মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দিলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এমনটা জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করতে চাননি তারা। তবে তারা জানান, সম্ভাব্য এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও গুরুতর সংঘাতে রূপ দিতে পারে। এই তথ্য প্রকাশের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বও বেড়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনা করার কথা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকবেন ওমানের প্রতিনিধিরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান চান। তবে ‘এটি খুবই কঠিন।’ ওদিকে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। পেন্টাগন অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। সঙ্গে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম যোগ হয়েছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, এটা (সরকার পরিবর্তন) হলে সেটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো হতো। তবে কাকে তিনি ক্ষমতায় দেখতে চান, তা স্পষ্ট করেননি।
ট্রাম্প অতীতে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে শেষ যে কাজটি করতে চান, তা হলো স্থলবাহিনী পাঠানো। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে, তা মূলত বিমান ও নৌ-অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল এবং জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে একটি এককালীন হামলা চালিয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্টেলথ বোমারু বিমান উড়ে গিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
তবে এবার পরিকল্পনা আরও জটিল। কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি। পাল্টা হামলা হলে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি আশা করছে যে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে। ফলে পাল্টা-পাল্টি আঘাত ও প্রতিশোধের চক্র তৈরি হতে পারে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তাতে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি নয়। শনিবার ইরানের প্রবাসী বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি বলেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানে জীবন বাঁচাতে পারে এবং ওয়াশিংটনকে দীর্ঘ আলোচনায় সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া ইরানের শাহের পুত্র পাহলভি দাবি করেন, ইরান সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং সামরিক হামলা পতন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এই হামলা প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে এবং জনগণ আবার রাস্তায় নেমে চূড়ান্তভাবে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারবে।

zabed
৩ মাস আগেসকল মুসলিম রাষ্ট্রকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে।