পাকিস্তানে কি আরেকটি ‘জুডিশিয়াল মার্ডার’ হচ্ছে?

পাকিস্তানে কি আরেকটি ‘জুডিশিয়াল মার্ডার’ হচ্ছে?

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে পাকিস্তানের উচ্চতর বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনজীবী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতে, ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে আইনজীবী সালমান সাফদার যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তাতে জেল ম্যানুয়ালের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত রয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি এখন আর কেবল কারা প্রশাসনের সীমায় নেই। এটি সাংবিধানিক অধিকার ও বিচার বিভাগের দায়িত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফয়সাল সিদ্দিকী বলেন, বিচারকদের পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। ভুট্টোর মতো আরেকটি বিচারিক হত্যাকাণ্ডের দিকে আমরা এগোচ্ছি। পার্থক্য শুধু এতটুকু- এটি হবে বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নয়, বরং বিচারিক নিষ্ক্রিয়তার ফল।

অবশ্য পিটিআইয়ের আইনজীবী দলের এক সদস্য আশার সুরে বলেন, ইমরান খান শিগগিরই জামিন পেয়ে মুক্তি পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে, পিটিআইয়ের পক্ষে একাধিক মামলায় সওয়াল করা আইনজীবী সমীর খোসা প্রতিবেদনের ভাষাকে ‘কারা প্রশাসন, সরকার ও উচ্চতর বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগপত্র’ বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, কারা প্রশাসন ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিযোগগুলোকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র মাধ্যমে উপেক্ষা করেছে। আদালতও একাধিক আবেদনের পরও পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার তার শারীরিক অবস্থার গুরুত্বকে খাটো করে দেখিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) পূর্বতন জেল সুপারের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক আদালত অবমাননা আবেদন শুনানির জন্য নির্ধারণ করেনি। ফলে আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ ব্যাহত হয় এবং বিষয়টি আগে সামনে আসার সুযোগও নষ্ট হয়।

খোসার দাবি, এতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ইমরান খানকে সংবিধান ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইনগত অঙ্গীকার, বিশেষ করে আইসিসি পিআর ও নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের লঙ্ঘন করে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করা হচ্ছে। আইনজীবী আবদুল মোয়িজ জাফেরি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, তার রাজনৈতিক ম্যান্ডেট কেড়ে নেয়ার পর এখন তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশও কেড়ে নেয়া হয়েছে। এটি চুরির শামিল। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাতে রাষ্ট্র ভয় পেয়েছে। আবার হাসপাতালে নেয়ার বিষয়টিও প্রথমে অস্বীকার করেছে। এখন আর জেল ডাক্তার বা ওয়ার্ডেনের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানো যাবে না। অন্যদিকে আইনজীবী হাফিজ এহসান আহমদ খোকার ভিন্নমত পোষণ করেন।

তার মতে, কারা পরিস্থিতি নিয়ে জমা দেয়া প্রতিবেদনটি আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এবং পাকিস্তান প্রিজন রুলস/জেল ম্যানুয়ালের আলোকে। তিনি বলেন, প্রিজন্স অ্যাক্টের ৪ ও ২৪ ধারার অধীনে কারা প্রশাসনের দায়িত্ব হলো বন্দিদের নিরাপদ হেফাজত, উপযুক্ত আবাসন ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করা। জেল ম্যানুয়ালে বন্দিদের সাক্ষাৎ, পত্রালাপ, বই-পত্রিকা পাওয়ার মতো সুবিধা নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে দেয়ার বিধান রয়েছে।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি প্রিজন্স অ্যাক্টের ৩৭ ও ৩৯ ধারার উল্লেখ করে বলেন, সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বাইরের হাসপাতালে পাঠানোর বিধান রয়েছে। ফেডারেল সরকারের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমতি দেয়া জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন