সাউথ এশিয়ান দেশগুলোর ফুটবলাররা অন্য দেশের লীগে ‘স্থানীয়’ হিসেবে খেলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। চলতি মৌসুম থেকে স্থানীয় হিসেবে বাংলাদেশের লীগে খেলছেন নেপাল, ভুটান পাকিস্তানের ফুটবলাররা। সাফের এই নতুন নিয়মের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লীগে দলটিতে সার্কের সবচেয়ে বেশি ফুটবলার খেলছেন। এর ফল খুব ভালোভাবেই পাচ্ছে ব্রাদার্স। গ্রুপসেরা হয়ে এরিমধ্যে ফেডারেশন কাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে তারা। ব্রাদার্সের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন দেশি ফুটবলাররা। সাউথ এশিয়ান কোটা বাতিলের দাবিতে গতকাল তারা একাট্টা হয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বাফুফের সভাপতির কাছে।
কেন এই আন্দোলন, এর ব্যাখ্যায় আবাহনী ও জাতীয় দলের ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের দেশের তিন জন, বয়সভিত্তিক একজন ফুটবলার বাধ্যতামূলক খেলাতে হবে। একটি দলে তিনজন বিদেশি কোটা আর পাঁচজনই যদি সার্ক খেলায় তাহলে সেই দলে দুইজনের বেশি (স্থানীয়) খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পায় না। এজন্য আমরা সার্ক ফুটবলার বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধির জন্য একে অন্যের লীগে স্থানীয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও অন্য দেশগুলোও এটা চালু করেছে। এবার বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানের ফুটবলাররা স্থানীয় হিসেবে খেলছে। এ নিয়ে জাতীয় দলে খেলা মোহামেডানের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশের মধ্যে শুধু তারিক কাজী ভুটান লীগে খেলছে। অন্য কোনো দেশে এখনো আমাদের দেশের ফুটবলাররা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। অন্য দেশের ফুটবলাররা ঠিকই আমাদের দেশে খেলছে। তাই আমরা এ ব্যাপারে ফেডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’ এবার বাংলাদেশ ফুটবল লীগে দশটি ক্লাব অংশগ্রহণ করছে। দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানে নেই কোনো সার্কের খেলোয়াড়। ফেডারেশনে স্মারকলিপি দিতে আসা ফুটবলারদের মধ্যে অবশ্য এই দুই দলের অনেকে ছিলেন। স্মারকলিপি দিতে আসা ফুটবলাররা ব্রাদার্স ইউনিয়নে সর্বাধিক সার্কের খেলোয়াড় খেলার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন ঘুরেফিরে। ঘরোয়া ফুটবলে এক সময়ের তৃতীয় শক্তি ব্রাদার্স ইউনিয়ন আবাহনীকে টপকে গ্রুপসেরা। তারা পাকিস্তানি ফুটবলারের একমাত্র গোলে মঙ্গলবার জিতেছে। তাতে আবাহনীর শেষ চার বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ব্রাদার্সের এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম কারণ সার্কের খেলোয়াড় খেলানো। ব্রাদার্স ইউনিয়নের মঙ্গলবারের ম্যাচের পর গতকাল ফুটবলারদের দাবি দাওয়া এবং আবাহনী-মোহামেডানের ফুটবলারদের আধিক্যকে ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকেই ভিন্ন উদ্দেশ্য বা দূরভিসন্ধিমূলক হিসেবে দেখছেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বরাবর দেয়া চিঠিতে ফুটবলারদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- দেশীয় ফুটবলারদের জন্য অধিক খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা, লীগে দল সংখ্যা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেডারেশনের নেয়া, বিদেশি খেলোয়াড় কোটা কমানো। ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হোসেন এক পাশে স্বাক্ষর করেছেন। অন্য পাশে বর্তমানে লীগে খেলা ফুটবলারদের পক্ষে আহসান হাবিব, আলমগীর করিব রানা, ইব্রাহিম ও মেহেদী স্বাক্ষর করেছেন।
হঠাৎ সাউথ এশিয়ান কোটা বাতিলের দাবিতে একাট্টা দেশি ফুটবলাররা
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
