অনভিজ্ঞ কিউইদের সঙ্গেই পারলো না মিরাজরা

অনভিজ্ঞ কিউইদের সঙ্গেই পারলো না মিরাজরা

ফন্ট সাইজ:

নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হার দেখলো বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে ব্যাটিং ‘ধসে’ ২৬ রানে হারে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সফরকারীদের অনভিজ্ঞ দল দেখে জয়ের বড় আশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। কিন্তু ২৪৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হতাশ করেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা । ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরুতে মাত্র ২১ রানে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এতে চাপে পড়ে দলটি। সেখান থেকে সাইফ হাসান ও লিটন দাস প্রতিরোধ গড়েন। তারা দুজন ৯৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন। সাইফ তুলে নেন চমৎকার এক ফিফটি। লিটনের বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন হাল ধরেন। তারা ৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন। কিন্তু শেষ দিকে কিউই পেসার ব্লেয়ার টিকনারের বোলিংয়ে হঠাৎ পথ হারায় স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৭ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারায় দলটি। জয়ের জন্য শেষ দিকে প্রয়োজন ছিল ৫৭ বলে ৬৪ রান। হাতে তখনো অক্ষত ছিল ৫ উইকেট। ঠিক তখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রতিপক্ষ। টিকনার ও স্মিথ মিলে শেষ ভাগে স্বাগতিক ব্যাটারদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি। ম্যাচ শেষে হতাশ সাইফ হাসান বলেন, ‘না, আমার মনে হয় উইকেটটা ফার্স্ট থেকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। বাট কিছু রং টাইমে আমাদের উইকেটগুলো পড়েছে। যেমন আমার উইকেটটা যদি আমি আরেকটু ক্যারি করতে পারতাম, সেট ব্যাটসম্যানের জন্য একটু ইজি ছিল। নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য একটু টাফ ছিল। বাট এটাই আর কি আমাদের এডজাস্ট করতে হবে।’

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে সফরকারীরা। প্রথম দিকে উইকেট হারালেও তারা ঘুরে দাঁড়ায়। হেনরি নিকলস ও ডিন ফক্সক্রফট হাল ধরেন। দু’জনের দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের ভিত পায় দলটি। নিকলসের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৬৮ রান। অন্যদিকে ফক্সক্রফট করেন ৫৯ রান। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম দারুণ বল করেন। তিনি সবচেয়ে কৃপণ বোলিং করেন ম্যাচে। ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৭ রান খরচ করে তুলে নেন দুই উইকেট। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সফরকারীরা ৮ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে। মাঝারি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ২১ রান উঠতেই ফিরে যান তামিম ও শান্ত। দুই ব্যাটার দ্রুত আউট হওয়ায় বেশ চাপে পড়ে দল। এরপর উইকেটে আসেন সাইফ। তিনি লিটনকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করেন। তবে সাইফ ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৫৭ রান করে তিনি আউট হন। লিটনও থিতু হয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন। দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে ম্যাচ কিছুটা কঠিন হয়ে যায়। এরপর হৃদয় এবং আফিফ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে জয় অনেকটাই হাতের নাগালে মনে হচ্ছিল। ৭৯ বল খেলে তারা ৫২ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়েন তারা। কিন্তু ৪১তম ওভারে গিয়ে ছন্দপতন ঘটে। টিকনারের একটি বল উড়িয়ে মারতে যান আফিফ। তিনি উইলিয়াম ও’রোর্কের হাতে ধরা পড়েন। ২৭ রান করে আফিফের বিদায়ে ম্যাচের মোড় ঘরে যায়।

হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের মিডল অর্ডার। তখনো জয়ের জন্য ৫৭ বলে ৬৪ রান প্রয়োজন ছিল। হাতে ছিল ৫টি অক্ষত উইকেট। কিন্তু মাত্র দুই ওভার পরেই মেহেদী হাসান মিরাজকে সাজঘরে ফেরান টিকনার। টম ল্যাথামের ক্যাচে পরিণত হন মিরাজ। তিনি মাত্র ৪ রান করেন। পরে রিশাদ হোসেন এবং শরিফুল কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। একপ্রান্ত আগলে রাখা হৃদয় ৪৯তম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূরণ করেন। কিন্তু দলকে জেতানো তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ৫৫ রানে নিকলসের ক্যাচ হয়ে তিনি ফিরলে সব শেষ হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন