যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হলে তেহরানের হাতে ‘নতুন কার্ড’ রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়ে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে কোন আলোচনায় অংশ নেবে না ইরান। ফলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করার পর তেহরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় না যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় আজ শেষ হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, এই সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
যদিও উভয় দেশই যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তবুও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছেই। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। শুরুতে ইসলামাবাদে মঙ্গলবার আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যেতে পারে। ওয়াশিংটন আবারও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি দল পাঠাচ্ছে। এই দলে রয়েছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তবে আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যায় এবং কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে ‘অনেক বোমা বিস্ফোরণ শুরু হবে।’
পিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাহলে অনেক বোমা পড়তে শুরু করবে। তাদের সেখানে থাকার কথা। আমরা সেখানে থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছিলাম, যদিও তারা বলছে আমরা হইনি। দেখা যাক কী হয়। ইরানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তারা না এলেও সমস্যা নেই।
মতবিরোধের কারণ
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের ধরন এবং চলমান মার্কিন অবরোধ- এই দুটি বিষয়ই আলোচনার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। তার দাবি, চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষ অনেকটাই একমত হলেও ট্রাম্পের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও একই ধরনের বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার না করতে এবং ইসলামাবাদের আলোচনাকে উভয় পক্ষের জন্য জয়-জয় পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হচ্ছে- যুদ্ধবিরতির সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ততই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, আর সংঘাত আবার জ্বলে ওঠার ঝুঁকিও বাড়ছে।
