গুজব ছড়িয়ে জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট তৈরির পাঁয়তারা

ফন্ট সাইজ:

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশাপাশের উপজেলাগুলোতে জ্বালানি তেলকে ঘিরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গুজব ও আতঙ্কের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

সামপ্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল বিক্রিকে কেন্দ্র করে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি একই মোটরসাইকেল বা যানবাহন ব্যবহার করে বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। একবার তেল নেয়ার পর পুনরায় লাইনের পেছনে গিয়ে আবার তেল নেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া একই দিনে আশপাশের একাধিক পেট্রোল পাম্প থেকেও তেল সংগ্রহ করার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। পরে এ সব তেল গ্রামের হাট-বাজারে খোলা অবস্থায় অধিক দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে খোলা বাজারের কিছু তেল বিক্রেতা সম্ভাব্য সংকটের গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। তারা দাবি করছেন, শিগগিরই জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে, যার ফলে যানবাহন চলাচল ও কলকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এ ধরনের গুজবে প্রভাবিত হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে বাড়িতে মজুত করতে শুরু করেছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফুলবাড়ীর ইসলাম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৭০০ থেকে ৯০০ লিটার তেল বিক্রি হয়, সেখানে বর্তমানে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩০০০ লিটার তেল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা উপজেলার অন্যান্য পেট্রোল পাম্পেও দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তেল মজুতকারী ও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান। গুজব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন