‘এখন আর কিছুতেই অবাক হই না’

‘এখন আর কিছুতেই অবাক হই না’

ফন্ট সাইজ:

বোর্ডের শীর্ষ পদে একের পর এক রদবদলেও নির্বিকার জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন সভাপতি দেখলেও তার কোনো হেলদোল নেই। গতকাল মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ক্যারিবীয় কোচ জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির মাঝে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এমন বড় পরিবর্তন ঘটলেও দলের ভেতর এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সাবেক প্রধান ফারুক আহমেদ, এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং বর্তমানে তামিম ইকবালের মতো তিনজনকে শীর্ষ পদে দেখেছেন তিনি। খেলোয়াড়দের মনোজগতে এই আকস্মিক পালাবদলের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স স্পষ্ট জানান, ‘প্রথমত, আমরা যা করি, যেভাবে অনুশীলন করি বা আমাদের যে ক্যাম্প হয়েছে, সেখানে এসবের কোনো প্রভাব পড়েনি।’ তিনি আরও দাবি করেন, ক্রিকেটাররা সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা করা দরকার, এখনো সব করছে। বরং সবাই আগের মতোই সমানভাবে কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনকে তিনি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। মাঠের বাইরের আকস্মিক প্রশাসনিক রদবদলের সঙ্গে দলের চলমান অনুশীলনের বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজের ঠিক আগে সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহকে
আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরদিন ঢাকায় এসে দলের দায়িত্ব বুঝে নেন সিমন্স। সেই কঠিন সময়ে বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন ফারুক। তার দ্রুত বিদায়ের পর আমিনুল সভাপতির চেয়ারে বসলেও এক বছরও টিকতে পারেননি। সর্বশেষ গত ৭ই এপ্রিল দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন তামিম। ক্যারিবিয়ান এই কিংবদন্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না। সেটা বাংলাদেশের ব্যাপার বা এমন কিছুই নয়, জীবনের কথা বলছি।’ প্রশাসনে তিনবার রদবদল হলেও সেটি তার কোচিং দর্শন বা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন। এত কিছুর ভেতর দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে যে, সবকিছুই এখন তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। সিমন্সের মতে, সবকিছুই দিনভিত্তিতে বদলায়। তাই নতুন নেতৃত্ব তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কোনো বাধার সৃষ্টি করেনি। দল প্রস্তুত করায় তার যে ভূমিকা রয়েছে, সেখানে পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, ‘কোচিং গ্রুপ হিসেবে আমাদের কাজে এটার কোনো প্রভাব পড়েনি।’ এ ছাড়াও সিমন্স দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বোর্ড সভাপতিরা তো আর দলের প্রধান কোচ হিসেবে মাঠে নামেন না। তাই তিনি এখন কেবল নিজের নির্দিষ্ট কাজেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন। সবশেষে মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের প্রশ্নে যাওয়া যাক’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন