প্রায় এক দশক পর সিরিয়া থেকে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকায় অবস্থিত শেষ মার্কিন ঘাঁটি ত্যাগ করে মার্কিন সেনারা। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী দ্রুত কাসরাক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, যেখানে একটি এয়ারস্ট্রিপও ছিল। সিরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, পুরো প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সিরিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক চার্লস লিস্টার জানান, ঘাঁটিটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে, যার বড় অংশ কুর্দি যোদ্ধা এবং তারা সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস এর সঙ্গে যুক্ত। যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম জর্ডান হয়ে সিরিয়া ত্যাগ করেছে, বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পরে এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো সিরীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়াকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে বলা হয়, এর মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনের পূর্ণ দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রের হাতে ফিরে এসেছে।
এই সিদ্ধান্ত আসে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর। দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধের পর নতুন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন।
একসময় সিরিয়ায় প্রায় ১০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সিরীয় সরকার ও এসডিএফ-এর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার আওতায় চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দেয় দামেস্ক। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণাঞ্চলের আল-তানফ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা প্রত্যাহার করে।
২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল মার্কিন বাহিনী। তবে এসডিএফ-এর সঙ্গে এই জোট তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন চাপের মুখে রেখেছিল। আঙ্কারা মনে করে, এসডিএফ আসলে ওয়াইপিজি এর সম্প্রসারণ, যা পিকেকে এর সঙ্গে যুক্ত।
পিকেকে’কে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তুরস্ক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে গত দুই বছরে আঙ্কারার সঙ্গে পিকেকে’র শান্তি আলোচনা সিরিয়ায় এসডিএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা সহজ করে।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম বারাকের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়, যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে এসডিএফ রাক্কা ও দেইর ইজোরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা সিরীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করে।
