মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে অন্তরায়

ডনের সম্পাদকীয়

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে অন্তরায়

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়া ঠেকাতে এবং দুই পক্ষকে ফের আলোচনায় ফেরাতে পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব বর্তমানে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত। একের পর এক দেশের রাজধানী সফর করে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এই প্রচেষ্টার দিকে নজর রাখছে। আশা করা হচ্ছে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে যুদ্ধের প্রভাব থেকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো যাবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বৃহস্পতিবার কাতারে অবস্থান করেন, এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন। কাতার থেকে যাবেন তুরস্কে। একই সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান ইরান সফরে গিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের নেতৃত্ব ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়াটাই বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের দক্ষ কূটনীতি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ এই সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি লিভিট ক্যারোলিন পাকিস্তানকে অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী বলেও উল্লেখ করেছেন।

এটি পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতির দক্ষতার প্রমাণ, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই দেশটির ওপর আস্থা রাখছে। ইরান পাকিস্তানের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন একাধিকবার।

এছাড়া সৌদি আরব, কাতারসহ সংঘাতের সম্মুখভাগে থাকা অধিকাংশ আরব দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, ইসলামাবাদ তাদের অবস্থান বিবেচনায় রাখবে। তবে পাকিস্তানের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে এই সংঘাতের সূচনাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই দ্রুত সমাধানের দায়িত্ব বেশি।

ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো গভীর। অন্যদিকে, ইসরাইল স্থায়ী কোনো সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছিল। ইরান চাইছিল, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত হোক। সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন আলোচনাকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং ইরানকেও এতে সম্পৃক্ত রাখতে চাইছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি সংলাপের পথে অন্তরায়। ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফা বৈঠক থেকে শান্তি চুক্তির ব্যাপারে বড় প্রত্যাশা রয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন