ট্রাম্প আরও কঠোর হলে বিশৃংখলার দায় তারই হবে

ডনের সম্পাদকীয়

ট্রাম্প আরও কঠোর হলে বিশৃংখলার দায় তারই হবে

ফন্ট সাইজ:

ইসলামাবাদ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার দ্বিতীয় দফা আয়োজনের জন্য। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- আলোচনা আদৌ হবে কি?
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তাহলে তেহরানের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের বিমানে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম।

তবে এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই যে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন উত্তেজনা কমাতে এবং সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা দেখাতে অবরোধ তুলে নেয়ার পথে যাচ্ছে। বরং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সামরিক বাহিনী ‘প্রস্তুত রয়েছে’। এই প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ‘হুমকির ছায়ার নিচে’ কোনো আলোচনায় বসবেন না।

যদিও ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পুনরায় চালু করার আহ্বান জানাচ্ছে, তবুও সংঘাতের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল- এমনটাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই কারণে পরিস্থিতি শান্ত করার দায়িত্বও মূলত তাদের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের- এমনকি তা কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেও হতে পারে।

বর্তমান মার্কিন নেতৃত্ব নিজেদের ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ শুরু করার অতিরঞ্জন বা ভুল স্বীকার করতে রাজি নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির স্বার্থে এখন তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিতে হবে। এর বিপরীতে তেহরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরাইলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে- এমনটাই বলা হচ্ছে।

এখানে দুটি পথ খোলা। এক, দুই পক্ষই আপস করে যুদ্ধবিরতি বাড়াবে এবং ইসলামাবাদে বসে একটি চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করবে। অথবা দুই, আবারও যুদ্ধের পথে ফিরে যাবে। মাঝামাঝি কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।

ইরানের পারমাণবিক ইস্যুকে বারবার সামনে আনছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই ইস্যুর বড় একটি অংশই সমাধান হয়েছিল জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর মাধ্যমে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কোনো গভীর বিবেচনা ছাড়াই ওই চুক্তি বাতিল করেন। এমনকি সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেলআবিব যুদ্ধ শুরু করে দেয়

অতএব, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই পারমাণবিক ইস্যু শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায়, তাহলে তা সম্ভব। কিন্তু যদি তারা হুমকি ও চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
প্রায় পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়- ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় ডানপন্থী অংশ ছাড়া, এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত হবে ইরানকে দেখানো যে, যুক্তরাষ্ট্র আপস ও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু যদি তিনি আরও কঠোরতা ও হুমকির পথে যান, তাহলে সৃষ্ট যে কোনো বিশৃঙ্খলার দায় মূলত তারই হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন