সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের রচনা হলো। এই প্রথম একসঙ্গে পাঁচ ক্রিকেটারকে নাগরিকত্ব দিলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশে তিন বছর বসবাস করলে দেশটির হয়ে খেলা যায়। তবে এই পাঁচজন সরাসরি রাষ্ট্রীয় ‘ন্যাচারালাইজেশন’ বা স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেলেন। এই পাঁচজনের একজন পাকিস্তানি এবং বাকিরা ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
আইসিসির নিয়ম মেনে এতদিন তিন বছর প্রবাসে থাকার পর ইউএইর জার্সিতে খেলার সুযোগ পেতেন ক্রিকেটাররা। ২০১৮ সালের এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে ফুটবল, রাগবি বা জুডোর মতো খেলায় নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি হলেও, ক্রিকেটে তা অধরা ছিল। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্যমতে, এই পাঁচ ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সেই প্রথা ভাঙলো। এখন থেকে তারা আমিরাতের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেই পাঁচজন হলেন খুজাইমা তানভীর, অজয় কুমার, অক্ষদীপ নাথ, হারপ্রীত ভাটিয়া ও আদিব উসমানি। এদের মধ্যে খুজাইমা তানভীর পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের সন্তান। ২৬ বছর বয়সী এই পেসার ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি লীগ (আইএল টি-টোয়েন্টি) এবং টি-টেনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বাকি চারজনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ৩২ বছর বয়সী অক্ষদীপ নাথ ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগেও (আইপিএল) খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ৩৪ বছর বয়সী হারপ্রীত ভাটিয়াও আইপিএলে মাঠ মাতিয়েছেন। এছাড়া ২৯ বছর বয়সী অজয় কুমার ও ২৮ বছর বয়সী আদিব উসমানিও ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত মুখ।
নতুন নাগরিকত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত অজয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘যেদিন ইউএইতে পা রেখেছিলাম, সেদিন থেকেই দেশটির হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল।’ আরব আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খুজাইমা তানভীর বলেন, ‘আপনি যদি আপনার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান, তবে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটি এক অসাধারণ অনুভূতি।’
বর্তমানে এ পাঁচ ক্রিকেটার ইউএই’র নেপাল সফরে ১৭ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন। আজ বিকালে নেপালের কীর্তিপুরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই নতুন নাগরিকদের অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে।

Nurul Amin FCMA
১ মাস আগেযোগ্য খেলোয়াড় বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানেও তো রয়েছে। মুসলমানরা দাদা প্রীতি ছাড়তে পারল না।