একেক ঘটনায় ঘুম হারাম সিলেট নগর পুলিশের। ছিনতাই হচ্ছে, অপরাধীরা ধরাও পড়ছে। তবে কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। চলছে গোয়েন্দা নজরদারিও। এই অবস্থায় পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন- অপরাধী ধরতে মূল ভূমিকা রাখেন মাঠ কর্মকর্তারা। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে মাঠের পুলিশ এখনো পুরোপুরি অ্যাক্টিভ হয়নি। কিছুটা ভয় এখনো রয়ে গেছে। আর এই সুযোগে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তবে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অপরাধী গ্রেপ্তারে অভিযান জোরালো করা হয়েছে। সিলেট নগর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারাও এখনো দিন-রাত মিলিয়ে ১৮ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। তারাও মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানে রয়েছেন। সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিলেটে ছিনতাইকারী তালিকা প্রস্তুতের কথা জানিয়েছিলেন।
এর সংখ্যা ২৬৩ জন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী রয়েছে। পুলিশ চিহ্নিত ছিনতাইকারীসহ ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত অর্ধেকের বেশি ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছিনতাই প্রবণ এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন- সিলেটের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অন্যান্য নগর থেকে ভালো রয়েছে। আরও যাতে ভালো যায় সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। এদিকে গত ১৪ই এপ্রিলের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফের বিব্রতকর অবস্থায় নগর পুলিশ। অপরাধ ঘটলেই এখন ভাইরাল হয়। এর কারণ সিসিটিভিতে ধরা পড়ে অধিকাংশ ছিনতাই। ওইদিন নগরের দক্ষিণ অংশের হবিনন্দি এলাকায় এক সরকারি চাকুরের স্ত্রী প্রাতঃ ভ্রমণে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনা সিলেটে ভাইরাল হয়েছে। মোগলাবাজার থানার ওসি মনির আহমদ ঘটনায় বিব্রত। তার মতে; তার এলাকায় এ ধরনের ঘটনা গেল কয়েক মাসে ঘটেনি। হবিনন্দির ঘটনা বহিরাগত ছিনতাইকারীরা ঘটাতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। ওই ঘটনায় যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল ওই নম্বরটি ভুয়া ছিল। তবে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এ ঘটনার আগে গত রমজানে নগরের সাগরদিঘীরপাড়ে ও হাউজিং এস্টেটে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ভাইরাল হয়। এ দুটি ঘটনার পর নগরে ছিনতাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে গতকাল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- চলতি বছরে গত সাড়ে ৪ মাসে মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ছিনতাইকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, চোর, ডাকাত ও চোরাচালানকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জন ছিনতাইকারীসহ ৮৩৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া- মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১৪ পিস ইয়াবা, ৭১০ বোতল বিদেশি মদ, ৮৫ লিটার চোলাই মদ, ১ কেজি ৭৮০ গ্রাম গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা এবং ৪৯ জন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭ জন চোর-ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ভারতীয় অবৈধ মালামাল হিসেবে ১৫০ কেজি জিরা, ২ হাজার ৪৮০ কেজি ফুসকা, ২ হাজার ৫২০ পিস চকলেট, ১৪টি মহিষ, ১০ হাজার ৪৪০ পিস চশমা, ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০ টাকার কসমেটিক্স, ২৭টি শাড়ি এবং ৭৫ বস্তা চা পাতা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ১ হাজার ৬৫৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৪৩টি মামলায় জরিমানা এবং ১ হাজার ১১টি যানবাহন আটক করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানিয়েছেন- গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
