নিউইয়র্ক সিটিতে মামদানি ও ওবামা মুখোমুখি সাক্ষাৎ

নিউইয়র্ক সিটিতে মামদানি ও ওবামা মুখোমুখি সাক্ষাৎ

ফন্ট সাইজ:

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার ব্রঙ্কসের একটি শিশু যত্নকেন্দ্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাতে, মামদানি ও ওবামা শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শিশুদের বই থেকে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে সময় কাটান তারা। মামদানির প্রেস সেক্রেটারি জো ক্যালভেলোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের গান গাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে দুই নেতা শহরের জন্য মেয়রের পরিকল্পনা এবং নিউইয়র্কের শিশুদের সবচেয়ে ভালো যত্ন নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নিউইয়র্ক সিটির প্রথম সার্বজনীন চাইল্ডকেয়ার কর্মসূচি চালুর। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তার প্রশাসন রাজ্য থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে, যাতে সারা শহরে বিদ্যমান প্রি-কে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা যায় এবং আগামী শরৎ থেকে সীমিত সংখ্যক দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য চাইল্ডকেয়ার সুবিধা বাড়ানো যায়। সূত্র জানায়, শ্রেণিকক্ষে যোগ দেয়ার আগে ওবামা ও মামদানি সংক্ষিপ্ত একটি ব্যক্তিগত বৈঠকও করেন।

গত নভেম্বর মামদানির নির্বাচনের পর থেকেই দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের পরিকল্পনা চলছিল। এ সপ্তাহান্তে ওবামার নিউইয়র্ক সফরের সুযোগে তা বাস্তবায়িত হয়। পলিটিকো প্রথম এই সাক্ষাতের খবর প্রকাশ করে। ওবামা বা মামদানি কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। ভবন ত্যাগ করার সময় তারা বাইরে থাকা ক্যামেরার দিকে হাত নেড়ে সংক্ষিপ্ত অভিবাদন জানান। নির্বাচনের আগে নভেম্বর মাসে দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছিল বলে তিনটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সময় মামদানিকে ওবামা বলেন, একটি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট দেশের সবচেয়ে বড় শহর কীভাবে পরিচালনা করেন, তা অনেকেই পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো ভুল হলে সমালোচকরাও অপেক্ষা করে থাকবে। ২০২৫ সালের নির্বাচনে তিনি মামদানিকে সমর্থন না করলেও, ভালো কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার ওপর জোর দিতে বলেন। এই আলাপ মামদানিকে নির্বাচনে লড়া ও শাসন করার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে বলে সিএনএনকে একটি সূত্র জানায়।

মামদানি এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। গত বছর এবং এ বছরের শুরুতে তাদের ওভাল অফিস বৈঠকগুলো বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। তবে এই সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বড় হাতের অক্ষরে লিখে অভিযোগ করেন, মামদানি তার নতুন ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ককে ধ্বংস করছেন। এই নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে। মামদানি জানাননি, ট্রাম্পের ওই পোস্টের পর তার সঙ্গে আর কথা হয়েছে কি না। তবে তিনি বলেন, এই নীতির বিষয়ে ট্রাম্পের ভিন্নমত তাকে অবাক করেনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন