মাদারীপুরে সক্রিয় একটি মানব পাচার চক্রের সন্ধান মিলেছে, যারা ইতালিতে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে লিবিয়ায় বন্দিশালায় আটকে মুক্তিপণ আদায় করছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিবচরে পুত্রবধূ ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত সোমবার রাতে শিবচর উপজেলার পশ্চিম কাকৈর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তানিয়া বেগম ও তার শ্বশুর সালাম মোল্লাকে। পরে তাদের গত মঙ্গলবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তানিয়া মানব পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত সোবাহান মোল্লার স্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, পরিবারের একাধিক সদস্য মিলে গড়ে তুলেছিল এই চক্রের স্থানীয় নেটওয়ার্ক। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি প্রথমে ইতালিতে বৈধভাবে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। এরপর ভুক্তভোগীদের বিমানপথে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে অবৈধভাবে লিবিয়ায় নিয়ে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। সেখানে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করা হয়। টাকা না পেলে শারীরিক নির্যাতন, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনই একটি ঘটনার শিকার হয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের রুহুল মাতব্বরের ছেলে লিমন মাতুব্বর (২২)। ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২০২৫ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রওয়ানা করানো হয়। প্রথমে সৌদি আরব, পরে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে আরও ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর গত ৭ই এপ্রিল লিমনের খালা মুন্নি আক্তার বাদী হয়ে সোবাহান মোল্লা, তার বাবা সালাম মোল্লা, স্ত্রী তানিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মাদারীপুর সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মুন্নি আক্তার বলেন, আমার ভাগ্নে লিমনকে এই দালাল চক্র লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন করে টাকা নিয়েছে। এখন আমার ভাগ্নে নিখোঁজ। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে জানি না। এদিকে লিমনের নিখোঁজের ঘটনায় মামলা হলে র্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তানিয়া ও সালামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন-দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মানব পাচার নিয়ে কাজ করেন এমন একটি এনজিও রাইট যশোরের মাদারীপুর জেলার সমন্বয়ক বাইজিদ মিয়া বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ, দালালদের মিথ্যা আশ্বাস এবং গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব- এই তিনটি কারণেই মানব পাচার চক্রগুলো সহজেই মানুষকে ফাঁদে ফেলতে পারছে।
লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতন
সক্রিয় মানব পাচার চক্রের দুই সদস্য পুত্রবধূ-শ্বশুর গ্রেপ্তার
মাদারীপুর প্রতিনিধি
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
