পাবনার ঈশ্বরদীতে তেলজাতীয় ফসল সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। গত দুই বছরের ব্যবধানে এ উপজেলায় সূর্যমুখীর আবাদ ১৫০ হেক্টর থেকে বেড়ে ২০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা এই ফুল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এবার মূলত ভারতীয় ‘টাটা’ জাতের হাইব্রিড সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষকরা। পৌর এলাকার নারিচা গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম এবার দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখী লাগিয়েছেন। তিনি জানান, সরকারি দপ্তর থেকে বীজ পেলেও জমি তৈরি, সার, সেচ ও শ্রমিক মিলিয়ে বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এপ্রিলের শেষদিকে ফসল ঘরে তুলবেন বলে আশা করছেন তিনি। খাইরুল ইসলাম আরও জানান, প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ বীজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে সাধারণ দরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি খরচ বাদে লাভ থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে সরকারি সংস্থা বিএডিসি এই বীজ প্রতি মণ ৬ হাজার টাকা দরে কেনে, যা বাজারের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী থেকে শুধু তেলই নয়, উন্নত মানের খৈল ও জ্বালানি হিসেবে খড়ও পাওয়া যায়। প্রতি মণ বীজ থেকে গড়ে ১৪ লিটার ভোজ্য তেল পাওয়া সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন- দেশে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার সরিষা ও সূর্যমুখী চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ঈশ্বরদীতে দিন দিন এ দুটি ফসলের আবাদ বাড়ছে এবং চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।
ঈশ্বরদীতে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
১৯ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
