অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিলং-এর ভিভা এনার্জি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি উৎপাদনকারী অবশিষ্ট দুটি তেল শোধনাগারের একটিতে আগুন লেগেছে এবং বিস্ফোরণ ও অগ্নিশিখা'র খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি আরও বেশ কয়েক ঘণ্টা জ্বলবে। গতকাল বুধবার রাত ১১টার পরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে এবিসি সূত্রে জানা গেছে।
জিলং-এর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জ্বালানি উৎপাদন এবং সরবরাহ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে। এটি ভিক্টোরিয়ার ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করে। এ দুটি কেন্দ্রের মধ্যে অন্যটি ব্রিসবেনে অবস্থিত — যা দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি পরিশোধন করতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই দুটি কেন্দ্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছিলো। যা ইরান যুদ্ধ একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তেল চালানের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ফেডারেল সরকারের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেছেন, কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ভিভা এনার্জির করিও প্ল্যান্টে রাত ১১টার কিছু পরে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জ্বালানি সরবরাহ কীভাবে প্রভাবিত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি কোনো ইতিবাচক ঘটনা নয়। এর একটি প্রভাব পড়বে। আমি নিশ্চিত যে, পেট্রোল উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এটি কিছু সময়ের জন্য প্রভাবিত হতে পারে।
শোধনাগারটি এখনও ডিজেল এবং জেট ফুয়েল উৎপাদন করছে।
ভিভা এনার্জির সিইও স্কট ওয়াইট বলেছেন, জ্বালানি উৎপাদনের উপর এর প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার আগে সাইটটিকে নিরাপদ করার দিকেই কোম্পানির মনোযোগ রয়েছে। এমন কিছু পেট্রোল উৎপাদনকারী ইউনিটও রয়েছে যা এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়নি। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই পেট্রোল সেইসব পণ্যগুলোর মধ্যে একটি যা সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হতে পারে। আমরা তখনই আবার উৎপাদন বাড়ানো শুরু করব যখন আমরা নিশ্চিত হব যে আমরা তা নিরাপদে করতে পারব। স্পষ্টতই এই দুটি ইউনিট চালু না রেখেই আমাদের তা করতে হবে।
ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়ার ডেপুটি কমিশনার মিশেল কাউলিং বলেছেন, "যন্ত্রপাতির ত্রুটির" কারণে আগুন লেগেছে। যা প্ল্যান্টের ট্রান্সফার নামে পরিচিত একটি অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। টি ডিজেল বা গ্যাসোলিন এবং পেট্রোলিয়াম উৎপাদনে কোনো প্রভাব ফেলছে না। তাই আমাদের ইতোমধ্যেই বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে এটি নতুন কোনো মাত্রা যোগ করবে না।
রিফাইনারি ম্যানেজার বিল প্যাটারসন বলেছেন, আগুন লাগার কারণে উৎপাদন প্রভাবিত হলে রিফাইনারির অন্যান্য ইউনিটগুলো সেই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হতে পারে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এই ইউনিটগুলো বেশ ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমরা এই মুহূর্তে বেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
কান্ট্রি ফায়ার অথরিটি (সিএফএ) জিলং-এর একটি বিশাল অংশের জন্য ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ (সতর্কতা ও পদক্ষেপ) জারি করে এবং “কোরিওর রিফাইনারি রোডের দক্ষিণে অবস্থিত যে কোনো ব্যক্তিকে” অবিলম্বে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে সতর্ক করে। আজ সকালে এই পরামর্শটি শিথিল করা হয় এবং সিএফএ জানায় যে “বিপদ কমে গেছে”। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনও আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এফআরভি-এর সহকারী প্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা মাইকেল ম্যাকগিনেস জানিয়েছেন, প্ল্যান্টের "মোগাস" অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। যেখানে মোটর গ্যাসোলিন উৎপাদন করা হতো। কোনো এক ধরনের ছিদ্র দিয়ে হাইড্রোকার্বন ও দাহ্য তরল পদার্থ বেরিয়েছে, যেগুলোতে খুব সহজেই আগুন ধরে যায়। এটি প্রায় ৩০ মিটার বাই ৩০ মিটার এলাকা জুড়ে জ্বলছিল। বেশ কয়েকটি ছোট বিস্ফোরণও হয়েছে। আগুনটি বেশ ভয়াবহ ছিল এবং তা নেভানোর জন্য ৫০ জন দমকলকর্মীকে ডাকা হয়েছিল। আগুনটি প্রথমে ছোট ছিল এরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এটি একটি বড় ও তীব্র আগুনে পরিণত হয়। তবে এটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এটি সম্ভবত কোনো পাইপলাইন বা ভালভের ত্রুটি হতে পারে। আগুনটি অন্তত দুপুর পর্যন্ত জ্বলতে থাকবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে এর তীব্রতা কমে আসার লক্ষণ দেখা গেছে। এখানে কর্মরত সকল কর্মীর খোঁজ পাওয়া গেছে। কিন্তু আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ ঘটনাটি তদন্ত করা প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড, জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
আলমগীর হোসেন রুহেল, (অষ্ট্রেলিয়া) সিডনি থেকে
অনলাইন
১ মাস আগে
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ০৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
