প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পরবর্তী ধাপ কী হবে। তখন তার ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে ইরানের সঙ্গে পরবর্তী দফা আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন একটি বড় সমস্যার মুখে পড়ে ইরানের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এর আগের দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ইরানকে একটি ‘বিস্তৃত চুক্তির খসড়া’ পাঠায়। সেখানে পরবর্তী আলোচনার আগে কিছু মৌলিক শর্ত মেনে নিতে বলা হয়। কিন্তু কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো জবাব আসেনি ইরানের পক্ষ থেকে। তিনজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, এই নীরবতা যুক্তরাষ্ট্রকে সন্দিহান করে তোলে পাকিস্তানে গিয়ে সরাসরি আলোচনায় ভ্যান্স ও অন্যরা আদৌ কোনো অগ্রগতি করতে পারবেন কি না।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। বৈঠকের সময়ও ইরান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের নীরবতার পেছনে একটি বড় কারণ হলো দেশটির নেতৃত্বের ভেতরে বিভাজন। এই তথ্য তারা পেয়েছে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে। ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এখনো একক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে। এসবই আলোচনার প্রধান বাধা। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি তার অধীনস্থদের স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন কি না, নাকি তারা নিজেরাই অনুমান করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, খামেনির গোপন থাকার প্রবণতা সরকারের ভেতরের সমন্বয় আরও দুর্বল করে দিয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতি সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলায় ফিরে না গিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে এবার তিনি কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ ঘোষণা করেননি। তিনি তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরান সরকারের ‘গভীর বিভক্ত’ অবস্থা উল্লেখ করেন। প্রশাসনের ধারণা, ট্রাম্প এখনো একটি কূটনৈতিক সমাধান চান এবং এমন একটি যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে চান না যা তিনি অজনপ্রিয় এবং ইতিমধ্যে ‘জয়ী’ বলে দাবি করেছেন। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, আলোচনা ভেঙে পড়া আবারও দেখাচ্ছে যে, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান যা তার কঠোর শর্ত পূরণ করবে, কিন্তু তা পাওয়া সহজ নয়।
ইরান প্রকাশ্যে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ না তুলে নেয়, তাহলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। ট্রাম্প এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালি খুলব না। এ কারণে দুই পক্ষই এক ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান উভয় পক্ষকেই আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা একই সঙ্গে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্যও চাপ দেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ঘোষণা দেন- যুদ্ধবিরতি ‘বাড়ানো হলো যতক্ষণ না নতুন প্রস্তাব আসে এবং আলোচনা শেষ না হয়, যেকোনো ফলাফলে।’
ইরানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়। ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা অর্থহীন। পরাজিত পক্ষ শর্ত চাপাতে পারে না। অবরোধ চালিয়ে যাওয়া বোমা হামলারই সমান এবং এর জবাব সামরিকভাবে দিতে হবে।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরও পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। মার্কিন প্রশাসনের আশা ছিল, এই সপ্তাহে একটি প্রাথমিক কাঠামো চুক্তি তৈরি হবে, যা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে। কিন্তু এখনো বড় কয়েকটি ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ভবিষ্যৎ, মজুত ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ এবং কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তির মতো কোনো সমঝোতা না করা। জেসিপিওএ চুক্তি তিনি ২০১৮ সালে বাতিল করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন। তিনি এখনও আশাবাদী যে, তার কৌশলে একটি ভালো চুক্তি সম্ভব। তবে একই দিনে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কিছু নেতৃত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শেষ পর্যন্ত, দিনের শেষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ট্রাম্প যুদ্ধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে নীরব থাকেন, যা ছিল তার জন্য ব্যতিক্রমী আচরণ।

পারভেজ
১ মাস আগেপ্রশ্নে নীরব থাকেন, মানে হয়তো পাগল যেকোন সময় স্থলযুদ্ধ শুরু করতে পারে, কোরবানির ইদ পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই