জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ চেয়ে গত ৯ই এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ৩০শে এপ্রিল আবেদনের শেষ সময়। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে আড়াইশ’র বেশি। আগামীকালের মধ্যে তিনশ’র কোটা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা। এটিকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। আর বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল হাসান হিল্টন এটাকে দেখছেন বাফুফের নতুন কমিটির সফলতা হিসেবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নিতে একসময় বড় প্রোফাইলের কোচরা খুব একটা আগ্রহ দেখাতেন না। কোনোমতে কাউকে নিয়োগ দেয়া হলেও, তার সঙ্গে বিদায়টাও সুখকর হতো না বাংলাদেশের। তবে গত এক বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট। হামজা-শমিতদের মতো তারকারা যোগ দেয়াতে এক বিজ্ঞপ্তিতে নামীদামি কোচদের আবেদনের হিড়িক পড়েছে। সদ্য সাবেক হওয়া কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও আবেদন করেছেন নতুন করে। এবারের বিশ্বকাপে নাম লেখানো এল সালভাদরের এক সময়ের হেড কোচ ডেভিড ডোনিগার আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। এই তালিকায় আছেন লেবাননের সাবেক হেড কোচ মিওদ্রাগ রাদুলোভিচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো লেবাননের ডাগআউটে ছিলেন মন্টেনেগ্রোর এই কোচ। এছাড়াও ৬টি দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো জার্মান কোচ অ্যান্টইন হে’র মতো হাইপ্রোফাইল কোচও আবেদন করেছেন বাফুফেতে। আছেন ভারতের সাবেক ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচও। বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে এত আবেদন দেখে কিছুটা অবাক সহসভাপতি ফাহাদ করিম। এ বিষয়ে মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে খুশি হবেন বাংলাদেশের কোচ হতে অবিশ্বাস্য রকম আবেদন পড়ছে। আমার জানা মতে বুধবারই ২৫০-এর অধিক আবেদন পড়েছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক বড় অর্জন; যে আমাদের জাতীয় দলের জন্য এত লোক আবেদন করেছে। আমাদের জন্য এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।’ দীর্ঘ এই তালিকায় বাংলাদেশের দুই জনের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের একজন ২০১৫ সালে প্রথম জাতীয় দল নিয়ে ভারতের সাফে যাওয়া কোচ মারুফুল হক গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে আবাহনী লিমিটেডের এই কোচ বলেন, ‘আমি এবার জাতীয় দলের কোচ পদে কোনও আবেদন করিনি। যা শুনেছেন তা ঠিক না। এর চেয়ে বেশি কিছু আমার বলার নেই।’ তার সাফের ওই আসরে মারুফুল হকের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করা জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু এবার হেড কোচ হতে আগ্রহী। আবার বয়সভিত্তিক দলের কোচ হিসেবেও আবেদন করেছেন। মিন্টু একই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাফুফে কোচ পদের জন্য যেসব যোগ্যতা চেয়েছে, তা আমার আছে। তাই আমি অনূর্ধ্ব-২০ ও জাতীয় দলের কোচের জন্য আবেদন করেছি।’ ক’দিন আগে বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ এশিয়ান অঞ্চলের কোচ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখবেন। ফাহাদ করিম বলেন, ‘২৫০ থেকে খুব সম্ভবত ৫০ জনের একটা পুল করা হবে। তারপর অবশ্যই আমাদের সভাপতি নিজে সাক্ষাৎ নেবেন। কারণ এই পর্যায়ে সাক্ষাৎকার তিনি নিজে নেন।’ আবেদনের তালিকা এতো লম্বা হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিল্টনের মতে, বাংলাদেশ দলের ক্রমবর্ধমান ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ এবং হামজা-শমিতদের মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির কারণেই কোচদের এই আগ্রহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফুটবল আগের অবস্থায় নেই। হামজা-শমিতরা আসার পর ব্র্যান্ড ভ্যালু অনেক বেড়েছে। সবাই যে এখন বাংলাদেশের ফুটবল ফলো করেন, কোচদের এই আগ্রহ তারই প্রমাণ। আপনার হাতে যখন হামজার মতো ফুটবলার থাকবে তখন মাঠে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়ে যাবে।’ হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ৩০শে এপ্রিল। তার আগে গত ৯ই এপ্রিল বাফুফে তাদের ফেসবুক পেজে নতুন কোচ চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
হামজাদের কোচ নিয়োগ
এক সপ্তাহে আড়াইশ’র বেশি আবেদন
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৮ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
