থবছরেও খাতভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হার বহাল থাকবে।
কর রেয়াতের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত হলো-আগামী বাজেটে কিছু ক্ষেত্রে রেয়াত সুবিধা কমানো হলেও তা পুরোপুরি বাতিল করা হবে না। বিশেষ করে কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় তা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে উচ্চপর্যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে আইএমএফের ঋণ চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না যা সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে গত ১৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত। তাই জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো কঠিন শর্ত মেনে নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অনির্বাচিত সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সব শর্ত বর্তমান সরকার মেনে নিতে বাধ্য নয়।
বণিক বার্তা
‘অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে চায় সরকার’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে এসেছে। এ আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করের পাশাপাশি এনবিআর-বহির্ভূত করও রয়েছে।
রাজস্ব আহরণ কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে। এর মধ্যেই আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে আলাপ-আলোচনা চলছে।
এমন এক সময়ে সরকার ইতিহাসের এ সর্বোচ্চ আকারের বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই চলছে মন্দা। দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে ৯ শতাংশের ঘরে। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির মৌলিক সব সূচকই নিম্নমুখী। রফতানি খাতও প্রসারিত না হয়ে সংকোচনের মুখে পড়েছে। স্থবিরতা বিরাজ করছে বেসরকারি বিনিয়োগে। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশের ঘরে। ব্যাংক খাত ধুঁকছে ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণের ভারে। নেতিবাচক এত সব সংবাদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যার প্রভাবে ভেঙে পড়েছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিপদের মুখে বিদ্যুৎ খাতও।
অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিচারে এখন সময় হলো দেশের অর্থনীতি ও মানুষকে রক্ষা করার। এজন্য নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হতে হবে বাস্তবসম্মত, সংস্কার ও কর্মসংস্থানমুখী এবং আস্থা ফেরানোর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে বাছবিচার ছাড়াই বাজেটকে টেনে লম্বা করেছে। ঘোষিত বাজেটের ২০-২৫ শতাংশ অবাস্তবায়িত থাকলেও পরবর্তী অর্থবছরের জন্য দিয়েছে আরো বড় বাজেট। বিএনপি সরকারকে অতীতের এ পথ অনুসরণ করলে হবে না। নির্বাচিত এ সরকারের প্রথম বাজেট হতে হবে দেশের অর্থনীতিকে নতুন পথে এগিয়ে নেয়ার একটি রোডম্যাপ।
যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দার এ সময়কে ‘বেঁচে থাকার’ ও ‘ভেসে থাকার’ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক এ মুখ্য অর্থনীতিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের জন্যই একটি দুঃসময় চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঝুঁকি শিগগিরই কাটবে না। এ খাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। এ পরিস্থিতিতে উচ্চাভিলাষী কোনো বাজেটের চিন্তা করাই উচিত নয়। যদিও আমরা শুনছি, সরকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে।’
নতুন বাজেটে আলোচিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যের বিষয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স মিলিয়ে সরকারকে ৫ লাখ কোটি টাকা আয় করতেই ঘাম ছুটে যায়। সেখানে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের চিন্তা করা অলিক কল্পনা। আমরা ধরে নিচ্ছি, সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ছাপাবে না, রিজার্ভে হাত দেবে না। তাহলে বড় বাজেটের অর্থ আসবে কোথা থেকে? সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের কথা বলে টাকা ছাপায়, তাহলে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, লোকদেখানো বড় একটি বাজেট দিয়ে ছয় মাস না যেতেই কাটছাঁট শুরু করে। এটা করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনেক বরাদ্দও বাদ পড়ে যায়। তাই যে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সেটি আমরা কেন করব?’
বাজেট প্রণয়নের আগে প্রতি বছরই অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে এনবিআর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য এখন এনবিআরে চলছে প্রাক-বাজেট আলোচনা। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলছে আগামী বাজেটের রূপরেখা তৈরির কাজ। এনবিআরে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সব পক্ষই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমা অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেয়া বিভিন্ন খাত থেকে কর প্রত্যাহারের দাবিও উঠছে। অংশীজনদের সমস্যা ও সংকট নিরসনে কিছু দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের তরফে সুপারিশও রয়েছে। এটি হলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ছোট হবে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘উপজেলা পরিষদে কার্যালয়: এমপিদের খবরদারির সুযোগ উপজেলায়’। খবরে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্যের (এমপি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পরিষদে বসার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। কক্ষ তৈরির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পরিষদে কক্ষ করার বিধান না থাকায় আইনি জটিলতা এড়াতে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নামের ওই কক্ষে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বসার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদে বসার ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানে তাঁদের খবরদারির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলে সেখানে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের কার্যক্রমে তার প্রভাব পড়বে।
জাতীয় সংসদে গত ৩১ মার্চ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা করে দেওয়ার দাবি জানান। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ ২১ এপ্রিল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য উপজেলা পরিষদে উন্নতমানের আসবাবে সজ্জিত; ওয়াশরুমসহ একটি পরিদর্শন কক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত মঙ্গলবার সংসদে বিষয়টি জানান। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের নামে কক্ষ বরাদ্দের বিধান না থাকায় এর নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের নামে কক্ষ বরাদ্দের নিয়ম না থাকায় আইনি জটিলতা এড়াতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদেরও ওই কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, সচিব ছাড়াও মন্ত্রণালয়-বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শনে যান। কোথাও তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা নেই। উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা ঠিক করতে পরিদর্শন কক্ষে তাঁদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বসার সুযোগও রাখা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদে শুধু সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করলে আইন লঙ্ঘন হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা অধিশাখার যুগ্ম সচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, শুধু তো সংসদ সদস্যদের জন্য ওই পরিদর্শন কক্ষ করা হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও সেখানে বসবেন। ফলে আইন লঙ্ঘন হচ্ছে না।
১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন এইচ এম এরশাদ সরকার উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা চালু করে। ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ২০০৯ সালে এই ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়। উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা। উপজেলা পরিষদকে উপদেষ্টার পরামর্শ নিতে হয়।
উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার জায়গা তৈরিকে স্থানীয় সরকারের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজকের পত্রিকাকে তিনি গতকাল বুধবার বলেন, ‘এটা আমাদের স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে। স্থানীয় নির্বাচনও হবে না, যদিও এটা শাসনব্যবস্থার একটা উল্লেখযোগ্য স্তম্ভ। এটা সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
