১৪ বছর পর রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

১৪ বছর পর রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

ফন্ট সাইজ:

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আরেকটি অবিশ্বাস্য রাতের সাক্ষী হয়ে থাকলো ফুটবল বিশ্ব। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের প্রথমার্ধেই গোল হলো পাঁচ-পাঁচটি! তবে শেষ পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে পারলো না রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় লেগেও মাদ্রিদিস্তাদের হারালো বায়ার্ন। মিউনিখে ৪-৩ গোলের জয় দেখলো স্বাগতিকরা। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান ৬-৪।
চ্যাম্পিয়নস লীগে ২০১১-১২ মৌসুমের পর রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রথমবার নকআউট ম্যাচ জিতলো বায়ার্ন মিউনিখ। এর আগে দেখা হওয়া চার মৌসুমের প্রতিবারই অল হোয়াইটদের কাছে হেরে বিদায় নেয় বাভারিয়ানরা। ম্যাচ শেষে বায়ার্ন মিউনিখের বেলজিয়ান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, ‘এই ম্যাচে আবেগের আধিক্য ছিল প্রচুর। ওরা (রিয়াল) অবিশ্বাস্য গতির এবং বিপজ্জনক। ওদের বিপক্ষে আপনি কখনওই পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না। আমার মনে হয়, ছেলেরা আজ মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। আমরা যে দুইবার ম্যাচে ফিরে এসেছি, সেজন্য আমি গর্বিত।’
ম্যাচের শুরুতেই দেখা যায় নাটকীয় দৃশ্য। স্রেফ ৩৫ সেকেন্ডের মাথায় গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের ভুলে দূরপাল্লার শটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন আর্দা গুলের। এটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ইতিহাসে রিয়ালের দ্রুততম গোল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই বায়ার্নকে সমতায় ফেরান আলেকসান্দার পাভলোভিচ। ২৯তম মিনিটে গুলেরের জাদুকরী ফ্রি-কিকে আবারও ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। ৩৮তম মিনিটে হ্যারি কেইনের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল। ম্যাচের মোড় ঘোরে ৮৬তম মিনিটে। কামাভিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সফরকারীরা। ৮৯তম মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে সমতায় (৩-৩) ফিরে দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। যোগ করা সময়ে মাইকেল ওলিসের গোলে উৎসবে মাতে জার্মান জায়ান্টরা।
কামাভিঙ্গাকে দেয়া লাল কার্ডটি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘পুরো ড্রেসিংরুম এখন হতাশায় ভুগছে। আমরা বায়ার্নকে অভিনন্দন জানাই। তবে তারা আমাদের অন্যভাবে হারালে ভালো হতো। ওই লাল কার্ডটি ছিল অবিশ্বাস্য। কেউ এটি বুঝতে পারছে না। রেফারির একটি ভুলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে গেছে।’
সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিপক্ষে খেলবে ।
প্রথম লেগের গোলে ‘রক্ষা’ আর্সেনালের
ঘরের মাঠে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না দেখাতে পারলেও চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালে পা রেখেছে আর্সেনাল। স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে গোলশূন্য ড্র করেছে গানাররা। প্রথম লেগের ১-০ গোলের জয়ই শেষ পর্যন্ত সেমিতে পৌঁছে দিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টদের।
গোলশূন্য ড্র করলেও শিষ্যদের নিবেদন সম্পর্কে অবগত মিকেল আর্তেতা। ম্যাচশেষে আর্সেনাল কোচ বলেন, ‘(খেলোয়াড়দের প্রতি) আমার বার্তা ছিল কৃতজ্ঞতা। তারা কতটা প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং তাদের নিবেদন কতটা ছিল, আমি জানি।’
টানা দ্বিতীয় মৌসুমে সেমিতে ওঠা আর্সেনালের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এরপর ইউরোপিয়ান শীর্ষ লীগে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে গানাররা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন