দাম বাড়লেও চাপ কমেনি পেট্রোল পাম্পে

দাম বাড়লেও চাপ কমেনি পেট্রোল পাম্পে

ফন্ট সাইজ:

জ্বালানি তেলের সংকট যেন কাটছেই না। ভোগান্তি চরমে। এরই মাঝে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে, তেলের দাম বাড়ানো হলেও দাম বাড়ার প্রভাব পড়েনি পাম্পগুলোতে। আগের মতোই চাপ দেখা গেছে। লম্বা লাইন, হুলুস্থুল আর তেল নিতে ভোগান্তিও কমেনি। দাম সমন্বয়ের পর ভিড় কিছুটা কমবে এমনটি মনে করা হলেও রোবরার রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গণপরিবহনের জ্বালানি ডিজেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোরও দাবি উঠছে।
শনিবার রাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাবে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। রোববার থেকে পাম্পগুলোতে এই দাম কার্যকর হলেও চাপ ছিল আগের মতোই।

সরজমিন মতিঝিল রহমান ফিলিং স্টেশন, মেঘনা ফিলিং স্টেশন, করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন, রমনা ফিলিং স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস, পূর্বাচল ট্রেডার্স ও তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতোই পাম্পে তেল নিতে বাইকাররা লম্বা লাইন ধরে আছেন। কেউ কেউ রাতভর লাইনে থেকে সকালে বা দিনের বেলা তেল নিতে পারছেন। সকালে বা দিনের বেলা যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারাও তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের মতোই রয়েছে ভোগান্তি। দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েনি কোথাও।

শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে দেখা দেখা যায়, বাংলামোটর এলাকা থেকে গাড়িচালকরা লাইন ধরেছেন তেল নিতে। পাম্পটিতে দুপুর ৩টার দিকে ফের গিয়ে দেখা গেছে, লাইনে থাকা চালকরা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে পারছেন। মতিঝিল রহমান ফিলিং স্টেশনে চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেই লাইন ছাড়িয়ে গিয়েছে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পেয়েছেন চালকরা। অপেক্ষা করতে করতে অনেকে মোটরসাইকেলের উপর ঘুমিয়ে পড়েন। সেখানে সড়কের অর্ধেক দখল করে ছিল তেল সংগ্রহে আসা বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি আর ফুটপাথের উপর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোটরসাইকেল চালকরা। সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্যে সকাল থেকেই শুরু হয় তেল বিক্রি। তার পাশেই মেঘনা ফিলিং স্টেশনে তেল সংকট থাকায় ৩০০ টাকার অকটেন বিক্রি করা হচ্ছিল। এখানেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কেউ অপেক্ষা করছেন ৩ ঘণ্টা ধরে আবার কেউ করছেন ৪ ঘণ্টা ধরে।

মতিঝিল রহমান ফিলিং স্টেশনে ৪ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওয়ারেজ হোসেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক তেলের সংকট চলছে এটা সত্য। দাম বাড়িয়েছে এটা মেনে নিচ্ছি কিন্তু পাম্পগুলোতে ভিড় কমলে খুশি হবো। ২০ টাকা বাড়তি দিয়ে যদি সহজে তেল পাই তাহলে আর ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

মেঘনা মডেল সার্ভিসে কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা মালেক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম তেলের দাম বাড়ার ফলে সিরিয়াল কম হবে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তেল নিতেই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সরকার বলছে তেলের সংকট নেই অথচ পাম্পগুলোতে তেলের সংকট রয়েছে। রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেয়া হচ্ছে কেন? তেলের দাম যেহেতু বাড়ানো হয়েছে তাই রেশনিং পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া উচিত। সবাই পরিমাণ মতো তেল পায় না বিধায় পাম্পে লম্বা লাইন হয়, বারবার পাম্পে আসতে হয়।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তেলের পাম্পের কাছাকাছি আসেন শেয়ার রাইড চালক রোমান আলী। তিনি বলেন, ২০ টাকা বেশি দিয়ে যদি তাড়াতাড়ি তেল পাই তাহলে বাড়তি দাম দিয়ে তেল কেনা ভালো। কারণ এই সময়ে ১ হাজার টাকার মতো আয় করতে পারবো।

বেড়েছে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারের ভাড়া
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারের ভাড়া। স্বল্প দূরত্বে মোটরসাইকেল ভাড়া ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম ও পাম্পের দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে ভাড়া বাড়িয়েছেন তারা।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে রাইড শেয়ার চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করছিলেন মোরশেদ আলম। তিনি বলেন, সাধারণত এখান থেকে লিংক রোডে ১৫০ টাকা দিয়ে যাই। গতকালও গিয়েছিলাম কিন্তু এখন সেই ভাড়া ২০০ টাকার নিচে যাচ্ছে না। রাইডার বলছে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হয় তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন তারা। ফার্মগেট থেকে গুলশান-২ যাচ্ছিলেন আনোয়ার ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল ১৬০ টাকা দিয়ে এসেছি। অথচ আজ ২২০ টাকার নিচে যাবে না বলছে চালকরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে শুধু ভাড়া নয় খাদ্য পণ্যেরও দাম বৃদ্ধি পাবে।

Quazi Hassan

১ মাস আগে

এর পরের সমাধান কি

মন্তব্য করুন