অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসন ছাড়া অস্ট্রেলিয়া "একদম ভিন্ন একটি দেশ" হয়ে যেত। অভিবাসনের সুফলগুলোর জোরালো ভাবে সমর্থন করেছেন। ফেডারেল সরকারের বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর ঘোষিত কঠোর নতুন অভিবাসন নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এসবিএস সুত্রে জানা যায়, বুধবার সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, আধুনিক অস্ট্রেলিয়া এবং বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া একই জিনিস। যখন মানুষ বলে যে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ভালোবাসে এবং আমি বাসি আর এই মহাদেশের প্রায় সবাই-ই ভালবাসে তখন তারা আধুনিক অস্ট্রেলিয়াকেই ভালোবাসে। আমরা একটি বহুসংস্কৃতির দেশ এবং অভিবাসন ছাড়া আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশ হতাম। অন্যান্য স্থান থেকে আসা ব্যক্তিদের তুলনায় উদার গণতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের অস্ট্রেলীয় মূল্যবোধ গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর মঙ্গলবারের বক্তৃতা তুলে ধরে বলেন, তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নীতি বক্তৃতায় যুক্তি দিয়েছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থা "স্বার্থপর" আগন্তুকদের দ্বারা অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। তিনি একটি কঠোর দমন অভিযানের প্রস্তাব করেছেন। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাইয়ের মতো সমালোচিত একটি প্রক্রিয়া, আরও কঠোর নির্বাসন ব্যবস্থা এবং জাতীয় মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্যের কঠোর পরীক্ষা। ক্যানবেরার মেনজিস রিসার্চ সেন্টারে তাঁর ‘অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুস মাইগ্রেশন প্ল্যান’-এর রূপরেখা তুলে ধরার সময় টেইলর বলেন, “বহুদিন ধরে আমরা অভিবাসন ও একীকরণের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এসেছি। এরপর টেইলর ‘গাজাবাসী গোষ্ঠী’-কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে দুই ধরনের অভিবাসী রয়েছে। মহৎ ও দেশপ্রেমিক এবং রাষ্ট্রবিরোধী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিরা।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তৃতার তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক আরো বলেছেন, যে এটি পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশন পার্টির সমর্থকদের খুশি করার একটি কৌশল। উদার গণতন্ত্রের এই ধারাটি অস্ট্রেলিয়াকে একটি ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চাইছে। এবং আমরা সেরকম নই। আপনি কে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ আপনি কোথা থেকে এসেছেন তা নয়।
এনএসডব্লিউ কাউন্সিল ফর সিভিল লিবার্টিজ সভাপতি টিমোথি রবার্টসবলেছেন, বিরোধীদলীয় জোটের এই পরিকল্পনার নিন্দা করে এটিকে নাগরিক স্বাধীনতার উপর একটি "ট্রাম্পীয়" আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই করা এবং অস্পষ্ট 'মূল্যবোধকে ভিসার একটি বাধ্যতামূলক শর্ত বানানো হলো কোয়ালিশনের একটি দুর্বল প্রচেষ্টা। যার মাধ্যমে তারা তাদের অপছন্দের অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জভাবে বৈষম্য করতে চায়। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ভয়াবহ পরিকল্পনাটি বর্ণবাদে নিমজ্জিত এবং এটি আমাদের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের প্রতি আহ্বান। যার জন্য আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। এটি এমন কোনো পরিকল্পনা নয় যা আমাদের অনুকরণ করা উচিত বলে মনে করেন কাউন্সিল সভাপতি।
ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দূত আফতাব মালিক টেইলরের প্রস্তাবের সমালোচনায় যোগ দিয়ে এটিকে "ইসলামোফোবিক ধারণার উপর নির্ভরশীল" বলে বর্ণনা করেছেন। যা ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত ও অমানবিক করে তোলে। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন অংশে ক্রমবর্ধমান কঠোরপন্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বক্তব্যের উত্থান আমাদের জাতির প্রকৃত সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার পরিবর্তে বিভাজনকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে এক বিবৃতিতে মালিক বলেছেন।
